রূপান্তরকামী নন। অভিনেতাও নন। কিন্তু তিনিই আলোচনায়। ভালবাসেন শাড়ি পরতে। মনে করেন, মেয়েলি নয় বরং শাড়ি পূর্ণমাত্রায় পুরুষদের পোশাক। তাই গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শাড়িই পরেন ভারতের হিমাংশু বর্মা। তিনি খেতাব পেয়েছেন ‘শাড়ি ম্যান’ হিসেবে। হিমাংশু মনে করেন, শাড়িতে পুরুষত্ব বিন্দুমাত্র খাটো হয় না। যদি হত, তাহলে অতীতের কোনো ভারতীয় পুরুষ, পুরুষ ছিলেন না। কারণ সেসময় মূল্যবান শাড়িই ছিল অভিজাত পুরুষের অঙ্গাবরণ। বেনারসী থেকে মসলিন, শাড়িকেই ধুতির মতো করে পরতেন রাজবংশীয়রা।

২০০৬ সাল থেকে শাড়ি পরছেন হিমাংশু। তার প্রিয় সম্ভাষণ, ‘জয় শাড়ি’। জীবনে প্রথমবার শাড়ি পরেছিলেন মায়ের থেকে নিয়ে। সেবার অবশ্য তাকে শাড়ি ‘পরতে হয়েছিল’। কিন্তু এরপর হিমাংশু শাড়ির প্রেমে পড়ে যান। শাড়ি নিয়ে বহু পড়াশোনা করেছেন। জেনেছেন ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের শাড়ির রকমফের। গবেষণায় দেখিয়েছেন, আদি থেকে মধ্যযুগ পর্যন্ত শাড়িকেই বিভিন্ন কায়দায় অঙ্গে জড়িয়েছেন ভারতবাসী, নারী পুরুষ নির্বিশেষে।

হিমাংশু মনে করেন, ক্রিয়েটিভিটির দিক দিয়ে শাড়ি অদ্বিতীয় পোশাক। শাড়ির উপরেই পরীক্ষা নিরীক্ষা সবথেকে বেশি করা যায়। তার কথায়, ভারতীয় নারী বা পুরুষদের জন্য শাড়ির মতো পোশাক আর হয় না। শাড়িকে তিনি বেছে নিয়েছেন চিন্তাভাবনা করেই। মেয়েরা যদি পুরুষদের পোশাক ক্যারি করতে পারে স্বচ্ছন্দে, তবে ছেলেদের স্টাইল স্টেটমেন্ট শাড়ি হবে না কেন? প্রশ্ন হিমাংশুর। তার ইচ্ছা, ভারতীয় পুরষ আগের মতোই শাড়িকে নিজের পোশাক করে নিক।

শাড়ির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের ভারতীয়দের দূরত্ব বাড়ছেই। এতে দুঃখ পান হিমাংশু। মনে করেন, শাড়ি না পরার জন্য অজুহাতের অভাব হয় না। গরমকাল বা শীতকাল, কোনো সময়েই শাড়ি পরতে চায় না আজকের প্রজন্ম। শাড়িকে পরম বন্ধু মনে করেন হিমাংশু। শুধু পোশাক নয়, তিনি মনে করেন, নিজের শরীরে জড়িয়ে রেখেছেন প্রাচীন ভারতের ঐতিহ্যকে। মানসিক অবস্থা খারাপ হলেও শাড়ি পরলেই হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পান বলে জানিয়েছেন ‘শাড়ি ম্যান’ হিমাংশু বর্মা। বিশ্বের কাছে তার স্লোগান, ‘জয় শাড়ি’।