একটা দুটো নয়, একে একে ২০ জনকে হত্যা করেছে ভদ্রবেশে ঘুরতে থাকা এই ভয়ঙ্কর খুনি। তার খুনের তালিকায় ছিলেন সব মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা। মৎস্যজীবীর বেশে ঘুরাফেরা করলেও ঠান্ডা মাথায় ২০ জনকে খুনের সাথে সাথে চুরি, লুট ও ধর্ষণ করেছে বাবু শেখ নামের এই ব্যক্তি।

১৯ অক্টোবর শনিবার নাটোর রেলস্টেশন থেকে বাবু ও তার ৩ সহযোগী গ্রেফতারের পর নাটোরসহ চার জেলার ৮টি চাঞ্চল্যকর ও রহস্যজনক হত্যার ঘটনা জানা যায়। নাটোরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে সাবিনা পারভিন হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পরে তাকে নাটোর কারাগারে নেওয়া হয়। ২০ অক্টোবর রবিবার নাটোরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

এর আগে রবিবার সকালের সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) এ কে এম হাফিজ আক্তার লিখিত বক্তব্যে জানান, সবার আড়ালে–আবডালে থাকা এই ভয়ঙ্কর ব্যক্তি অভ্যাসগত খুনি। তার অপরাধের সব তথ্য প্রমাণ এখন পুলিশের হাতে। তাকে গ্রেপ্তার করার মধ্য দিয়ে এই এলাকার বেশ কিছু হত্যার রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে বাবু শেখ ২০টি খুনের কথা স্বীকার করেছেন। তবে ৮টি খুনের সঙ্গে তার সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার কাছ থেকে আরও অনেক তথ্য জানা যাবে।

এদিকে বাবু শেখসহ তার সহযোগীদের জিজ্ঞাসাবাদে এমন কিছু মামলার রহস্য উদঘাটন হয়েছে, যার কোনো কূলকিনারা করতে পারছিল না পুলিশ। বাবু শেখ চংধুপইলের সাবিনা পারভিন হত্যা, জয়ন্তীপুরের রেহেনা বেগম, নাটোরের নলডাঙ্গার বাঁশিলার আমেনা বেওয়া, খাজুরার স্কুলছাত্রী মরিয়ম খাতুন ধর্ষণ-হত্যা, সিংড়ার বিগলগলিয়ার শেফালি খাতুন হত্যা, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের বাঁশতৈল গ্রামের রূপবানু, সখীপুর থানার তক্তারচালা গ্রামের সমলা বেওয়া এবং নওগাঁর সদরের একটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

জানা যায়, নিজ এলাকায় চুরির সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজন তাকে গ্রাম ছাড়া করে। এরপর থেকে বাবু শেখ বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে চুরি, হত্যা, লুট ও ধর্ষণের মতো অপরাধ সংঘটিত করতে থাকে।

আজকের পত্রিকা/সিফাত