Alexa
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২২

সেকশন

epaper
 

২০ মিনিটের ঝড় ও শিলাবৃষ্টি

হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২২, ১১:০৯

নওগাঁর মান্দায় শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গতকাল সকালে উপজেলার পশ্চিম নুরুল্লাবাদ মাঠে আলুখেতের সামনে মাথায় হাত দিয়ে এক কৃষক । আজকের পত্রিকা নওগাঁর মান্দায় ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে মৌসুমি ফলসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি উপকারী হলেও অতিরিক্ত শিলাবৃষ্টিতে কৃষকের ক্ষতি বলছেন আমবিজ্ঞানী ও কৃষি বিভাগ।

নওগাঁর মান্দায় গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ভারশোঁ, নুরুল্লাবাদ, কুসুম্বা, কাঁশোপাড়া ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ওপর দিয়ে শিলাবৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হালকা বৃষ্টিসহ শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলা শিলাবৃষ্টিতে আলু, সরিষা, পেঁয়াজ, বেগুন, মৌসুমি ফল বরইসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতি হয়েছে সুপারি ও কলাবাগান। শিলাবৃষ্টির তোড়ে বহু ঘরের চালা ফুটো হয়ে গেছে।

পশ্চিম নুরুল্লাবাদ গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, চলতি মৌসুমে তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আলুর চাষ করেন। বুধবার রাতের শিলাবৃষ্টিতে তাঁর আলুর গাছ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। জমিতে আটকে গেছে পানি। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

উপজেলার নাড়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক হাফেজ উদ্দিন ও জামিনুর রহমান বলেন, তাঁরা দুজনেই তিন বিঘা করে জমিতে সরিষার আবাদ করেন। শিলাবৃষ্টিতে সরিষার গাছগুলো ভেঙে মাটিতে পড়ে গেছে।

ইটভাটা ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান বলেন, হঠাৎ শিলাবৃষ্টির সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে তাঁর বিপুল পরিমাণ কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তাঁর ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১০ লক্ষাধিক টাকা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিন বলেন, চলতি রবি মৌসুমের ফসলের খেতগুলো শিলাবৃষ্টিতে আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনসহ তালিকা তৈরির কাজ চলছে। রিপোর্ট তৈরি হলে ক্ষতির পরিমাণ সঠিকভাবে বলা যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু বাক্কার সিদ্দিক বলেন, সংবাদটি জেনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলা, শিবগঞ্জ ও নাচোলেও হঠাৎ গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত টানা বৃষ্টি হলেও এরপরে সারা রাত হালকা বৃষ্টি হতে থাকে।

শিবগঞ্জের ব্যবসায়ী রনি আলী বলেন, আগাম জাতের আমের কিছু মুকুল এসেছিল। তার সবকিছুই শেষ হয়েছে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব (আম) গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সালেহ মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, এখনো আমের মুকুল ফুটতে শুরু করেনি। ফলে শিলাবৃষ্টি হলেও তেমন ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টির পর আমগাছে ব্যাপক ছত্রাকের আক্রমণ হয়ে থাকে। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তবে শিলাবৃষ্টিতে আগাম আমের মুকুল নষ্ট হয়ে যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ ছাড়া বৃষ্টির পরদিন যদি রোদ না উঠে, তাহলে সেই ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহযোগিতা দেওয়া হবে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    সন্ত্রাস-নাশকতা বড় গুনাহের কাজ

    প্রশাসনের দিকে অভিযোগের তির নৌকার ১০ প্রার্থীর

    আইভীতেই আস্থা অটুট

    সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে ফসলের ক্ষতি

    চীনের নজর মধ্যপ্রাচ্যে বড় চ্যালেঞ্জ যুক্তরাষ্ট্র

    নীলফামারীতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, যুবক আটক

    আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিল শাবিপ্রবি প্রশাসন

    সৌদি আরবে পাওয়া গেল ৪৫০০ বছর আগের মহাসড়ক

    ‘আপনার সার্ভিসের আর প্রয়োজন নেই’, শিক্ষকদের অব্যাহতির চিঠি

    বিএসআরএম কারখানায় ৩ শ্রমিক বিদ্যুতায়িত