জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক। ছবি : সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যাসহ সারাদেশে অব্যাহত হারে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও হত্যা বন্ধে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে গণজমায়েত করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ৩০ এপ্রিল শাহবাগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ধর্ষণ, হত্যা বন্ধে গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে। ২৪ এপ্রিল বুধবার সন্ধ্যায় মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশে একটার পর একটা ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। নারীদের ধর্ষণের ব্যাপারটা মহামারির আকার ধারণ করেছে। আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির অবনতিও খুবই দৃশ্যমান।

ড. কামাল বলেন, আমরা মনে করি আন্দোলনকে জোরদার করতে হবে। নারীদের অধিকার, আইনের শাসন রক্ষা করার জন্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামতে হবে। আমরা সেই সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছি আজকের বৈঠকে। সবাই ঐক্যমতে এসেছি যে সক্রিয়ভাবে মাঠে নামতে হবে। দেশের মানুষকেও আজকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশে সভ্যতা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে হবে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আইন ভঙ্গকারীদের ব্যাপারে নিষ্ক্রিয় বলে অভিযোগ করে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করছি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আইন ভঙ্গকারীদের ব্যাপারে নিষ্ক্রিয়। অথচ তারা বিভিন্ন ধরনের অ্যাকশনে যাচ্ছে, যারা মানবাধিকারের পক্ষে কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু যারা মানুষের অধিকারের বিরুদ্ধে কাজ করছে তাদের ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিষ্ক্রিয়।’

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জরুরি ভিত্তিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটা উদ্যোগ নিতে হবে। এই লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কর্মসূচিও দিচ্ছে।

এই কর্মসূচিতে দেশবাসীকেও অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেএসডির সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য আ স ম আব্দুর রব জানান, ‘আগামী ৩০ এপ্রিল ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, হত্যা বন্ধের দাবিতে শাহবাগে জমায়েত করবে ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা। গত সাড়ে তিন মাসে দেশে ৩৯৬ জন নারী ও শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।  এই ভাবে নারী ও শিশু ধর্ষণ আমাদের বাপ-মায়ের কাছেও শুনি নাই। দেশে একটা অরাজক অবস্থা বিরাজ করছে। এখন একটা নারী ও শিশুর পক্ষে নিরাপদে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অবিলম্বে এগুলো বন্ধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন,  আগামীতে নোয়াখালী ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলা শহরে ‘ভোট ডাকাতির’ ওপর গণশুনানি করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। যার তারিখ পরে জানানো হবে। একইসঙ্গে রমজানে  ইফতার মাহফিল ও সুধী সমাবেশও করা হবে।

নতুন করে সব ধরনের হয়রানি ও গায়েবি মামলা বন্ধ করারও দাবি জানিয়ে আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘তারেকসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যেসব নেতা কারাগারে রয়েছে সবাইকে মুক্তি দিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে কোনও ঝামেলা নাই। ঐক্যফ্রন্ট ছিল, আগামীতেও থাকবে।’

ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ক শহীদুল্লাহ্ কায়সার, ডা. জাহিদুর রহমান, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী প্রমুখ।

আজকের পত্রিকা/রাজনীতি/আ.স্ব/