এম. এ. আর. শায়েল
সিনিয়র সাব এডিটর

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি বিকালে দুর্বৃত্তদের গ্রেনেড হামলায় প্রাণ হারান শাহ এএমএস কিবরিয়া ও তার ভাতিজা শাহ মনজুরুল হুদাসহ তিনজন। এরই মাঝে কেটে গেছে ১৫টি বছর।

আজও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যার বিচার হয়নি।

নিহত অন্যরা হলেন, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী। আহত হন শতাধিক নেতাকর্মী।

আজও এ জঘন্য হত্যার বিচার না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে নিহতদের পরিবারে।

এদিকে, ঘটনার পরদিন ২৮ জানুয়ারি তৎকালীন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মজিদ খান এমপি বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করেন।

কিন্তু মামলাটির স্বাভাবিক তদন্ত না হয়ে দলীয় বিবেচনায় পরিচালিত হতে থাকে।

সিআইডির তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার মুন্সি আতিকুর রহমান মামলাটি তদন্ত করে ১০ জনের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২০ মার্চ অভিযোগপত্র দেন। পরে ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোকেয়া আক্তারের আদালতে তৃতীয় সম্পূরক অভিযোগপত্র দেন সিআইডি সিলেট অঞ্চলের সিনিয়র এএসপি মেহেরুন নেছা পারুল।

অভিযোগপত্রে নতুন ১১ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তারা হলেন, সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছ, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, মুফতি আবদুল হাই, মুফতি তাজউদ্দিন, মুফতি সফিকুর রহমান, মোহাম্মদ আলী, বদরুল, মহিবুর রহমান, কাজল আহমেদ, হাফেজ ইয়াহিয়া।

আসামিরা কে কোথায় : লুৎফুজ্জামান বাবর কারাগারে। মুফতি হান্নানসহ অন্য মামলায় তিন আসামির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। সিসিক মেয়র আরিফ, হবিগঞ্জ পৌরসভার তৎকালীন মেয়র জি কে গউছসহ জামিনে ১২ জন। হারিছ চৌধুরীসহ অন্যরা পলাতক।

মামলার সর্বশেষ অবস্থা : সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি কিশোর কুমার কর বলেন, নিহতের পরিবারের নারাজি আবেদন, অসহযোগিতা, বিচারক সংকট, আইনি জঠিলতা, আসামিদের অসুস্থতা ও নিরাপত্তাসহ নানা কারণে বিচারকাজ বিলম্বিত হচ্ছে। এসব জটিলতা না থাকলে আশা করি আগামী ২/৪ তারিখের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।

আহত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আবু জাহির এমপি এ সরকারের আমলে এর বিচার হবে বলে আশাবাদী। একই আশা মামলার বাদী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ খান এমপিরও।

আহতদের আর্তনাদ : এখনো পঙ্গু অবস্থায় জীবনযাপন করছেন অনেকে। সেই ভয়াল স্মৃতি এখনো তাদের তাড়িয়ে বেড়ায়।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আবু জাহির এমপি বলেন, ‘আমি বেঁচে থাকার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। ভারতে গিয়ে চিকিৎসা করে সুস্থ হলেও গায়ে গ্রেনেডের শত স্পিøন্টার। পায়ে স্টিল লাগানো। তবে আল্লাহর রহমতে বেঁচে আছি এটাই বড় কথা।’

ফিরে দেখা : ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি বিকালে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে ঈদ-পরবর্তী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তৎকালীন হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া। সভা শেষে সহকর্মীদের নিয়ে বৈদ্যের বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেটে আসামাত্র তাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। গ্রেনেডের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হন শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ অনেক নেতাকর্মী। স্থানীয় লোকজন ক্ষত-বিক্ষত কিবরিয়াসহ আহতদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হেলিকপ্টার চেয়েও পাওয়া যায়নি। পরে অ্যাম্বুলেন্সেই কিবরিয়া ও আবু জাহিরসহ আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু পথে শাহ কিবরিয়া মারা যান। তার মৃত্যুতে স্তম্ভিত হয়ে পড়ে গোটা জাতি। হরতাল-অবরোধে হবিগঞ্জ শহর কার্যত অচল হয়ে পড়ে।