প্রামাণ্যচিত্র ‘অবলম্বন’ এর একটি দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

১৭তম হংকং এশিয়া ফিল্ম ফাইন্যান্সিং ফোরাম (হাফ) থেকে দুটি অ্যাওয়ার্ড জিতে নিয়েছে বাংলাদেশের নির্মাণাধীন পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র ‘অবলম্বন’। পুরস্কার দুটি হলো ‘জিটুডি পোস্ট প্রোডাকশন অ্যাওয়ার্ড এবং বাউটার বারেনদ্রেহ অ্যাওয়ার্ড’। আবিদ হোসেন খান পরিচালিত সরকারি অনুদানে নির্মাণাধীন ‘অবলম্বন’ ছবিটির প্রযোজনা করেছেন রুবাইয়াত হোসেন এবং আদনান ইমতিয়াজ আহমেদ। ছবিটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান খনা টকিজ।

এশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফিল্ম ফাইন্যান্সিং প্ল্যাটফর্মগুলির মধ্যে একটি হাফ। যেখানে চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক, পরিবেশক, বিনিয়োগকারী এবং ক্রেতাদের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ হয়। এ বছর হাফে বাংলাদেশ, চীন, হংকং, তাইওয়ান, ইরান, জাপান, মালয়েশিয়া, মঙ্গোলিয়া, ফিলিপাইন এবং দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার ১০টি দেশের ৩৫০টি ছবির প্রকল্প থেকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পায় ২৩টি ছবি। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের ছবি ‘অবলম্বন’ যার ইংরেজি নাম ‘বিলংগিং’।

বিনোদন দুনিয়ার অন্যতম ম্যাগাজিন ভ্যারাইটিতে এবারের ‘হাফ’এ গুরুত্ব পাওয়া ‘জাতিগত সংখ্যালঘু’ বিষয়ে নির্মিতব্য ‘অবলম্বন’ সহ দুটি প্রজেক্ট নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়। অন্য প্রজেক্টটি ইরানের জাতিগত সংখ্যালঘু সমস্যা নিয়ে নির্মিতব্য ‘জালাভা’। এছাড়া হলিউড রিপোর্টার পরিচালক আবিদ হোসেন খানের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। যেখানে তুলে ধরা হয়েছে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে পরিচালকের প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণের পেছনের গল্প।

হংকং-এশিয়া ফিল্ম ফাইন্যান্সিং ফোরাম (হাফ)- এর ১৭তম আসরে আমন্ত্রিত হয়ে অংশগ্রহণ করেন পরিচালক আবিদ হোসেন খান ও প্রযোজক আদনান ইমতিয়াজ আহমেদ। পুরস্কার ঘোষণার পর হংকং থেকে আদনান জানান, ‘ জিটুডি হলো ব্যাংকক ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান যারা আমাদের ছবিটির সাউন্ডের সামগ্রিক কাজ করে দেবে। আর বাউটার বারেনদ্রেহ অ্যাওয়ার্ড এর জন্য পঞ্চাশ হাজার হংকং ডলার নগদ অর্থ প্রদান করা হয় তরুণ নির্মাতাদের ছবিকে।’ ‘আমরা এখানে ওয়ান টু ওয়ান মিটিং করেছি। অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং তারা বেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন আমাদের প্রজেক্টের ব্যাপারে ।‘

উল্লেখ্য ২০১৭ সালে এই ফোরামে নির্বাচিত হয়েছিল বাংলাদেশি নির্মাতা ও ‘অবলম্বন’-এর প্রযোজক রুয়াইয়াত হোসেনের পরিচালিত মেড ইন বাংলাদেশ ছবিটি।

বাংলাদেশে অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের উপজীব্য করে গতবছর অগাস্ট মাসের শেষে ছবিটির কাজ আরম্ভ হয়। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দ্বারা শুরু হওয়া গণহত্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। ২৬ তারিখেই পরিচালক আবিদ হোসেন খান সেখানে চলে যান এবং গবেষণার পাশাপাশি সীমান্ত পার হয়ে আসা কয়েকটি পরিবারকে অনুসরণ করতে থাকেন। এদেরই একটি পরিবারকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘অবলম্বন’।

রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচিত মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলমান নাগরিকদের উপর তাদের সরকার, সামরিক বাহিনী ও বৌদ্ধ চরমপন্থীদের পর্যায়ক্রমিক সহিংসতা ও নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে সম্প্রতি প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ভাগ্যাহত মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং ১৯৭৮ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে আরও প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়। নিজের শেষ অবলম্বনটুকুও ফেলে আসা বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত এই দেশান্তরী উদ্বাস্তু মানুষগুলো জান ও সম্ভ্রম বাঁচাতে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে নতুন করে অবলম্বন খোঁজে। তাদের আশা-নিরাশা আর নিজের দেশে নির্যাতিত হওয়ার গভীর সংবেদনশীল উপস্থাপনই ‘অবলম্বন’।

নবীন পরিচালক আবিদ হোসেন খান এর আগে খানা টকিজ থেকে ‘সিদ্ধার্থ অনুসৃত ২০টি চলমান দৃশ্য’ নামক একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন যেটি ব্রাজিলের রিও ডি জানেইরো কুর্তা সিনেমা উৎসবে প্রদর্শিত হয়। ‘অবলম্বন’ পরিচালকের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।

আজকের পত্রিকা/এমআরএস/জেবি