ছবি: আজকের পত্রিকা

‘ও কারিগর,
দয়ার সাগর। ওগো দয়াময়,
চান্নিপসর রাইতে যেন আমার মরণ হয়।’

পূর্ণিমা চলে। যদিও নগরবাসীর সেসবের বালাই নেই। মফস্বলে টের পাওয়া যায় পূর্ণিমার আধিপত্য। অবাক জোছনা যখন হাত ইশারা করে ডাকে, তখন রক্তে ঝিমঝিম অনুভূতির অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়। প্রবল জোছনায় গা ভেসে গেলে আমার চট করে হুমায়ূন আহমেদকে মনে পড়ে যায়। কী ভীষণ ভালোই না বাসতেন চান্নি-পসর। এতোটাই মুগ্ধ ছিলেন তাতে যে তিনি চেয়েছিলেন অচেনা ভুবনের অনন্ত নক্ষত্রবিথীর দিকে যখন যাত্রা করবেন, তখন যেন চাঁদ তার সবটুকু রূপ মেলে ধরে। চন্দ্রকথা ছবির জন্য গান লিখেছিলেন-

‘বাহিরে চাঁন্দের আলো ঘর অন্ধকার
খুলিয়া দিয়াছি ঘরের সকল দুয়ার।
তবু কেন সে আমার ঘরে আসেনা
সে আমারে চিনে কিন্তু আমি চিনিনা।।
সে আমারে ঠারে ঠারে ইশারায় কয়
এই চাঁদের রাইতে তোমার হইছে গো সময়।
ঘর ছাড়িয়া বাহির হও ধরো আমার হাত
তোমার জন্য আনছি গো আইজ চাঁন্দেরও দাওয়াত।’

১৯ শে জুলাই! একটা মন খারাপের দিন। একটা হাহাকার আজীবনের মতো বুকে গেঁথে দেওয়া দিন। চ্যানেল আইতে বাজছে, ‘নামিবে আঁধার বেলা ফুরাবার ক্ষনে
মেঘ মল্লার বৃষ্টিরও মনে মনে
নামিবে আঁধার বেলা ফুরাবার ক্ষনে
মেঘ মল্লার বৃষ্টিরও মনে মনে।’

অসংখ্য ভক্ত ভেবে চলছে এটা হতে পারে না। এভাবে মৃত্যুর মতো জঘন্য বিষয়টায় তাদের স্যার হার মেনে যেতে পারেন না। বাংলাদেশের বিশাল একটা অংশ স্তব্দ হয়ে বসে টিভির সামনে। সবাই জানে যে একবার চলে যায়, সে আর ফিরে আসে না। তবুও যদি খবরটা ভুল হতো। সবাই ভাবে।

সময়টা বর্ষা ছিলো। বৃষ্টিতে হুমায়ূন আহমেদ রক্তে মাদকতা টের পেতেন। উনার একটি বৃষ্টিবিলাস। এছাড়া তার বইয়ে কোনো না কোনো ভাবেই বৃষ্টির কথা থাকতোই। প্রবল বৃষ্টিতে নুহাশপল্লীতে উনি নেমে যেতেন ভিজতে। বরং উনি ভিজতে না নামলে উনার স্টাফদের মান সম্মানই বজায় থাকতো না। নতুন কেউ আসলেই তারা বলতেন, ‘বৃষ্টি আসছে আর স্যার ঘরে বসা- এমন কখনো হবে না!’

বৃষ্টি নিয়ে হুমায়ূন লিখেছিলেন, ‘যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো চলে এসো এক বরষায়
ঝরঝর বৃষ্টিতে জলভরা দৃষ্টিতে
এসো কোমল শ্যামলও ছায়ায়
চলে এসো তুমি চলে এসো এক বরষায়
যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো এক বরষায়!’

হুমায়ূন আহমেদ! চলে আসবেন প্লিজ। কোনো না কোনো এক বরষায়। অনন্ত নক্ষত্রবীথি থেকে একটি বারের জন্য হলেও আসবেন স্যার।

লেখক: শৈলজা পরমান্ন