প্রথম মাচের মত এই মাচেও শতক এসেছে গাপ্টিলের ব্যাট থেকে। ছবিঃ ক্রিকবাজ

ঘুরে দাঁড়াতে পারলো না বাংলাদেশ। ক্রাইস্টচার্চেও সেই গাপটিলের কাছেই হার সফরকারীদের। বাংলাদেশের দেওয়া ২২৮ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড। প্রথম মাচের মত এই মাচেও শতক হাকান মার্টিন গাপ্টিল। সেই সুবাদে ১ ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিজেদের করে নিল নিউজিল্যান্ড।

বাংলাদেশের দেওয়া ২২৭ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রীতিমত স্বাচ্ছন্দ্যে খেলে, ৩৬.১ ওভারেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে গেলো স্বাগতিকরা। নেপিয়ারে প্রথম ম্যাচে যেমন গাপ্টিল সেঞ্চুরি করে অপরাজিত থাকলেন ১১৭ রানে। আজ তিনি আউট হয়ে গেলেও করলেন ১১৮ রান। নিউজিল্যান্ডের জয় এলো ৮ উইকেটে। পার্থক্য শুধু, আগের ম্যাচ জিততে লেগেছিল ৪৪.৩ ওভার। আর আজ লাগলো মাত্র ৩৬.১ ওভার। কেবল মোস্তাফিজুর রহমানই পারলেন কিউইদের গায়ে কিছুটা আঁছড় দিতে। আর কেউ পারেননি। ওপেনার হেনরি নিকোলস এবং সেঞ্চুরিয়ান মার্টিন গাপটিলের উইকেট তুলে নেন তিনি। আবার মোস্তাফিজের বলে দু’জনেরই ক্যাচ ধরেন লিটন দাস। দলীয় ৪৫ রানের মাথায় কিউইদের উদ্বোধনী জুটিতে ভাঙন ধরাতে সক্ষম হন মোস্তাফিজুর রহমান। হেনরি নিকোলস আউট হয়ে যাওয়ার পর কেন উইলিয়ামস আর মার্টিন গাপটিল মিলে গড়ে তোলেন ১৪৩ রানের বিশাল জুটি। তাদের দু’জনের এই জুটির কাছেই মূলতঃ হার মানতে বাধ্য হয় বাংলাদেশ। ২৮.৫ ওভারে দলীয় ১৮৮ রানের মাথায় মার্টিন গাপটিলের উইকেট নেন মোস্তাফিজ।এরপর বাকি কাজ শেষ করতে আর কোনোই বেগ পেতে হয়নি কেনে উইলিয়ামসন আর রস টেলরের। ৮৬ বলে ৬৫ রান করেন উইলিয়ামসন। ২১ রানে অপরাজিত থাকেন টেলর।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.৪ ওভারে ২২৬ রান তুলতেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। সিরিজ বাঁচানোর মিশনে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ের সূচনা করেন লিটন দাস। চতুর্থ ওভারে ট্রেন্ট বোল্টের প্রথম বলেই লকি ফার্গুসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান লিটন। যদিও লিটনের দুর্ভাগ্য। লেগ সাইডে শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ উঠলেও অনেক দুর দৌড়ে এসে ক্যাচটি তালুবন্দী করেন ফার্গুসন। লিটন আউট হওয়ার পর বেশীক্ষণ টেকেনি তামিম নিজেও। ব্যাক্তিগত ৫ রান করে সাঁজঘরের পথ ধরেন বাংলদেশের এই তারকা ওপেনার। ১৬ রানে ২ উইকেট পড়ার পর সৌম্য সরকার এবং মুশফিকুর রহীম কিছুটা প্রতিরোধের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। দু’জনের ব্যাটে ৩২ রানের জুটিও গড়ে ওঠে। কিন্তু কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের এক সাধারণ বল ড্রাইভ করতে গিয়ে আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন সৌম্য। এরপর মুশফিক মাহমুদুল্লাহর বিদায়ের বাংলাদেশের ভাঙ্গা ইনিংসে আসে আরও ভাঙ্গন। মোহাম্মদ মিঠুন এবং সাব্বির রহমানের জুটি কিছুটা আশা জাগিয়েছিল। দু’জনের ৭১ রানের জুটি মনে হচ্ছিল বাংলাদেশকে আজ হয়তো ভালো কিছু এনে দিতে পারে। সাব্বির রহমানও নিজের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে দারুণ ব্যাট করছিলেন। সঙ্গে মোহাম্মদ মিঠুন আগের ম্যাচের মতই সপ্রতিভ। টানা দুটি হাফ সেঞ্চুরিও এসে গেলো তার ব্যাট থেকে।তবে হাফ সেঞ্চুরির পর তার কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ব্যাটিংই প্রত্যাশা ছিল সবার; কিন্তু টড অ্যাসলের ইয়র্কার লেন্থের বলটি ডিফেন্স না করে তিনি কাট করতে চাইলেন। ফলাফল স্ট্যাম্পই উড়ে গেলো। ৬৯ বলে ৫৭ রান করে আউট হয়ে গেলেন মিঠুন। এরপর আর কেউ তেমন কোন প্রতিরোধ গড়তে না পারলে ২২৭ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
লকি ফার্গুসন সর্বোচ্চ ৩টি, টড অ্যাসলে এবং জিমি নিশাম নেন ২টি করে উইকেট। ম্যাট হেনরি, ট্রেন্ট বোল্ট ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম নেন ১টি করে উইকেট।

আজকের পত্রিকা/এসএমএস/এমএইচএস