রোববার, ২৪ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 
ফ্যাক্টচেক

পে ইচ পেনি টু সেভ ইসরায়েল!

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১৫:৪৯

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচলিত ধারণাটি নানাভাবে শেয়ার করা হয়। ছবি: সংগৃহীত বহু বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে একটি ধারণা প্রচলিত যে, কোমল পানীয় পেপসি ইসরায়েলের তৈরি এবং পেপসি মানে—‘Pay Each Penny to Save Israel.’ অর্থাৎ, ‘ইসরায়েল বাঁচাতে ব্যয় করুন প্রতিটি পয়সা’। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এ–সংক্রান্ত অগণিত পোস্ট দেখা যায়।

ফেসবুকে ধারণাটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত। ছবি: সংগৃহীত ফ্যাক্টচেক
ফার্মাসিস্ট ক্যালেব ডেভিস ব্র্যাডহ্যাম ১৮৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার নিউ বার্ন এলাকায় চিনি, পানি, ক্যারামেল, লেমন ওয়েল, নাটমেগ, আর অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান মিশিয়ে তৈরি করেন এক ধরনের পানীয়। তিনি নিজের নামানুসারে এর নাম দেন ব্র্যাডস ড্রিংক

পাঁচ বছর পর ১৮৯৮ সালের ২৮ আগস্ট তিনি পানীয়টির নাম পরিবর্তন করে রাখেন পেপসি-কোলা।

এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, ১৯৩১ সালে আমেরিকান ব্যবসায়ী চার্লস জি গুথ পেপসি কোম্পানিটি কিনে নেন। গুথ পেপসিকে সংস্কার করে ১২ আউন্স বোতলে করে তা বিক্রি করতে শুরু করেন, যার দাম ছিল মাত্র ৫ সেন্ট। সে সময় পেপসির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কোকাকোলা তার ৬ আউন্স বোতলগুলোতে যে পরিমাণ পানীয় দিত, পেপসি তার দ্বিগুণ পরিমাণ দেওয়া শুরু করল। কোমল পানীয় হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয় হতে লাগল পেপসি। সেই শুরু। কোক ও পেপসির দ্বৈরথ আজ অবধি চলছে।

ব্র্যাডহ্যাম ১৮৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনায় পানীয় তৈরি করে নাম দেন ব্র্যাডস ড্রিংক। ছবি: পেপসিকেয়ারস ডটকম নামকরণে পেপসির ব্যাখ্যা
পেপসির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্র্যাডহ্যাম এমন একটা নাম খুঁজছিলেন, যা দিয়ে পানীয়টির বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে। তিনি একটি স্থানীয় কোম্পানি ‘পেপ-কোলা’র কাছ থেকে নামটি কিনে নেন এবং তাঁর পানীয়টির নাম রাখেন পেপসি-কোলা।  

আমাদের পাকস্থলীতে হজমের জন্য ‘পেপসিন’ নামক এক প্রকার এনজাইম নিঃসৃত হয়। ব্র্যাডহ্যামের মতে, তাঁর তৈরি পানীয়টিও মানুষের হজমের জন্য খুব সহায়ক। পেপসিনের মতো কাজ করার সুবাদে ও পানীয়টিতে আফ্রিকান কোলা নাটের নির্যাস ব্যবহারের কারণে এর নামকরণ করা হয় ‘পেপসি-কোলা’।

এবার আসা যাক ইসরায়েল প্রসঙ্গে। গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ইহুদি জনগোষ্ঠীর মনে কল্পরাজ্য হিসেবে ইসরায়েলের অস্তিত্ব অনেক আগে থেকে হলেও এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বাস্তবে রূপ পায়। রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ মে। ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে বিবিসি বাংলায় ২০১৭ সালের ৩ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানা যায়। ইসরায়েল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার অন্তত ৫০ বছর আগে পেপসির নামকরণ হয়। এর মধ্যে গোটা বিশ্বে হয়ে গেছে দুটি বিশ্বযুদ্ধ।

পেপসির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের ভাষ্যে ব্র্যাডহ্যাম এমন একটা নাম খুঁজছিলেন, যা দিয়ে পানীয়টির বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে। ছবি: পেপসিকেয়ারস ডটকম আরব লীগের বয়কট
ইসরায়েল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার তিন বছর আগেই ১৯৪৫ সালে তৎকালীন আরব লীগ ইহুদিদের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করার জন্য ফিলিস্তিনে ইহুদি অধ্যুষিত এলাকায় বয়কট আরোপ করে। এই বয়কটের শর্ত অনুযায়ী পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠিত ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো রকম ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল অবৈধ। এমনকি সে সময় ইসরায়েলে কোকাকোলা খুব জনপ্রিয় ছিল বলে আরব দেশগুলো সেই পানীয়ও বয়কট করে। এ ছাড়া এলটন জনের মতো অনেক তারকাকে বয়কট করা হয় ইসরায়েলে অনুষ্ঠান করার জন্য। এ নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলস টাইমসে ১৯৯৩ সালের ৪ জুন একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

পেপসি সে সময় আরবে খুব জনপ্রিয় ছিল। ১৯৯২ সালের আগ পর্যন্ত পেপসি ইসরায়েলে ব্যবসা করেনি। আরব লীগের এই বয়কট চলে দীর্ঘ ৪৫ বছর। সেই সময় ইসরায়েলে ব্যবসা না করার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে পেপসি কোম্পানিকে মামলার মুখেও পড়তে হয়েছে। সেই মামলায় পেপসি জিতলেও ‘ইহুদি-বিদ্বেষী’ ট্যাগ লেগে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তাদের শোচনীয় ক্ষতি হয়। যদিও পেপসির যুক্তি ছিল আরব বাজার হারানোর ভয়ে নয়, বরং ইসরায়েলের বাজার খুব ছোট হওয়ায় সেখানে তাদের ফ্রেঞ্চাইস দেওয়া সম্ভব ছিল না।

ইসরায়েলে প্রবেশের পরও ইহুদি রক্ষণশীল গোষ্ঠী গান-বাজনা-যৌনতা দিয়ে যুবসমাজকে ধ্বংস করার অভিযোগ আনে কোম্পানিটির ওপর। এই কারণে সাময়িক সময়ের জন্য তাদের ‘কশার’ (ইহুদিদের জন্য হালাল) লাইসেন্স বাতিল করা হয়।

১৯৯২ সালের ১৯ মে শিকাগো ট্রিবিউনে এ–সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

সিদ্ধান্ত
পেপসির নামকরণের সূত্র হিসেবে ‘Pay Each Penny to Save Israel’ বাক্যটির কোনো ভিত্তি নেই।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    ফ্যাক্টচেক

    পীরগঞ্জের পূর্ণিমা রাণীর ছবি নয় এটি

    ফ্যাক্টচেক

    কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় মসজিদে হামলার ছবিটি ২০১৬ সালের

    ফ্যাক্টচেক

    মহাত্মা গান্ধীর ছবিটি সম্পাদিত

    রামেকে করোনা উপসর্গে দুজনের মৃত্যু

    নোট, গাইড, কোচিং থাকছে অন্য নামে

    ঐক্যের অভাবই কি বড় ঝুঁকি?

    অন্তর্ভুক্তিমূলক সহযোগিতাধর্মী জাতিসংঘ গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    বিকেলের নাশতায় পাটিসাপটা

    মুছে যাক চোখের কোণের দাগ