এম. এ. আর. শায়েল
সিনিয়র সাব এডিটর

মাছের মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, পাশে ৮৫ হাজার টাকা দাম হাকানো বাঘাইড় মাছ।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলায় এবারও ছিল মানুষের স্রোত। বিভিন্ন এলাকা থেকে খোয়াই নদীর অপরপ্রান্তের এই জনপদের দিকে জনস্রোতের একটাই কারণ ছিল। সেটি হল এখানে বসেছে দুই শ বছরের ঐতিহ্যবাসী মাছের মেলা। কেউ যাচ্ছেন মাছ কিনতে। আবার কেউ যাচ্ছেন বড় বড় মাছ দেখতে।

মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্যের পসরা বসেছিল এই মেলায়। মেলা উপলক্ষে ওই যেন এলাকায় ঈদের আনন্দ বিরাজ করছিল।

সরেজমিনে মাছের মেলায় গেলে দেখা যায়, মাছ নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। মেলায় উঠেছে বিরাট বিরাট সব মাছ। দুই শতাধিক দোকানে এসব মাছের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। দূর-দূরান্ত থেকে দলে দলে লোকজন মেলায় এসেছেন মাছ কিনতে। খালিহাতে ফিরছেন না কেউ। সবাই সামর্থ্য অনুযায়ী মাছ কিনে খুশিমনে বাড়ি ফিরছেন।

মেলা উপলক্ষে আশপাশের গ্রামে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। নাইওর এসেছেন মেয়ে ও জামাই। নিমন্ত্রণ করা হয়েছে আত্মীয়-স্বজনকেও। মেলায় প্রায় ৬০ কেজি ওজনের একটি বাঘাইর মাছ এর দাম হাকানো হয় ৮৫ হাজার টাকা। পূর্ব পইল গ্রামের সালাম মিয়া একটি ২৫ কেজি ওজনে বাঘাইর মাছের দাম হাকান ৪০ হাজার টাকা।

শুধু এই বাঘাইড়টিই নয়। সরেজমিনে মেলায় ঘুরে আরো ১০/১২ফ. বাঘাইড় মাছ দেখা যায়। ৩০ থেকে ৪০ কেজি ওজনের এ সকল মাছেরও দাম হাকা হয় ৫০ হাজার টাকার উপরে। মেলায় ২০ কেজি ওজনের একটি ঘাগট মাছের দাম হাকা হয় ৪৫ হাজার টাকা। ২০/২৫ হাজার টাকার বড় বোয়াল ও ১০/১৫ হাজার টাকা মূল্যের বেশ কিছু চিতল মাছও উঠে মেলায়। একটি বড় রুই মাছের দাম হাকানো হয় ২০ হাজার টাকা।

বুধবার সকাল থেকেই মাছ মেলায় হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। বিকেলে এ মেলায় লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। এ মেলা দেখার জন্য শুধু হবিগঞ্জ নয়, সিলেট, মৌলভীবাজর, সুনামগঞ্জ, ব্রাক্ষণবাড়িয়াসহ অন্যান্য জেলা থেকেও প্রচুর লোক আসেন মেলায়।

মানুষজন মাছের দাম হাকাচ্ছেন, কিনছেন, আবার কেউ কেউ সেলফি তুলতেও ব্যস্থ । শুধু সেলফি তুলেই শেষ নয়। মাছ মেলার ছবি দিয়ে কেউ কেউ আবার ঝড় তুলছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও।

পইলের মাছের মেলাকে ঘিরে বুধবার ভোর থেকে বিশাল এলাকাজুড়ে বিরাজ করে এমন উৎসব আমেজ। অন্যবারের মতো এবারও মেলার আকর্ষণ ছিল নদীতে ধরা বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় মাছ। আছে নদীর বাঘাইর, বোয়াল, আইড়, পাঙাশ, চিতল, কাতলা, রুই, সিলভার কার্পসহ হরেক পদের বড় বড় মাছ। এ ছাড়া পুটি, চিংড়ি, কৈ, চাপিলা, চান্দা মাছ উঠেছে ব্যাপক হারে।

মেলার প্রধান আকর্ষণ মাছ হলেও এতে কৃষি উপকরণ, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য, ভোগপণ্য, আখ, শিশুদের খেলনার দোকানও ছিল উল্লেখযোগ্য।

পইল গ্রামের বাসিন্দা সাবেক চেয়ারম্যান সাহেব আলী জানান, মেলায় প্রতি বছরই বাঘাইর মাছ ৫০ হাজার থেকে লাখ টাকার উপরে বিক্রি হয়। এ বছর বড় বড় বাঘাইর ও বোয়াল মাছ উঠেছে মেলায়। একেকটি মাছের ওজন হবে ৩০-৪০ কেজি।

পইল মাছ মেলার ঐতিহ্য সম্পর্কে পইল ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মঈনুল হক আরিফ জানান, ‘ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বাগ্মী নেতা বিপিন চন্দ্র পালের জন্মভূমি পইল গ্রামে প্রতিবছর এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এই মেলাকে ঘিরে এলাকায় উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মেলাকে সামনে রেখে চাষীরা সারা বছর বড় মাছটি সংরক্ষণ করেন। এ ধরনের মাছের মেলা জেলার আর কোথাও নেই।