Alexa
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২২

সেকশন

epaper
 

আলুর দাম ও কৃষকের দুঃখ

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২২, ০৮:৩৪

প্রতীকী ছবি এবার হঠাৎ করেই আলুর বাজারদর কমে গেছে। এক একর জমিতে আলু চাষ করে একজন কৃষকের খরচ হয়েছে প্রায় ৪ লাখ টাকা। উৎপাদিত আলু এখন বিক্রি করে তিনি পাচ্ছেন মাত্র লাখ দুয়েক টাকা। উত্তরাঞ্চলের অনেক জায়গায় আলু বর্তমানে ৬-৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

গত বছর আগাম আলুর বাজারদর ভালো থাকায় এ বছর দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে আবাদ করেছেন অনেক চাষি। বেশি লাভের আশায় অনেকেই অন্যের জমি চড়া টাকায় বর্গা নিয়ে আলুর আবাদ করেছেন। ভেবেছিলেন, ভালো দাম পেয়ে লাভের মুখ দেখবেন; কিন্তু আলুর বর্তমান বাজারদরে লাভ তো দূরে থাক, খরচও তুলতে পারছেন না তাঁরা। ফলে লোকসানের শঙ্কায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কৃষকের।

আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, প্রতিবছর নতুন আলু ৮০-১০০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও এ বছর শুরুতেই দাম ছিল অর্ধেক। প্রতি কেজি নতুন আলু ৪০-৫৫ টাকায় বিক্রি হয়। তবে বর্তমানে আলুর বাজারদর কমে রকমভেদে দাঁড়িয়েছে ৬-৯ টাকায়।

ঢাকার বাজারে নতুন আলু ১৯-২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে; কিন্তু ঢাকার বাইরে দাম সে তুলনায় অনেক কম। আলুর দাম কম থাকলে যাঁরা ক্রেতা-ভোক্তা, তাঁদের কিছুটা সুবিধা হয় ঠিকই; কিন্তু ভালো দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে উৎপাদকদের, তাঁরা দুর্ভাবনায় পড়েছেন। তাঁরা বলছেন, সরকার আলুচাষিদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে তাঁরা আলু চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। সে ক্ষেত্রে পরের বছর আবার আলুর সংকট দেখা দিতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৪০ লাখ টন আলুর চাহিদা আছে। কিন্তু গত দুই বছরে আলুর উৎপাদন বেড়ে প্রায় ৮৫ লাখ টনে পৌঁছেছে। দেশে আলু সংরক্ষণের জন্য ৩২৫টি হিমাগার বা কোল্ডস্টোরেজ আছে, যেখানে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টন আলু রাখা যায়। উদ্বৃত্ত আলু কৃষকের ঘরে থেকে যায়। আলু পচনশীল পণ্য। তাই ঠিকমতো রাখতে না পারলে বেশ কিছু আলু প্রতিবছরই নষ্ট হয়ে যায়।

আলু যেহেতু একটি সম্ভাবনাময় ফসল, সেহেতু আলু উৎপাদনে কৃষক যাতে নিরুৎসাহিত না হয়, সেদিকে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নজর দেওয়া দরকার। আলুচাষিদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট দামে সরকারিভাবে মাঠ থেকে সরাসরি চাষির কাছ থেকে আলু কেনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তা ছাড়া, বিদেশে আলু রপ্তানির আরও বেশি উদ্যোগ নিতে হবে। এখন যেসব দেশে আলু রপ্তানি করা হয়, তার বাইরে নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধানের জন্য আমাদের দূতাবাসগুলোকে তৎপর ও উদ্যোগী হতে হবে। এর বাইরে আলু সংরক্ষণের জন্য আরও বেশি কোল্ডস্টোরেজ তৈরি করতে হবে। কৃষকের মুখের হাসি কেড়ে নেওয়া যাবে না কোনোভাবেই।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    সন্ত্রাস-নাশকতা বড় গুনাহের কাজ

    প্রশাসনের দিকে অভিযোগের তির নৌকার ১০ প্রার্থীর

    আইভীতেই আস্থা অটুট

    সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে ফসলের ক্ষতি

    হুইলচেয়ারে এসে দিলেন ভোট

    শক্তিবর্ধক পানীয়ের দেদার বিক্রি

    চীনের নজর মধ্যপ্রাচ্যে বড় চ্যালেঞ্জ যুক্তরাষ্ট্র

    নীলফামারীতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, যুবক আটক

    আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিল শাবিপ্রবি প্রশাসন

    সৌদি আরবে পাওয়া গেল ৪৫০০ বছর আগের মহাসড়ক

    ‘আপনার সার্ভিসের আর প্রয়োজন নেই’, শিক্ষকদের অব্যাহতির চিঠি

    বিএসআরএম কারখানায় ৩ শ্রমিক বিদ্যুতায়িত