Alexa
শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২

সেকশন

epaper
 

নওগাঁ ও নাটোরে নির্বাচনী সহিংসতা

মামলায় আসামি ১৩৩, গ্রেপ্তার ৪

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৪:৫৯

নওগাঁয় ব্যালট ও ভোটের মালামাল নিয়ে ফেরার সময় গত বুধবার রাতে পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় লোকজন। সেই গাড়ি দেখতে ভিড় করেন স্থানীয়রা। গতকাল সকালে পত্নীতলার ঘোষনগর এলাকা থেকে তোলা ছবি। আজকের পত্রিকা নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার ঘোষনগর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার হওয়া এই মামলায় ১৩৩ জনের নাম উল্লেখসহ ২ থেকে আড়াই হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলায় গতকাল গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন।

পত্নীতলা থানার পরিদর্শক হাবিবুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার প্রধান আসামি ঘোষনগর ইউপির স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ফারজানা পারভিন ও তাঁর স্বামী মতিউর রহমানসহ চারজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এদিকে নাটোরের গুরুদাসপুরের ধারাবারিষা ইউপিতে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় চেয়ারম্যান পদে পরাজিত এক বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়িতে গত বুধবার রাতে ও গতকাল সকালে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পত্নীতলায় বুধবার ভোট গ্রহণ শেষে ব্যালট ও মালামাল নিয়ে ফেরার পথে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশসহ ৩০ জন আহত হন। এ কারণে উপজেলার চারটি ইউপির ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে।

উপজেলার ঘোষনগর ইউনিয়নের ঘোষনগর গ্রামের বাসিন্দা, চেয়ারম্যান ও কয়েকজন ইউপি সদস্য প্রার্থী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ভোট গণনা না করেই ব্যালট ও সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তাই বিক্ষুব্ধ জনতা এ হামলা চালান। সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটের আঘাতে নারী ও শিশুসহ ২০-২৫ জন আহত হন।

পুলিশ জানায়, ঘোষনগর কেন্দ্র থেকে ব্যালট বাক্স নিয়ে যাওয়ার সময় কমলাবাড়ি এলাকায় ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকেরা পুলিশের গাড়িতে হামলা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। একপর্যায়ে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেন ক্ষুব্ধ জনতা। 
এদিকে উপজেলার পত্নীতলা সদর ইউনিয়নের মথুরাপুর, কৃষ্ণুপুর ইউনিয়নের পানিওড়া ও আকবর ইউনিয়নের মান্দাইন কেন্দ্রেও ভোট গণনা নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এসব ঘটনায় ঘোষনগর, পত্নীতলা সদর, কৃষ্ণুপুর ও আকবর ইউপির ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। 
পত্নীতলা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহিদুর রহমান বলেন, কিছু কেন্দ্রে পছন্দের প্রার্থীরা জয়ী না হওয়ায় তাঁদের কর্মী-সমর্থকেরা হট্টগোল, মারপিট ও ভাঙচুর করেন। এসব কারণে চারটি ইউপির ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। নওগাঁর পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান মিয়া জানান, সন্ধ্যায় ঘোষনগর ইউপিতে পুলিশ ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। এ ছাড়া রিকুইজিশন করা ভোটের ডিউটিতে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।এদিকে নাটোরের গুরুদাসপুরের ধারাবারিষা ইউপিতে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় পরাজিত বিদ্রোহী প্রার্থী হাজেদা বেগমের সমর্থকদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার রাতে ও গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ইউনিয়নের দাদুয়া, সীমান্তবাজার ও মোল্লাপাড়া গ্রামের সাতটি বাড়িতে এ হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজের বাসভবন-সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ের আসবাব ভাঙচুর করা হয়েছে। বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল মতিনের সমর্থকেরা এ হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। 

আব্দুল আজিজ বলেন, তাঁর বাড়ির পাশে দুজন ইউপি সদস্য প্রার্থী ছিলেন। একজন চেয়ারম্যান মতিনের অনুসারী। তিনি পরাজিত হওয়ার পর বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁর অফিসে হামলা চালানো হয়। পরাজিত প্রার্থী আমিরুল ইসলাম তাঁর সমর্থকদের নিয়ে এ হামলা চালিয়েছেন। 
নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, কিছু সমর্থক অতি উৎসাহী হয়ে বিচ্ছিন্ন ঘটনায় জড়িত থাকলেও, সব কর্মী-সমর্থককে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। গুরুদাসপুর থানার ওসি আব্দুল মতিন বলেন, ঘটনার পর থেকে গ্রামগুলোতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    ২ চেয়ারম্যানের নামে মামলা

    মারধরের ঘটনায় মামলা দায়ের, নির্বাচন স্থগিত

    চাহিদার ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ যাচ্ছে অটোরিকশায়

    সাড়ে তিন মাস ক্লাসে বহিষ্কার ৬ ছাত্র

    জমে উঠেছে মাছ ধরার সরঞ্জাম বেচাকেনা

    কাজ না করে ভুয়া ভাউচার

    আষাঢ়ে নয়

    তুইও মরবি, আমাদেরও মারবি

    নতুন পরিচয়ে সোহানা সাবা

    তারেক মাসুদ ছিলেন স্বপ্নের নায়ক

    বোনদের নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা অক্ষয়ের

    জগদ্ধাত্রী একাই এক শ