Alexa
শনিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২২

সেকশন

epaper
 

ঠান্ডাজনিত রোগ

হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ শয্যাসংকটে ব্যাহত সেবা

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২২, ০৮:০৮

ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা, হাসপাতালে বাড়ছে ভিড়। গতকাল ঢাকা শিশু হাসপাতালে। ছবি: আজকের পত্রিকা জন্মের পর থেকেই ঠান্ডাজ্বরের পাশাপাশি শ্বাসকষ্টে ভুগছে এক বছর বয়সী সালমা। শ্বাসকষ্ট কখনো কমে, কখনো বাড়ে। এমতাবস্থায় সন্তানকে নিয়ে তিন দিন আগে গাজীপুর থেকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ছুটে এসেছেন মা আমেনা খাতুন। কিন্তু জায়গা হয়নি শিশু ওয়ার্ডে। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী হওয়ায় হাসপাতালটির বারান্দায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সন্তানকে নিয়ে রয়েছেন তিনি।

শুধু আমেনা নন, শয্যাসংকটে তাঁর মতো অনেকেরই জায়গা হয়েছে বারান্দায়। আবার অনেকেই এক শয্যাতেই ভাগাভাগি করে আছেন।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের নার্স ইনচার্জ শামীমা আক্তার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের করার কিছুই নেই। এখানে শিশুদের জন্য ৭৫টি শয্যা রয়েছে, সেখানে প্রতিদিনই ৯০ থেকে ১০০ রোগী ভর্তি থাকে। সম্প্রতি রোগীদের চাপ বাড়তে থাকায় এই অবস্থা। বিশেষ করে শীতের কারণে ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের রোগী আসছে বেশি। তাই বাকিদের একই বেডে (শয্যা) রাখার পাশাপাশি বারান্দায় রাখতে হচ্ছে।’

অবস্থা আরও ভয়াবহ দেশের সবচেয়ে বড় চিকিৎসাকেন্দ্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। সেখানে চারটি ওয়ার্ড মিলে শয্যা মাত্র ৭০টি। কিন্তু রোগী দ্বিগুণের বেশি।

ঢামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিকিৎসক রাজেশ মজুমদার আজকের পত্রিকাকে বলেন, এ হাসপাতালে সব সময়ই শয্যাসংকট থাকে। আর এখন তো মহামারি এবং ঠান্ডার প্রকোপ। ফলে শিশুদের অসুস্থতার হার বেড়েছে অনেক বেশি। কিন্তু সে তুলনায় ব্যবস্থা নেই। এটি থেকে উত্তরণে সরকারকেই পদক্ষেপ নিতে হবে।

এদিকে শিশুদের চিকিৎসায় দেশের একমাত্র বিশেষায়িত ঢাকা শিশু হাসপাতালে নির্ধারিত শয্যার বেশি রোগী ভর্তি করা হয় না। এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ রোগী দেখা হয়। যেখানে নাক, কান, গলা, মেডিসিনসহ ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি।

গত দুই দিন হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের দীর্ঘ সারি। জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে অ্যাজমা সেন্টার সবখানেই সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত রোগীদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। তবে ভর্তি হতে পারছে খুব কমসংখ্যকই। যাদের অবস্থা কেবল সংকটাপন্ন তাদের ভর্তি করিয়ে বাকিদের অন্য হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আট মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে কিশোরগঞ্জ থেকে এই হাসপাতালে এসেছেন সায়মা আক্তার। সেবা পেতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। কথা হলে আজকের পত্রিকাকে সায়মা বলেন, ‘সপ্তাহখানেক আগে প্রচণ্ড সর্দি, জ্বর এবং কাশি শুরু হয়। স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে খাইয়েছি, নিজেকেও ঠান্ডা থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করছি। কিন্তু কাজ হচ্ছে না। অবস্থা জটিল হওয়ায় এখানে এনেছি।’

হাসপাতালটির ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় আরেক মর্মান্তিক দৃশ্য। অনেকে সুস্থ হয়ে ফিরলেও কাঙ্ক্ষিত সময়ে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের (আইসিইউ) ব্যবস্থা করতে না পারা ও সঠিক সময়ে হাসপাতালে আনতে না পারায় অকালেই প্রাণ হারাচ্ছেন সদ্য জন্ম নেওয়া অনেক শিশু। এসব শিশুর বেশির ভাগই নিউমোনিয়ার রোগী বলে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, গত দুই মাসে ৩৮৬ জন নিউমোনিয়ার রোগী ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে নভেম্বরে ১৯২ জন ও ডিসেম্বরে ১৯৪ জন। তবে এই সময়ে কতজনের মৃত্যু হয়েছে সেটি জানা যায়নি।

শিশুদের চিকিৎসার এমন সংকটাপন্ন চিত্র কেবল এই রাজধানীতে তা কিন্তু নয়। ঠান্ডার প্রকোপ বাড়ায় সারা দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর শিশু ওয়ার্ড ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী নিয়ে চলছে।

মহামারির ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণে উত্তরের বিভাগীয় নগরীর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি রোগী নিয়ে চলছে। চাপ বাড়ছে হাসপাতালটির বহির্বিভাগেও।

হাসপাতালটির শিশু বিভাগের প্রধান ডা. বেলাল উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, আগের মতো বাড়েনি তারপরও রোগীদের জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না। প্রতিটি বেডেই দুই-তিনজন করে চিকিৎসাধীন। তবে কতটি শয্যা রয়েছে, সেটি বলতে পারেননি তিনি।

কুমিল্লায় শীতের সঙ্গে বাড়ছে নিউমোনিয়া, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ শ্বাসতন্ত্রের রোগী। প্রায় প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শিশু রোগীতে ঠাসা।

চিকিৎসকেরা বলছেন, শীত মৌসুমে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ে। তবে গতবারের তুলনায় এবার বেশি। করোনা মহামারি থাকলেও সবকিছু স্বাভাবিক। অভিভাবকদের সঙ্গে শিশুরা বাইরে বের হচ্ছে। আর এতে করে নানা জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছে। এসব রোগীর মধ্যে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের শিশুর সংখ্যাই বেশি। এর মধ্যে এক বছরের নিচে এমন যে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে, তাদের ঝুঁকি বেশি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বাংলাদেশে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ৯৫ শতাংশ হাসপাতালে নিউমোনিয়া চিকিৎসার সুব্যবস্থাপনা নেই। যে কারণে ফুসফুস সংক্রমণ দেখা দেওয়া পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ৪২ শতাংশকে চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেওয়া হয়। অন্য কোনো চিকিৎসাসেবা না থাকায় ৩৪ শতাংশ শিশুকে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দেওয়া হয়।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. কামরুজ্জামান (কামরুল) আজকের পত্রিকাকে বলেন, শীতে বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ শিশুদের অন্যান্য রোগ বেড়ে যায়। বর্তমানে যা কয়েক গুণে বেড়েছে। অথচ কয়েক মাস আগে যখন করোনার উচ্চ সংক্রমণ ছিল, তখন এতটা ছিল না।

তিনি বলেন, ‘রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় রোগীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। কারণ সেই তুলনায় চিকিৎসক নেই। আমাদের এখানে ৮০০ শয্যা আছে কিন্তু এর বেশি ভর্তি করানো হয় না। বাকিদের অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

এই চিকিৎসক বলেন, শীতের সময়ে জ্বর, সর্দি-কাশি ও নাক দিয়ে পানি পড়া শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার প্রথম লক্ষণ। এরপর সেটি যদি বুকে বসে যায়, খাওয়া কমে দেয়, প্রতিবার খাওয়ার পর বমি করে তাহলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। বাচ্চার নাক ঘন ঘন পরিষ্কার করা, ছয় মাসের নিচে হলে বেশি বেশি বুকের দুধ খাওয়ানো এবং এর বড় হলে ওজন অনুসারে প্যারাসিটামল খাওয়ালে এসব থেকে তাদের সুরক্ষা করা সম্ভব বলেও জানান এই চিকিৎসক।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    এগারো বছরেও শেষ হয়নি খুলনা-মোংলা রেললাইনের কাজ

    তিন বছরেও নিজস্ব ভবন হয়নি শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের

    রাকিবুলদের বাঁচা মরার লড়াই

    নতুন ধারাবাহিক ‘ভাড়াবাড়ি বাড়াবাড়ি’

    অবশেষে কিংবদন্তির মেলায় যাচ্ছেন রফিক ও সুমন

    মমেক করোনা ইউনিটে তিনজনের মৃত্যু

    বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানালেন ডি ক্যাপ্রিও

    মা হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা

    ময়মনসিংহে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ আসামি গ্রেপ্তার

    সপরিবারে উচ্ছেদ করতে বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ