হিরো আলম, তার স্ত্রী সুমি ও সন্তান।

যৌতুকের জন্য মামলা করার পর আপোস নামা দাখিল করায় কারাবান্দি আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলমের জামিন চাওয়ায় বগুড়ায় আদালত তার স্ত্রী সাদিয়া আক্তার সুমি ও শ্বশুর সাইফুল ইসলামকে ভৎর্সনা করেছেন।

২৫ মার্চ সোমবার আপোসনামা জমা দিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন চাইলে শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ নরেশ চন্দ্র সরকার তাদের ভৎর্সনা ও জামিন নামঞ্জুর করেন।

আগামী ১৮ এপ্রিল ধার্য তারিখে হিরো আলমকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন। তার উপস্থিতিতে জামিন শুনানি হবে।

হিরো আলমের আইনজীবী মাসুদার রহমান স্বপন জানান, যৌতুক না পেয়ে নির্যাতন মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম তার জামাতা হিরো আলমের বিরুদ্ধে মামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। সমঝোতা হবার পর তিনি এ ব্যাপারে আদালতে এফিডেভিট করেন।

তিনি বলেন, সোমবার সাইফুল ইসলাম, তার মেয়ে সাদিয়া আক্তার সুমি ও তার দুই সন্তান আদালতে আসেন। সাইফুল ইসলাম আপসনামার ভিত্তিতে হিরো আলমের জামিন প্রার্থনা করেন।

সুমি আদালতকে জানান, তিনি হিরো আলমের সঙ্গে ঘরসংসার করবেন।

বাদী তার মেয়ে সুমিকে মারধর ও জামাই হিরো আলমের দ্বিতীয় বিয়ের প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হন। তখন আদালত তাদের দুজনকে ভৎর্সনা করেন। পরে বিচারক হিরো আলমের জামিন নামঞ্জুর করে আগামী ১৮ এপ্রিল জামিন আবেদনের পূর্ণাঙ্গ শুনানির দিন ধার্য করেন।

পুলিশ জানায়, যৌতুক না পেয়ে হিরো আলম গত ৫ মার্চ সন্ধ্যায় তার স্ত্রী সাদিয়া আক্তার সুমিকে মারপিট করেন। শ্বশুর সাইফুল ইসলাম মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। এছাড়া পরদিন সদর থানায় হিরো আলমের বিরুদ্ধে মামলা করলে পুলিশ তাকে থানায় ডেকে গ্রেফতার করে।

হিরো আলমকে ৭ মার্চ বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির কর হয়। তার পক্ষে অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান স্বপন জামিন চাইলে শুনানি শেষে বিচারক আহম্মেদ শাহরিয়ার তারিক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ১১ মার্চ অ্যাডভোকেট একেএম সাইফুল ইসলাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হিরো আলমের অন্তর্ববর্তীকালীন জামিন প্রার্থনা করেছিলেন। বিচারক জেলা ও দায়রা জজ নরেশ চন্দ্র সরকার শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করেন।

আজকের পত্রিকা/বগুড়া