গুলশানের বাড়িতে স্বামী হারিয়ে স্তব্ধ-নির্বাক হয়ে বসে আছেন রওশন। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ইন্তেকাল করেছেন। ১৪ জুলাই রবিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ৯০ বছর বয়সী এরশাদ রক্তে সংক্রমণসহ লিভার জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২২ জুন সিএমএইচে ভর্তি করা হয় তাকে। এর আগেও তিনি একাধিকবার দেশ-বিদেশে চিকিৎসা নেন।

এরশাদের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তাঁর প্রথম স্ত্রী রওশন এরশাদ। ৬৩ বছরের সংসার জীবন ছিল দুজনের। বিদিশাকে বিয়ের পর থেকেই দুজন আলাদা বসবাস করছিলেন ঠিকই, তবে তাদের সত্যিকারের বাঁধন ছিঁড়লো এরশাদের মৃত্যুতেই। সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এরশাদ যৌবনের প্রথমলগ্নে ১৯৫৬ সালে ময়মনসিংহের সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে রওশনকে বিয়ে করেন।

যদিও চাকরির কারণে বিয়ের পরপরই সংসার করা হয়ে ওঠেনি তাদের। সংসার করার জন্য এরশাদকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল আরও এক বছর। রওশন তাদের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করছিলেন। এরশাদকে তখন ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় কাজের তাগিদে কাটাতে হচ্ছিল। এরশাদ তাঁর বইতে ‘আমার কর্ম আমার জীবন’- এ লিখেন, “সে সময় স্বামীরা তাদের স্ত্রীদের কাছে চিঠি পাঠাতো। আমিও তার ব্যতিক্রম ছিলাম না। চিঠির প্রথমে রওশনকে অনেক কিছু সম্বোধন করতাম। তারমধ্যে মনে আছে, ‘নটি গার্ল’। ওদিকে রওশন আামকে ডাকতো ‘পেয়ারা’ নামে।”

এদিকে ১৪ জুলাই রবিবার প্রথম প্রহরেই স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে একমাত্র সন্তান রাহগীর আল মাহে সাদ এরশাদকে সঙ্গে নিয়েই সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ছুটে গেছেন রওশন। মৃত স্বামীর পাশে যেতেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি। এ কান্না থামার নয়। বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে ওঠা এ কান্না স্পর্শ করছে কাছের মানুষ থেকে দূরের মানুষকেও। অধিক শোকে যেন পাথর হয়ে গেছেন রওশন। কথাও বলছেন কম। স্বামী হারিয়ে ৬৩ বছরের এই অম্ল-মধুর সম্পর্কের ইতি টেনে শূন্য হৃদয় নিয়ে গুলশানের বাড়িতে স্তব্ধ-নির্বাক হয়ে বসে আছেন তিনি।

আজকের পত্রিকা/সিফাত