অ্যাওয়ার্ড নিচ্ছেন প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি : ইউনুস সেন্টার

সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত “গ্লোবাল সামিট অব উইমেন”-এ ২০১৯ গ্লোবাল উইমেন’স লীডারশীপ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হলো নোবেল লরিয়েট প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে।

ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে বিশ্ব ব্যাপী নারীদের ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র দূরীকরণে তাঁর যুগান্তকারী অবদানের জন্য এই পুরস্কার দেয়া হলো তাকে। তাঁর প্রবর্তিত ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ দরিদ্র নারী নিজেদের উদ্যোক্তায় পরিণত করে অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক মর্যাদা অর্জন করেছেন।

গ্লোবাল সামিট অব উইমেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন, ডিসি-ভিত্তিক গ্লোবাল উইমেন রিসার্চ এন্ড এডুকেশন ইনস্টিটিউটের একটি প্রকল্প যা বিশ্বব্যাপী নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা দিয়ে থাকে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তৃণমূল থেকে কর্পোরেট নেতৃত্ব পর্যন্ত সকল পর্যায়ে গবেষণা ও শ্রেষ্ঠ কার্যক্রমগুলোর তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।

পৃথিবীর ৬৫টি দেশ থেকে ১,২০০ এর অধিক ব্যবসায়ী ও সরকারী নেতৃবৃন্দ এ বছরের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন। উল্লেখ্য যে, গত ২৯ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এই শীর্ষ পর্যায়ের ব্যবসায় ও অর্থনৈতিক ফোরাম। এ বছরের শীর্ষ সম্মেলনের বিষয়বস্তু ছিল “সফলতার সংজ্ঞা পুনঃনির্ধারণে নারী।”

গ্লোবাল সামিট অব উইমেন এর লক্ষ্য সরকারি, বেসরকারি, অলাভজনক – সকল খাতে নারীদের উন্নয়নে কাজ করে যাওয়া পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নারী নেত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ প্রায়োগিক ও কৌশলগত কাজগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা, নিজেদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা, নারীদের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করা এবং নারীদের উন্নয়নে একটি বৈশ্বিক রূপকল্পের মধ্যেমে তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা। এটি একটি ব্যবসায়িক সম্মেলন যার মূল লক্ষ্য বিশ্ব অর্থনীতিতে নারীদের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করা।

এ বছরের শীর্ষ সম্মেলনে অন্তর্ভূক্ত কর্মসূচিগুলোর মধ্যে ছিল নারীদের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ ত্বরান্বিত করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন সফল কর্মসূচির উপর বিভিন্ন দেশের নারী মন্ত্রীদের নিয়ে একটি সম্মেলন-পূর্ব গোল টেবিল বৈঠক, অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে এলাকা-ভিত্তিক ও বৈশ্বিক এমন বৃহৎ প্রবণতাগুলো নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে প্লেনারী সেশন, নারী ও পুরুষ প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে আলোচনা ফোরাম এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে অর্থনৈতিকভাবে সফল নারী উদ্যোক্তাদের কৌশলগত দিক-নির্দেশনা।

সম্মেলনের বিশিষ্ট বক্তা ও অতিথিদের মধ্যে আরো ছিলেন এমসিএম হোল্ডিংস এজি-র চেয়ারপার্সন ও চীফ ভিশনারী অফিসার সুং জু কিম, আইবিএম ইউরোপের চেয়ারম্যান মার্টিন জেটার, ক্রেডিট সুইস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিন স্মিড, ব্যাংক অব নিউজিল্যান্ড এর পরিচালক মাই চেন, রেকিট বেনকাইজার যুক্তরাজ্যের প্রধান মানব সম্পদ কর্মকর্তা গুরবিন সিং, মুলার-মোহল গ্রুপের প্রেডিডেন্ট ক্যারোলিনা মুলার-মোহল, রেমি-লিং এর প্রধান নির্বাহী ইনগা লেগাসোভা, এগন জেন্ডার যুক্তরাজ্যের চেয়ারপার্সন জিল অ্যাডার, ফ্রান্সের মাননীয় শ্রমমন্ত্রী ম্যুরিয়েল পেনিকড, নামিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী মহামান্য সারা কুগোনজেলওয়া, কসোভোর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মহামান্য আতিফেত জাজাগা প্রমূখ।

২০১৯ শীর্ষ সম্মেলনের ৯ জন গ্লোবাল সদস্যর মধ্যে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব বিজনেস এন্ড প্রফেশনাল উইমেন এবং উইমেন’স প্রেসিডেন্টস অর্গানাইজেশন (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র), এবং এর ৬০টি আন্তর্জাতিক পার্টনারের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দেশের জাতীয় পর্যায়ের বাণিজ্য ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো।