কমল দাশ
চট্টগ্রাম ব্যুরো

বক্তব্য রাখছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু।

বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিন মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকতে জেলেদের পরামর্শ দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু। ১৬ মে বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে সকল প্রকার মৎস্য নৌযান কর্তৃক মৎস্য ও ক্রাস্টাশিয়ান্স আহরণ বন্ধের বাস্তবায়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে সকল প্রকার মৎস্য নৌযান কর্তৃক মৎস্য ও ক্রাস্টাশিয়ান্স আহরণ বন্ধের আগাম বার্তা আপনাদেরকে দিয়েছিলাম। তাই কষ্ট হলেও এ ৬৫ দিন মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকুন। পরে এর সুফল মিলবে। মৎস্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা যে জাল দিয়ে মাছ ধরেন।  সেই জাল দিয়ে ছোট মাছও উঠে আসে। ব যার কারণে এ মাছগুলো বড় হওয়ার সুযোগ পায় না।

জেলেদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, মাছ বড় হওয়ার জন্য সুযোগ দিতে হবে। মাছ যদি ডিম ছাড়তে না পারে, বাচ্চা ছাড়তে না পারে। তাহলে মাছের বিস্তার হবে না। এতে পরবর্তীতে আপনাদেরই সমস্যা হবে এবং দেশও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তিনি আরো বলেন, নদীভিত্তিক মাছ কখনও একই সময়ে পোনা ছাড়ে না। সেই বিষয়টাও মনে রাখতে হবে। তাই পোনা ছাড়ার কথা হিসেব করেই মাছ ধরতে হবে এবং মাছগুলোকে বড় হতে দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

জেলেদের উদ্দেশ্য তিনি আরো বলেন বলেন, এ ৬৫ দিন একটু কষ্ট করতে হবে। দেশ ও জাতির কথা চিন্তা করেই আমাদেরকে এটি মেনে নিতে হবে। কারণ বঙ্গোপসাগরে নির্বিচারে মাছ আহরণ করতে থাকলে এ সম্পদ লুপ্ত হয়ে যেতে পারে। তাই পরবর্তী প্রজন্মের কথা চিন্তা করে নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, সবার সমস্যা এক নয়, একেক জনের সমস্যা একেক রকম। এ পেশার উপর যারা নির্ভরশীল তাদের বিষয়টাও দেখতে হবে। জেলেদের কথা চিন্তা করে তিনি বলেন, জেলেরা যে পরিমাণ মাছ পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন সেই পরিমাণ পাচ্ছেন না। তাদের প্রস্তাবটাও অস্বীকার করার মত নয়। সবকিছু ভেবেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিকল্প ব্যবস্থা না করলে তাদেরকে না খেয়ে থাকতে হবে। তাদেরকে অন্তত কোনো অনুদান দিতে হবে যাতে কোনো রকম খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়েল সচিব মো. রইছ উল আলম মন্ডলের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এম. আবদুল লতিফ, জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, মেরিন ফিশারিস অ্যাকাডেমির ক্যাপ্টেন মাসুক এবং বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের বোর্ড সদস্যরা।

এরপর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো: আশরাফ আলী খান খসরু বেলা সোয়া দুইটায় চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের সাথে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখে। এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার সেরা অংশটা গ্রহণ করতে হবে।

জীবনে যা করবে ভালোভাবে করবে এবং লেগে থাকবে-তাহলে সফল হবে, কাজের মূল্যায়ন পাবে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন-এর চেয়ারম্যান দিলদার আহমদ এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ। সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিভাসু’র মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এম. নুরুল আবছার খান, ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আবদুল আহাদ, ফুড সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. জান্নাতারা খাতুন, পোল্ট্রি রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিআরটিসি)-এর পরিচালক প্রফেসর ড. পরিতোষ কুমার বিশ্বাস, ওয়ান হেল্থ ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. শারমীন চেীধুরী, রেজিস্ট্রার মীর্জা ফারুক ইমাম, পরিচালক (বহিরাঙ্গণ কার্যক্রম) প্রফেসর ড. এ. কে. এম. সাঈফুদ্দীন প্রমুখ।