আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত

মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ি আগামি ১০ বছরের মধ্যে বুড়িগঙ্গাকে একটি ভাল অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। ১৯ এপ্রিল শুক্রবার ঢাকায় হোটের সোনারগাঁওয়ে ‘রিভারস এন্ড ওয়াটার ট্যুরিজম ইন বাংলাদেশ: অপরচুনিটিজি এন্ড চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কারণেই নদীগুলো ধ্বংস হচ্ছে। বুড়িগঙ্গাকে বাঁচাতে চেষ্টা করছি। মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ি আগামি ১০ বছরের মধ্যে বুড়িগঙ্গাকে একটি ভাল অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই। উচ্ছেদ অভিযান অবৈধ দখলদারদের জন্য একটি মেসেজ।’ তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং  ভ্রমণ বিষয়ক ম্যাগাজিন ‘ভ্রমণ’ যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যটনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে কতটুকু তুলে ধরতে পেরেছি- সেটি আমাদের ভাবনার বিষয়। বিদেশের  সম্পর্কে জানি বলে বিদেশ ভ্রমণে আমাদের আগ্রহ বেশি। আমরা অনেকেই  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর ভবন দেখেছি, আবার অনেকেই দেখতে যেতে পারিনি। কিন্তু বিদেশিরা ঠিকই বঙ্গবন্ধুর  ভবনে যান, তারা বঙ্গবন্ধুর কর্মকান্ড দেখেন। তারা জানতে পারেন, বঙ্গবন্ধু কিভাবে দেশের স্বাধীনতার নেতৃত্ব দিয়েছেন।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে হবে। বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। নদীপথের সৌন্দর্য আমরা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারিনি। এখন চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন ক্ষরা, দুর্ভিক্ষ ও দরিদ্রতা নেই। প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন অনেক বেশি শক্তিশালি। নিজেদের অর্থে  আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে সরকারের চ্যালেঞ্জ ছিল বিদ্যুতের উন্নয়ন, সেটাতে আমরা সফল হয়েছি। এবারের চ্যালেঞ্জ হলো নদী। নদী তীর দখল ও দূষণরোধে কাজ করছি। ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ তৈরি করা হবে। নৌপথ তৈরির উদ্দেশ্য হলো পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটানো।  নৌপথ থাকলে পর্যটক আসবে। বাংলাদেশের মানুষের সক্ষমতা আছে, তাদের রুচির ও চয়েজের পরিবর্তন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে চিনেছেন, তিনি বিশ্বকে দেখেছেন চিনেছেন। পর্যটন শিল্পের বিকাশে সরকার কাজ করছে।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নদীগুলোকে নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ ভাবছে, নদীগুলোকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে- এট আমাদের বড় অর্জন। পর্যটনের বিষয়টি মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। এসব ক্ষেত্রে সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ ওভারকাম করতে পারব। তিনি পর্যটন খাতের বিকাশে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যটনের সাথে অর্থনীতির সম্পর্ক রয়েছে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে এক সময় বাংলাদেশের মানুষ পর্যটর নিয়ে ভাবতনা। এখন বাংলাদেশের মানুষ আর সে জায়গায় নেই। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন বেশ শক্তিশালী। পর্যটন নিয়ে  এখন তাদের ভাবার বিষয় আছে।

নৌপরবিহন সচিব মো: আবদুস সামাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান প্রণয় কান্তি বিশ্বাস, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর এম মাহবুব উল ইসলাম, ভ্রমণ ম্যাগাজিনের উপদেষ্টা নওয়াজিশ আলী খান, হোটেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আলমগীর এবং বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আখতারুজ জামান খান কবির।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো: বদরুজ্জামান ভূইয়া।

আজকের পত্রিকা/এমইউ/আ.স্ব