বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মোর্তজা। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মোর্তজা বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া অনেক বেশি শক্তিশালী একটি দল। অনেক সুগঠিত, তাদের বোলিং শক্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে অনেক বেশি ধারালো। স্টার্ক, কামিন্সরা বিশ্বমানের ফাস্ট বোলার। তাদের বোলিংয়ে বৈচিত্র্য অনেক বেশি। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার মূল বোলিং শক্তির গভীরতা ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে অনেক বেশি। তাদের স্টক বোলার বেশি এবং প্রতিটা বোলারেরই বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আছে। যেটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছিল না। কাজেই আমি বিশ্বাস করি, অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে হলে, আমাদের সামর্থ্যের একদম সেরাটা উপহার দিতে হবে। অন্যথায় নয়।’

মাশরাফির কথার মূল ভাবটাই হচ্ছে, টনটনে ক্যারিবীয় দলের যারা বড় স্কোর গড়েছে, তারা কেউই ইনিংসটাকে টেনে ৫০ ওভার পর্যন্ত নিতে পারেননি। এবং যখন হাত খুলে খেলতে শুরু করেছেন তারপরপরই আউট হয়ে গেছেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া দলের ওয়ার্নার, স্মিথ এবং ফিঞ্চরা ব্যতিক্রম। তারা সেট হয়ে গেলে সহজে উইকেট দেন না। চেষ্টা করেন ইনিংসটাকে শেষ বল পর্যন্ত নিয়ে যেতে।

একইভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররাও বাংলাদেশের বিপক্ষে অনেক বেশি শর্ট বল করেছেন এবং তাদের লক্ষ্যই ছিল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের শর্ট বল করে ভড়কে দেয়ার। সেটাতে তারা সফল হয়নি। এর বাইরে বুদ্ধি খাটিয়ে ইয়র্কার লেন্থে বল করার কাজটি করতে পারেননি ক্যারিবীয়রা।

এ কারণেই টনটনে খেলা শেষে সাকিব বলেলছিলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলাররা শুধু দুটি কাজই করেছেন, হয় খাটো লেন্থে বল ফেলেছে না হয় খুব উপরে আমাদের নাগালের মধ্যেই বল পিচে করিয়েছেন। তাতে করে, আমাদের ভালো খেলা একটু সহজ হয়ে গিয়েছিল। বলার অপেক্ষা রাখে না অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা সে কাজটা সহজে করেন না। তারা বলে প্রচুর বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করেন। শুধু শর্ট বল করবেন না, তাদের বলে সুইং আছেন, ইয়র্কার করাতে পারেন। তার চেয়ে বড় কথা অসি দলে কোয়ালিটি স্পিনারও আছেন।

এসব মাথায় নিয়েই বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া হচ্ছে ওয়ান অব দ্য বেস্ট ক্রিকেট টিম এবং অনেক টাফ অপোনেন্ট। পুরো দলটাই অনেক বেশি পেশাদার। জিততে হলে, এদেরকে ৩০০ বা তিনশর নিচে রাখতে হবে। কারণ, অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা অনেক চৌকস। ওয়েস্ট ইন্ডিজ যেমন আমাদের বিরুদ্ধে বড় স্কোরের ভিত গড়েও ৩২০ এর মধ্যে আটকে গিয়েছিল, অস্ট্রেলিয়া তেমন যদি ভিত পায়, তাহলে ৩২০-এ থাকবে না, ৩৫০-এ চলে যাবে। কারণ তারা অনেক বেশি পেশাদার। একবার উইকেটে কেউ সেট হলে লম্বা ইনিংস খেলতে পারে অনেক বেশি।’

মাশরাফির শেষ কথা, ‘অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে হলে আমাদের ১০০ ভাগ দিতে হবে। আর অস্ট্রেলিয়া যাতে ৭০ ভাগের বেশি দিতে না পারে। কারণ দু’পক্ষের শক্তি ও সামর্থ্যের ফারাক অনেক। এই দুরত্ব কমাতে আমাদের বেশি ভালো খেলতে হবে। সামর্থ্যের সবটুকু মাঠে প্রয়োগ ঘটাতে হবে।’

আজকের পত্রিকা/এমএইচএস