প্রতিদিন সকাল-বিকাল নিয়মিত বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। আধা মণ ধান বিক্রি করেও মিলছে না ১ কেজি পেঁয়াজ। যেখানে আধা মণ ধানের দাম ২০০ থেকে ২১০ টাকা। শুক্রবার সকাল থেকে পেঁয়াজের দাম আগের থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২৪০ টাকা কেজি হওয়ায় ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠেছে।

জেলা শহর থেকে শুরু করে উপজেলার প্রতিটি বাজার মনিটরিং করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বেশ কয়েকদিন ধরে বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি করে। সেই পেঁয়াজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আধা ঘন্টার ব্যবধানে ২২০ টাকা থেকে ২৪০ টাকা দরে বিক্রি করছে বিক্রেতারা। আকস্মিকভাবে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ- পেঁয়াজের দাম বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি কিভাবে? ইন্টারনেটের যুগে মোবাইল ফেসবুক, টিভি ও অনলাইনে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার খবর আসলেই সাথে সাথে দাম বেড়ে যায়। কিন্তু কমানোর খবর এলে তো তারা কমায় না। এ কোন আজব দেশে বাস করছি আমরা।

সন্ধ্যার আগে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রফিকুল ইসলাম নামের এক স্কুল শিক্ষক জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে ১৫৫ টাকা দরে আধা কেজি পেঁয়াজ বাজার থেকে কিনেছি। আর আধা ঘন্টার পর সন্ধ্যায় পেঁয়াজ নিতে এসে দেখি ওই ডালিরই (বাঁশের ঢাকি) পেঁয়াজ ২২০ টাকা দরে বিক্রি করছে। এমনটি হলো কেন? এর সঠিক উত্তর নেই।

শুধু বিক্রেতাদের একটাই কথা, বাজারে পেঁয়াজ নেই, দাম বাড়ছে। রসিকতা করে ক্রেতারা বলে উঠলো, ‘হামরা আর পেঁয়াজ তরকারীতে দিয়া খাবার পাবার নই। ডালির পেঁয়াজ ডালিতেই আছে ৮০ টাকা পেঁয়াজের দাম হলো ২৪০ টাকা।’

ক্রেতারা আরো অভিযোগ করে বলেন, কিছু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে গত ৪ মাস ধরে পেঁয়াজের দাম লাগামহীনভাবে বাড়িয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত পেঁয়াজ রপ্তানী বন্ধ করছে ঠিকই, কিন্তু দেশে যেসব পিঁয়াজ উৎপন্ন হয়েছে সেগুলো গেলো কোথায়?

দেশের উৎপন্ন পেঁয়াজ হিমাগারে রয়েছে। সেগুলো বের করলেই এর চাহিদা লাঘব হবে বলে সচেতনমহল মনে করেন।

বাজারে ধান ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। সেখানে ১ কেজি পেঁয়াজ কিনতে আধা মণেরও বেশী ধান বিক্রি করতে হয়। কয়েকদিনের মধ্যে হয়তো ১মণ ধান বিক্রির টাকা দিয়েও ১ কেজি পেঁয়াজ মিলবে কিনা এ নিয়ে সংশয়ে রয়েছে কৃষকরা।