মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু । ছবি : সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত ২০০ নটিক্যাল মাইল অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ২০ মে হতে ২৩ জুলাই পর্যন্ত একটানা ৬৫দিন সকলপ্রকার যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক মৎস্যযান কর্তৃক মৎস্য ও ক্রাস্টিয়ান্স আহরণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। ২২ মে বুধবার মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু এসব তথ্য জানান।

সামদ্রিক মাছ সমূহের প্রজনকাল হওয়ায় ডিমওয়ালা মাছের নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টিসহ মাছের মজুদ সংরক্ষণ, সুষ্ঠু ও বিজ্ঞানসম্মত সহনশীল আহরণনিশ্চিত করতেই এই নিষেধাজ্ঞারোপ করেছে মৎস্য ও প্রানি সম্পদমন্ত্রণালয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে মোট ৪২.৭৭ লক্ষ মে.টন মাছ উৎপাদিত হওয়ার মাধ্যমেই দেশ মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। এই উৎপাদনের মধ্যে সামুদ্রিক মৎস্যখাতরে অবদান ৬.৫৬ লক্ষ মে. টন, যা দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের ১৫.৩৩ শতাংশ।

মৎস্য প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু আশা প্রকাশ করেন যে, ৮ মাস জাটকা নিধরোধ এবং ২২দিন মা-ইলিশ সংরক্ষণের মতন ৬৫ দিনের জন্যও ভিজিএফ খাদ্যসহায়তার ফলে জেলে পরিবারের খাদ্যসংস্থান হওয়ায় তাঁরা সামুদ্রিক ডিমওয়ালা মাছ ও চিংড়ি আহরণ থেকে বিরত থাকবে এবং ডিমওয়ালা মাছ ও চিংড়ির নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

উপকূলীয় ১২টি জেলাধীন ৪২ উপজেলার ৪ লাখ ১৪ হাজার ৭৮৪টি জেলে পরিবারের মাছ-আহরণ ব্যতিত বিকল্প আয়ের উৎস না থাকায় এবারই প্রথম নিষিদ্ধ কালীন ৬৫দিনের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচীর আওতায় পরিবার প্রতি মাসিক ৪০ কেজি করে মোট ৩৬ হাজার মেট্রিক টন চাল সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

ঈদের আগেই এ খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। মাছের তিনটি নিষিদ্ধ সময়ের জন্য আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ২২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানা গেছে।

বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে ২৫৫টি বানিজ্যিক মৎস্য ট্রলার, ৩২ হাজার ৮৫৯টি যান্ত্রিক ও ৩৪ হাজার ৮১০টি অযান্ত্রিক ফিশিং বোট কর্তৃক নির্বিচারে মৎস্য আহরণের ফলে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। এজন্যই সামুদ্রিক মৎস্য অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এর অধীনে বিধি ১৯ ধারা ২০১৫ সাল হতে প্রতিবছর প্রধান প্রজনন মৌসুমে মোট ৬৫ (পয়ষট্টি) দিন বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় বাণিজ্যিক ট্রলারসহ সকল প্রকার নৌযান দ্বারা মাছ, চিংড়ি ও চিংড়ি জাতীয় মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ৩২ সহস্রাধিক যান্ত্রিক মৎস্যযান সমুদ্রে মাছধরায় জড়িত থাকলেও এদের মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ৪০০টি মৎস্যযান বৈধ বা নিবন্ধিত থাকায় অবৈধ নৌযানের দৌরাত্ম বেড়েই চলেছে।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের সচিব রইছ উল আলম মন্ডল, মৎস্য অধিদফতরের ডিজি আবু সাইদ মোঃ রাশেদুল হক, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ডিজি ড ইয়াহিয়াসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আজকের পত্রিকা/আর.বি/আ.স্ব