বন্দুকযুদ্ধ।

কক্সবাজারের টেকনাফ ও ময়মনসিংহের গফরগাঁয়ে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গাসহ তিনজন মাদককারবারী নিহত হয়েছেন। ২১ আগষ্ট বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবার ভোরে বন্দুকযুদ্ধের এ সব ঘটনা ঘটে।

টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, টেকনাফে বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গা মাদককারবারী নিহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক, তিন রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও দুইটি ধারালো কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে হোয়াইক্যং কাটাখাল এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, উখিয়া কুতুপালং ৭নং ক্যাম্পের ব্লক-ই-৩ এর ২৪নং রোমের বাসিন্দা মৃত সৈয়দ হোসেনের ছেলে মোঃ সাকের (২২) এবং নয়াপাড়া মোচনী ক্যাম্পের ব্লক সি-৪ এর ২নং রোমের বাসিন্দা মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে নুর আলম (৩০)।

বিজিবি জানায়, বৃহস্পতিবার ভোরে টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের হোয়াইক্যং বিওপি ক্যাম্পের একটি টহলদল মিয়ানমার হতে মাদকের চালান আসার খবর পেয়ে কাটাখালীর নাফনদী পয়েন্টে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর হস্তচালিত কাঠের নৌকা নিয়ে কয়েকজন লোক এসে সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালালে বিজিবির সদস্যরা চ্যালেঞ্জ করে। তখন মাদক বহনকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করলে বিজিবির সিপাহী মতিউর রহমান (২৪) ও উজ্জ্বল হোসেন (২৬) আহত হয়। তখন বিজিবিও আত্মরক্ষার্থে গুলিবর্ষণ করে। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি শান্ত হলে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে ৫০ হাজার ইয়াবা, ১টি দেশীয় তৈরী বন্দুক, ২টি ধারালো কিরিচ ও ৩ রাউন্ড তাজা বুলেটসহ গুলিবিদ্ধ দুই এবং আহত বিজিবি সদস্যদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিজিবি সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মাদক বহনকারীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যায়। পরে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ- অধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার জানান, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অপরদিকে গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, গফরগাঁওয়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মো. এখলাছ উদ্দিন (৩০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত পৌনে ২টার দিকে পাগলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ গণমাধ্যমকে জানান, পাগলা থানা এলাকায় অটোরিকশা চালক হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ বেশ কয়েকজন ডাকাত স্থানীয় চাকুয়া এলাকায় অবস্থান করছে। এরপর ডিবির টিম সেখানে অভিযান চালালে ডাকাত দল ও মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে ডাকাত দল ও মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে চিহ্নিত ডাকাত ও মাদক ব্যবসায়ী মো. এখলাছ উদ্দিনকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় ডিবির উপ-পরিদর্শক আকরাম হোসেন ও কনস্টেবল ইলিয়াস মিয়া আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি ১২ বোর রিভলবার, এক রাউন্ড গুলি ও ২০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে।