নাটোরে চরক পূজা

নাটোরের লালপুর উপজেলার আড়বাব ইউনিয়নের হাসিমপুর সার্বজনীন মন্দির প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হলো চরক পূজা। দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে হাজরা উৎসব ও চড়ক পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

চড়ক পূজা উপলক্ষে এখানে গ্রাম্য মেলায় পরিণত হয়। তন্ত্র মন্ত্রকে সাধন করে সন্যাসীদের জিভ ফুটো করেন। এছাড়া একজন মানুষের পিঠে এবং একজন মানুষের হাতে ও পায়ে চারটি লোহার তৈরী বড়শি জাতীয় হুক লাগিয়ে দেন। এতে কারও কোন বিন্দু পরিমাণ রক্ত বের হয়না। চড়ক উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে অন্য ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিরা চরক দেখার জন্য সেখানে ভিড় জমায়।

হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বীরা চৈত্র সংক্রান্তিতে চড়ক উৎসব করে থাকেন। চৈত্র মাসের শেষে হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মূলতঃ এই পূজা করেন। তন্ত্র মন্ত্রকে সাধন করে সন্যাসীর মানতকারী ব্যক্তিদের মুখের জিহ্বায় লোহার শিক দিয়ে ফুটো করে দুই পাশে দুটো কাঁচা আম লাগিয়ে দেয়।

এছাড়াও শিশির গাছের তৈরী চরকে দুইজন মানুষ লোহার তৈরী বড়শি জাতীয় হুক লাগিয়ে চড়কির মতো ঘুরাতে থাকেন। সন্যাসী হরেন সরকার তন্ত্রমন্ত্রকে সাধন করে পিঠে বড়শি জাতীয় লোহার রড দিয়ে তৈরী হুক ঢুকিয়ে চড়কে ওঠেন। চড়কে চড়া সন্যাসীর কোলে মানতকৃত শিশুদের চড়িয়ে দেন। এছাড়া তার হাতে মানতের জন্য আনা বাতসা তুলে দেয়া হয়।

চড়কে চড়া ওই সন্যাসী বাতসা ছিটিয়ে দিলে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভক্তরা তা তুলে খেয়ে থাকেন। চড়কে চড়া ব্যক্তি চরক ঘুরানোর সময় ব্যাথা অনুভব না করে আনন্দ ও উল্লাস প্রকাশ করতে থাকেন। এসব নানা ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কসরত দেখানোর সময় তাদের শরীরে কিংবা জিহবায় ব্যাথা লাগেনা এবং রক্তও ঝড়েনা বলে জানান তারা।

হাসিমপুর শিব মন্দির কমিটির সভাপতি বৃন্দাবন মন্ডল এ বিষয়ে বলেন, ভগবানের সন্তুষ্টি লাভের আশায় মূলত এই চড়ক উৎসব হয়ে থাকে। এটা মূলত হিন্দু। ধর্মাবলম্বীদের একটা ধর্মীয় উৎসব।

আমাদের বাপ-দাদার সেই আমল থেকে চড়ক উৎসব করে আসছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে হাসিমপুরে এই উৎসব চলে আসছে। এখানে প্রতি বছরই চড়ক দেখতেআসা ভক্তদের সমাগম বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চড়ক উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসাহাক আলী নব-নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান। তিনি বক্তব্যে বলেন এই গ্রামের একমাত্র রাস্তাটির কার্যকর আগামি ছয় মাসের মধ্যে শুরু করা হবে। তবে পূজার প্রথম দিন বৃষ্টিতে রাস্তা খারাপের কারনে তেমন ভক্তদের আগমন না ঘটলেও দ্বিতীয় দিন হাজার হাজার ভক্তদের আগমন ঘটে। তাই হাসিমপুর গ্রামবাসীর একটাই দাবী যাতে খুব দ্রুত এই রাস্তাটা পাকা করে দেওয়া হয়।

পরিতোষ অধিকারী/নাটোর