মধুপুর আদর্শ নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়

প্রয়োজনীয় ভবন রয়েছে। আছে পর্যাপ্ত জায়গা। শিক্ষার্থীরা জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করছে। এরকম সব ধরনের শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও এমপিওভুক্ত হয়নি ফেনী পৌরসভাধীন মধুপুর আদর্শ নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়টি। প্রতিষ্ঠার ১৯ বছরেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই যুগ পার করলেও ফেনী পৌরসভার মধ্যে একমাত্র এ স্কুলটি নন এমপিও হিসেবে পড়ে আছে। জনপ্রতিনিধিরা বার বার প্রতিশ্রুতি দিলেও আলোর মুখ দেখেনি এ প্রতিষ্ঠানটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শহর থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দক্ষিণে পৌরসভার ১৪নং ওয়ার্ডে অবস্থিত মধুপুর আদর্শ নিম্মমাধ্যমিক বিদ্যালয়। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করে স্থানীয় সমাজসেবক আবদুল ওহাব মিয়া। ২০০২ সালে অষ্টম শ্রেণি পাঠদান ও ২০১৩ সালে নবম শ্রেণি পাঠদানের অনুমতি লাভ করে।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৩শ’ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এখানে ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখা চালু রয়েছে। প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল অর্জনে সক্ষম হচ্ছে। এখানে রয়েছে ১৩জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ২ জন কর্মচারী। কোলাহল মুক্ত পরিবেশে ৭০ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও আসবাবপত্র পর্যাপ্ত রয়েছে। আছে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলার মাঠ। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক কর্মচারীরা সকল প্রকার সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্ছিত হচ্ছে। বলা যায় তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

জানা গেছে, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী পৌরসভার মেয়র থাকাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ে ৪ কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মান করিয়ে দেন।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল ওহাব মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, এলাকার দরিদ্র মানুষকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার লক্ষ্যে ২০০০ সালে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠা করি। স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের পাঠদানসহ শিক্ষার গুণগত মান বজায় রেখেছে। শিক্ষার্থীরাও পাবলিক পরীক্ষায় ভালো ফল করছে। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় এর শিক্ষক-কর্মচারীরা আর্থিক-সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত করার জন্য তিনি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে জোর দাবী জানান।

প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক বিজন কান্তি মজুমদার জানান, চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তির জন্য শিক্ষামন্ত্রী বরাবর ডিও লেটার পাঠিয়েছেন। ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়, ২০০৩ সালে বিদ্যালয়টি জুনিয়র স্কুল হিসেবে অনুমোদন এবং ২০১৪ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কুমিল্লা থেকে মাধ্যমিক স্কুল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। অনুলিপিটি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী মো: সলিম উল্যাহ বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে শিক্ষার মান ও পরিবেশ দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

আলী হায়দার মানিক/ফেনী