ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত। প্রতীকী ছবি

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায় সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার একদিনের মাথায় কুলাউড়ায় এবার লাইনচ্যুত হয়েছে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন কালনী এক্সপ্রেস।

২০ জুলাই শনিবার সকাল ৭টায় সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনটি কুলাউড়া জংশন এলাকায় প্রবেশের সময় ৯টা ২০ মিনিটের দিকে লাইনচ্যুত হয়।

লাইনচ্যুত বগিটি উদ্ধার করতে না পেরে সকাল ১১টার দিকে ওই বগিটি কুলাউড়ায় রেখে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় কালনী এক্সপ্রেস।

শুক্রবার একই স্থানে আন্তনগর জয়ন্তিকা ট্রেনের দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয়।

একদিনের ব্যবধানে একই স্থানে দুইবার ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ট্রেন যাত্রী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রেললাইনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

কুলাউড়া স্টেশন মাস্টার মো. মুহিব উদ্দিন বলেন, কালনী ট্রেনের চাকা হঠাৎ করে লাইনচ্যুত হয়। চাকাটি লাইনে তোলা হয়েছে। কেন যে বারবার লাইনচ্যুত হয়েছে তা একমাত্র প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারাই বলতে পারবেন। গতকাল রাত ১২টা পর্যন্ত রেলের প্রকৌশল বিভাগের লোকেরা ক্ষতিগ্রস্ত লাইনের মেরামত কাজ করেছেন।

রেলের উপসহকারী প্রকৌশলী সিলেট (পথ) মো. আশরাফুল আলম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। কী কারণে বার বার ট্রেন লাইনচ্যুত হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হবে।

প্রসঙ্গত, ২৩ জুন রাত ১১টা ৪৮ মিনিটে সিলেট থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল রেলক্রসিং এলাকার কাছেই সেতু ভেঙে আন্তঃনগর ‘উপবন এক্সপ্রেস’ ট্রেনের কয়েকটি বগি খালে পড়ে যায়। এছাড়া আরও তিনটি বগি স্থলভাগের সীমানায় লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। মোট পাঁচটি বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট কাজ শুরু করে। পুলিশ, বিজিবি ও স্থানীয় লোকজনও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।

এ ঘটনায় নিহত হন চারজন এবং আহত হন শতাধিক যাত্রী। এ দুর্ঘটনার কারণে ২২ ঘন্টা বন্ধ থাকে সারাদেশের সাথে সিলেটের রেল যোগাযোগ।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস