২১ অক্টোবর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে বসতে যাচ্ছে ‘ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস (বিবিএফএ)’-এর জমকালো আসর। এদিন সন্ধ্যায় বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রী মিলনায়তনে মিলিত হবেন দু্ই বাংলার চলচ্চিত্রের দুই শতাধিক তারকা, কলা-কুশলী।

ফিল্ম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া ও বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগে এ পুরস্কার অনুষ্ঠানটি নিবেদন করছে টিএম ফিল্মস। দুই বাংলার চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের এ মহাসম্মেলনের মাধ্যমে কাজের স্বীকৃতি জানানো হবে লচ্চিত্রজনদের। থাকবে দুই দেশের শীর্ষ তারকাদের চোখ ধাঁধানো পারমর্মেন্স। এবারের আসরে আজীবন সম্মাননার পুরস্কার পাচ্ছেন বাংলাদেশের নন্দিত অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগম এবং কলকাতার অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক। আর পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করবেন দুই বাংলার মীর আফসার আলী ও শাহরিয়ার নাজিম জয়। দুজনের সঙ্গে উপস্থাপনায় আরও থাকছেন কলকাতার গার্গি রায় চৌধুরী ও ঢাকার শান্তা জাহান।

বিবিএফএ-এর সমন্বয়ক তপন রায় জানান, দুই দেশের প্রায় দুইশতাধিক তারকার সমাবেশ ঘটবে এ আয়োজনে। পপুলার, টেকনিক্যাল ও রিজিওনাল- এই তিন ক্যাটাগরিতে মোট ২৪টি বিভাগে দুই দেশের শিল্পী-কুশলীদের পুরস্কার প্রদান করা হবে। ২০১৮ সালের জুন মাস থেকে চলতি বছরের (২০১৯) জুন মাস পর্যন্ত ভারত ও বাংলাদেশে মুক্তি পাওয়া বাংলা চলচ্চিত্রগুলো থেকে এসব পুরস্কার বাছাই করা হচ্ছে।

এদিকে এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে টিএম ফিল্মসের চেয়ারপার্সন ফারজানা মুন্নি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দেশের চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি প্রদান অনুষ্ঠান। ঠিক একই সময়ে চলচ্চিত্রের পথে পা বাড়িয়েছে আমাদের টিএম ফিল্মস। চলচ্চিত্রে এখন সংকট চলছে, সেটি কাটিয়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলার প্রয়াসে আমরা প্রযোজনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্বপ্ন দেখছি দেশের চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছে দেওয়ার। ভারত-বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কারের এ আয়োজনের মাধ্যমে দুই দেশের চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের কাছে আমরা আমাদের সেই স্বপ্নের বার্তা পৌঁছে দিতে চাই।’

জানা গেছে, পুরস্কার প্রাপ্তদের বাছাই করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ থেকে জুরি বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আলমগীর, কবরী, ইমদাদুল হক মিলন, খোরশেদ আলম খসরু ও হাসিবুর রেজা কল্লোল। অন্যদিকে, ভারত থেকে আছেন গৌতম ঘোষ, ব্রাত্য বসু, গৌতম ভট্টাচার্য, অঞ্জন বোস ও তনুশ্রী চক্রবর্তী।

মনোনয়ন প্রাপ্তদের তালিকা:

বাংলাদেশ-
আজীবন সম্মাননা: আনোয়ারা বেগম।
সেরা ছবি: পাঠশালা, দহন, সুপার হিরো, দেবী ও নোলক।
সেরা পরিচালক: ফয়সাল রদ্দি-আসিফ ইসলাম, রায়হান রাফি, নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও অনম বিশ্বাস।
সেরা অভিনেতা: শাকিব খান, মোস্তফা মনোয়ার ও সিয়াম আহমেদ।
সেরা অভিনেত্রী: জয়া আহসান, পূজা চেরি, ইয়ামিন হক ববি, নুসরাত ইমরোজ তিশা।
সেরা জনপ্রিয় ছবি: পাসওয়ার্ড, পোড়ামন ২ ও দেবী।
বেস্ট মিউজিক: হৃদয় খান ও শওকত আলী ইমন সেরা প্লেব্যাক শিল্পী (পুরুষ): আরিফ রহমান জয়, আসিফ আকবর, হৃদয় খান, শাহরিয়ার রাফাত, মিনার রহমান ও ইমরান।
সেরা প্লেব্যাক শিল্পী (নারী): দিলশাদ নাহার কনা, সোমনুর মনির কোনাল, ফাতিমা তুজ জোহরা ঐশি ও ইয়াসমিন লাবন্য।
স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড: তাসকিন রহমান ও বিদ্যা সিনহা সাহা মীম।

ভারত-
আজীবন সম্মাননা: রঞ্জিত মল্লিক
সেরা ছবি: এক যে ছিল রাজা, নগর কীর্তন, সোনার পাহাড়, ব্যোমকেশ গোত্র ও মহালয়া।
সেরা পরিচালক: কৌশিক গাঙ্গুলি, শ্রীজিত মুখার্জি, শিবপ্রসাদ মুখার্জি-নন্দিতা রায়, ধ্রুব ব্যানার্জি ও পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।
সেরা অভিনেতা: প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি, যীশু সেনগুপ্ত, ঋদ্ধি সেন, শুভাশীষ মুখার্জি, আবির চ্যাটার্জি ও রুদ্রনীল ঘোষ।
সেরা অভিনেত্রী: পাওলি দাম, স্বস্তিকা মুখার্জি, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও অপর্ণা সেন।
বেস্ট মিউজিক: অনুপম রায়, দেবজ্যোতি মিশ্র, ইন্দ্রনীল দাশগুপ্ত ও বিক্রম ঘোষ।
সেরা প্লেব্যাক শিল্পী (পুরুষ): রুপঙ্কর বাগচি, মৃন্ময়, অনুপম রায়, অনির্বাণ ভট্টাচার্য ও রাজ বর্মন।
সেরা প্লেব্যাক শিল্পী (নারী): শ্রেয়া ঘোষাল, লগ্নজিতা চক্রবর্তী ও নিকিতা গান্ধী।
স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড: যিশু সেনগুপ্ত ও দামিনি বেনী বসু।

অনুষ্ঠানটির সার্বিক সহযোগিতায় আছে ভারতের জি-বাংলা ও বাংলাদেশের ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে আছে এটিএন বাংলা ও গানবাংলা টেলিভিশন। ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে আছে ওয়ান মোর জিরো।