নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র-ছাত্রীদের অংশ গ্রহণে মঙ্গল শোভাযাত্রা।ছবি: সংগৃহীত

১৪ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলা বর্ষররণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেছেন, আমাদের মানবসম্পদ অত্যন্ত শক্তিশালী; বিভিন্ন দেশে মানবসম্পদ কমে যাচ্ছে। আমাদের জনশক্তিকে আগামী বিশ্বের জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে পারলে বিশ্ব আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে। আমরা কেবল জনসংখ্যায় অষ্টম বৃহত্তম দেশ হবো না, আমরা অথনীতিতে অন্যতম শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবেও সুপ্রতিষ্ঠিত হবো। আগামীতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আসবে, সেখানে প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক বেশী বেড়ে যাবে। সেই নিরিখে আমরা যাতে অন্যতম শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে টিকে থাকতে পারি এবং জনশক্তিকে সত্যিকারের মানবসম্পদে পরিণত করতে পারি-সে বিষয়ে সরকার খুবই সজাগ।

এছাড়া তিনি আশা প্রকাশ করেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা বিগত দিনের সব গ্লানি ও দু:খ মুছে ফেলে নতুনের উদ্দীপনায় উদ্দীপ্ত হবে। নবদিনের আনন্দ তাদের প্রেরণা যোগাবে। তার সারা বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নিজেরা সচেষ্ট থাকবে। এক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের যথোপযুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ডিজিটাল প্রযুক্তিতে শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করছে।

ড. মোমেন আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রধান দুটি সম্পদ রয়েছে-পানি সম্পদ ও মানব সম্পদ। এই দুই সম্পদকে কাজে লাগাতে পারলে তা আমাদের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারবে। মানবসম্পদকে কাজে লাগাতে পারলে আমরা অচিরেই আমাদের স্বপ্ন; বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারব। বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল, অসাম্প্রদায়িক দেশ যেখানে ধনী-দরিদ্রের আকাশসম ফারাক থাকবে না, প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা সবার জন্য নিশ্চিত হবে। আমাদের লক্ষ্যে এখনও পৌছাতে না পারলেও আমরা উন্নয়নের যে যাত্রা শুরু করেছি এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি, পারটেস্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি এম এ হাসেম বক্তৃতা করেন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র-ছাত্রীদের অংশ গ্রহণে মঙ্গল শোভাযাত্রা, যাত্রাপালা, লোকসঙ্গীত, লোকনৃত্য ও মেলাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আজকের পত্রিকা/এমআরএস