রেলভবনে রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নুজন সংবাদ সম্মেলন করেন। ছবি : আজকের পত্রিকা

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের জন্য ১৬টি বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঈদের আগে পাঁচদিন ও ঈদের পরে ছয়দিন চলবে এসব ট্রেন। এছাড়া প্রতি দিন আড়াই লাখ যাত্রী পরিবহন করার সকল ধররের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছে রেল বিভাগ। গত বছর ঈদের সময় সারাদেশে দেড় লাখ যাত্রী পরিবনের সুয়োগ ছিল।

আর আসন্ন ঈদে ১ লাখ যাত্রী বেশী পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টির হয়েছে। এ ছাড়াও অধিক যাত্রীর চাপ সামাল দিতে ১৪শ’ কোচ সংযুক্ত করা হবে। ১৫ মে বুধবার রেল ভবনে রেলপথ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রেলপথ মন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম, সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অধিক যাত্রী পরিবহনের জন্য ৮ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু করা হবে। এ সকল ট্রেন গুলো হলো :

১. দেওয়ানগঞ্জ ঈদ স্পেশাল (১ জোড়া), এটা চলবে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রুটে আগামী ২ জুন থেকে ৬ জুন পর্যন্ত।

২. চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল (২ জোড়া), এটা চলবে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে আগামী ২ জুন থেকে ৬ জুন পর্যন্ত। ৩. মৈত্রীর রেক দিয়ে খুলনা ঈদ স্পেশাল, চলবে খুলনা-ঢাকা-খুলনা রুটে আগামী ৪ জুন থেকে ৩ জুন পর্যন্ত।

৪. ঈশ্বরদী ঈদ স্পেশাল, চলবে ঢাকা-ঈশ্বরদী-ঢাকা রুটে আগামী ২ জুন থেকে ৪ জুন পর্যন্ত।

৫. লালমনি ঈদ স্পেশাল-১, চলবে লালমনিরহাট-ঢাকা-লালমনিরহাট আগামী ২ জুন থেকে ৪ জুন পর্যন্ত চলবে।

৬. লোলাকিয়া স্পেশাল-২, এটা চলবে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে মাত্র ঈদের দিন। এছাড়া সোলাকিয়া স্পেশাল-২, চলবে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ এটাও পবিত্র ঈদের দিন।

রেলপথ মন্ত্রী জানান, ঈদ উলপক্ষে আন্ত:নগর ট্রেনের অফ-ডে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঈদের পাঁচদিন আগে থেকে ৩১ মে থেকে ঈদেও পূর্ব দিন পর্যন্ত আন্ত:নগর ট্রেনসমূহের অফ-ডে থাকবে না এবং ঈদ পরবর্তীতে যথারীতি অফ-ডে কার্যকর করা হবে। অফ-ডে প্রত্যাহারের ফলে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল মিলে প্রায় ৪৮টি ট্রেন বিশেষ ট্রিপ হিসেবে পরিচালিত হবে।

রেলপথ মন্ত্রী আরও জানান, এবার আসন্ন ঈদের আগাম টিকিট পাঁচটি স্টেশন থেকে সংগ্রহ করা যাবে। স্টেশন গুলো হলো ঢাকা( কমলাপুর), এখান থেকে সমগ্র পশ্চিমাঞ্চলগামী ট্রেন ভায়া যমুনা সেতু টিকিট কেনা যাবে।

বিমানবন্দর স্টেশন থেকে যাত্রীরা চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী সকল আন্ত:নগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হবে। তেজগাঁও স্টেশন থেকে শুধু ময়মনসিংহ ও জামালপুরগামী সকল আন্ত:নগর ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।
বনানী স্টেশন থেকে যাত্রীরা নেত্রকোনাগামী মোহনগঞ্জ ও হাওড় এক্সপ্রেস টেনের টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া ফুলবাড়িয়া ( পুরাতন রেলভন) স্টেশন থেকে সিলেট ও কিশোরগঞ্জ সকল আন্ত:নগর ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।

প্রতিটি টিকিট বিক্রয় কেন্দ্রে একটি করে মহিলা কাউন্টার খোলা হয়েছে।

ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে ঈদের ১০ দিন আগে থেকে। অর্থাৎ প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত। চলবে ২৬ মে পর্যন্ত। ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে ২৯ মে থেকে। চলবে ২ জুন পর্যন্ত।

তিনি বলেন, ২২মে বিক্রি হবে ৩১ মে যাবার টিকিট। ২৩ মে বিক্রি হবে ১লা জুনের টিকিট। ২৪ মে বিক্রি হবে ২ জুনের টিকিট। ২৫মে বিক্রি হবে ৩ জুনের টিকিট। ২৬ মে বিক্রি হবে ৪ মে টিকিট।

এছাড়া ফেরত টিকিট বিক্রি হবে ২৯ মে থেকে, চলবে ২ জুন পর্যন্ত। ফেরত আসার জন্য ২৯ মে টিকিট বিক্রি হবে ৭ জুনে ফিরে আসার টিকিট। ৩ মে বিক্রি হবে ৮ জুনে ফিওে আসার টিকিট। ৩১ মে বিক্রি হবে ৯ জুনের টিকিট। ১ জুনের টিকিট বিক্রি হবে ১০ জুনের টিকিট এবং ২ জুনের টিকিট বিক্রি হবে ১১ জুনে ফিরে আসার জন্য।

এক যাত্রী এক সঙ্গে ৪ টি টিকিট ক্রয় করতে পারবে এবং ঈদের অগ্রিম বিক্রিত টিকিট ফেরৎ নেয়া হবে না। স্পেশাল ট্রেনের কোন সীট মোবাইল অ্যাপে পাওয়া যাবে না বলে রেলপথ মন্ত্রী জানান।

তিনি জানান, শতকরা ৫০ ভাগ টিকিট এখন হতে যাত্রী সাধারণ অনলাইনে ক্রয় করতে পারবে। স্টেশন কাউন্টার হতে শতকরা ৫০ ভাগ ীগ্রম টিকিট ক্রয় করতে পারবে।

পবিত্র ঈদ উপলক্ষ্যে ঈদের ১০ দিন পূর্বে এবং ঈদের পরে ১০ দিন পর্যন্ত প্রেনে সেলুন সংযোজন করা হবে না বলে সংবাদ সম্মেলনে রেলপথ মন্ত্রী জানান।

এ সময় রেল সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন, ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক শামছুজ্জামান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ( আই)সহ রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আজকের পত্রিকা/আর.বি/