হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে শিশুটির চিকিৎসা চলছে।ছবি:সংগৃহীত

ফরিদপুর জেলা শহরের নিলটুলতে অবস্থিত ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের পুরনো ভবনের তিন তলার ৩০৭ নম্বর কক্ষের ইনকিউবেটরে চিকিৎসা চলছে গত ১৫ মে জন্ম নেওয়া কন্যা শিশুর। শিশুটির অভিভাবকরা পালিয়ে যাওয়ায় শিশুটিকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মে সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের সুজয় নামের এক ব্যক্তি সংকটাপন্ন অবস্থায় সদ্যজাত ওই শিশুটিকে ফরিদপুর শিশু হাসপাতালে ভর্তি করান। সেই থেকে শিশুটিকে ইনকিউবেটরে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ওই হাসপাতালের নথিতে শিশুটির ঠিকানা বাবা সুজয়, গোপালগঞ্জ দেওয়া আছে। এর সাথে রয়েছে একটি মুঠোফোন নম্বর।
হাসপাতালের সেবিকারা জানায়, ওইদিন সন্ধ্যার দিকে শিশুটিকে নিয়ে এসে সুজয় নামে পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তি জানান তিনি শিশুটির বাবা। শিশুটির মা খুবই অসুস্থ হওয়ায় তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

গত ১৮ মে সকাল হতে সুজয় ও ওই নারী হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। তবে শিশুটির চিকিৎসা গত নয়দিন ধরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানেই চলছে অভিভাবক ছাড়াই। ওই হাসপাতালের শিশু কনসালটেন্ট মো. শফিউল্লাহ শিশুটির চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। শিশুটি কম ওজন (দুই কেজি) খিচুনি ও শ্বাস কষ্ট নিয়ে জন্ম নিয়েছে। এজন্য শিশুটিকে ইনকিউবেটরে রাখা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সালাহ্উদ্দিন জানান, বর্তমানে হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে শিশুটির চিকিৎসা চলছে। অন্য মায়েদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে শিশুটিকে পান করানো হচ্ছে। ওষুধসহ যাবতীয় সামগ্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করছে। তিনি বলেন, শিশুটির অভিভাবকদের খোঁজ পাওয়া না গেলে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে জানিয়ে এ ব্যাপারে আমাদের পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

আজকের পত্রিকা/ইয়াকুব আলী তুহিন/ফরিদপুর/রাফাত/শায়েল/জেবি