মাহমুদ উল্লাহ্‌
বিজনেস করেসপন্ডেন্ট

হাতিল ফ্যাত্টরি পরিদর্শন। ছবি: হাতিল

খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, বাংলাদেশে আসবাবপত্র শিল্প সীমাবদ্ধ ছিল মূলত ছোট আকারের উৎপাদনের মধ্যেই। আধুনিক ফার্নিচারের প্রচলনও ছিল সীমাবদ্ধ। আর সেখান থেকে পরবর্তী ধাপে উত্তরণ ও প্রসারের অন্যতম পথিকৃৎ হচ্ছে হাতিল।

একই সাথে আধুনিক ফার্নিচারের জনপ্রিয়তা সৃষ্টি এবং এই ফার্নিচার উৎপাদনে উৎকর্ষতা আনা এই দুটি ক্ষেত্রেই দক্ষিণ এশিয়ায় হাতিল অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আর এখান থেকেই তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশি ফার্নিচারের বিশ্ববাজার।

সাভারের জিরানীবাজারে অবস্থিত হাতিলের ফ্যাক্টরিটি প্রায় ২০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এখানে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের। এ কারণেই উৎপাদন ক্ষমতার দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃৃহৎ উডেন ফার্নিচার তৈরির ফ্যাক্টরির মর্যাদা পেয়েছে হাতিলের এই ফ্যাক্টরিটি। জার্মানি, ইতালি, জাপান ও আমেরিকার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে সাজানো হয়েছে হাতিলের এই ফ্যাক্টরি। প্রতি মাসে ৪৮ হাজার পিস ফার্নিচার তৈরি করতে সক্ষম ফ্যাক্টরিটি। হাতিলের উৎপাদিত ফার্নিচার দেশের সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের ১৭টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

জার্মানিভিত্তিক কনসাল্টিং প্রতিষ্ঠানের পরামর্শে সাজানো হয়েছে হাতিলের এই ফ্যাক্টরির উৎপাদন পরিকল্পনা কাজের ধারাবাহিকতা এবং যন্ত্রপাতি। উৎপাদন পরিকল্পনা, কাজের ধারাবাহিকতায় উৎপাদন বাড়ানো, আসবাবপত্রের স্থায়িত্ব বাড়ানো এবং ফিনিশিংয়ের গুণগত মান উন্নত করার জন্য রয়েছে অত্যাধুনিক সিএনসি মেশিন, নেস্টিং মেশিন, রোবটিক কাটিং মেশিন, বেন্ড মেশিন, রোবটিক স্প্রে এবং ইউভি কিউরিং মেশিনসহ পূর্ণাঙ্গ লাইন।

কাঠনির্ভর ফার্নিচারের বৃহদাকার উৎপাদনের এই সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে হাতিল ফার্নিচার রফতানি করছে দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, নেপাল ও ভুটান এবং আমেরিকা, কানাডা, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কুয়েত, মিসর ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে। ক্রেতার পছন্দনীয় ডিজাইনের ফার্নিচারের পাশাপাশি হাতিল নিজস্ব ডিজাইনের আসবাবপত্র বিক্রি করছে দেশের বাজারে এবং দেশের বাইরে হাতিলের ১৭টি আউটলেটে। বাংলাদেশ থেকে আসবাবপত্র রফতানিতে দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছে হাতিল। এ কারণে আসবাবপত্র রপ্তানির প্রায় ৭০ ভাগই হাতিলের দখলে, যার মাধ্যমে হাতিল দেশের জন্য বয়ে আনছে বৈদেশিক মুদ্রা।

অটোমেটিক মেশিনে আসবাবপত্র তৈরি। ছবি: হাতিল

আমেরিকা এবং জার্মানি সহ বিভিন্ন দেশ থেকে সলিড কাঠ আমদানি করে যেমন ফার্নিচার তৈরি করছে হাতিল, তেমনি এর ফ্যাক্টরিতেই উৎপাদিত হচ্ছে ফোম, প্লাইউড এবং পার্টিকেল বোর্ড সহ আরো অনেক কাঁচামাল। এ ধরনের পশ্চাৎমুখী উৎপাদনের পাশাপাশি এই ফ্যাক্টরিতে মেটাল প্রসেসিং, ডোর ম্যানুফ্যাকচারিং ইত্যাদি সুবিধা থাকায় হাতিলকে বলা যায় দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে সমন্বিত ম্যানুফ্যাকচারার। উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে তৈরি হওয়া কাঠ পূর্ণঃপ্রক্রিয়াকরণ সুবিধা এবং অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে ডাস্ট কন্ট্রোল করার ফলে ফ্যাক্টরিটি যথেষ্ট পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব। এছাড়া কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে হাতিলকর্মীদের সন্তানদের জন্য রয়েছে একটি আধুনিক স্কুল।

‘স্লিম ইজ স্মার্ট’ স্লোগান নিয়ে শুরু হয়েছিল আধুনিক ফার্নিচার তৈরির ক্ষেত্রে হাতিলের পথ চলা। অনেক খোদাই করা এবং বৃহদাকৃতির ফার্নিচার থেকে বেরিয়ে হাতিল বরাবরই চেষ্টা করেছে প্রয়োজনের সাথে সমন্বয় রেখে বাহুল্য বজিত আসবাব তৈরি করতে। আধুনিক এই ডিজাইন ধারা সারা বিশ্বে একইভাবে সমাদৃৃৃত।

এ প্রসঙ্গে হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘আসবাবপত্র তৈরিতে দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠতা এবং অভিজ্ঞতা আমাদের সাহসী করছে বিশ্বমানের ফ্যাক্টরি তৈরিতে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশের তৈরিকৃত ফার্নিচার রফতানি হচ্ছে সারা বিশ্বে, তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা।’

সমসাময়িক বিশ্বে রিটেলারদের খরচ বৃদ্ধি পাওয়া একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। আর এই প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ওঠার মূল লক্ষ্য অর্জনে হাতিল তৈরি করেছে দেশের প্রথম পরিপূর্ণ ভার্চুয়াল শোরুম ‘হাতিল-ভি’। থ্রিডি ভিউয়ের মাধ্যমে স্বল্প পরিসরে এই শোরুম করা যায় এবং হাতিলের সকল পণ্য ক্রেতারা অনায়াসে দেখে পছন্দ করতে পারবেন।

সাংবাদিকদের নিয়ে হাতিলের কারখানা পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান, পরিচালক (বিপনন) মশিউর রহমান, পরিচালক (উৎপাদন) শফিকুর রহমান, অ্যাডভাইজার (বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) দেওয়ান আতিফ রশিদ, জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) ফিরোজ আল মামুন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, হাতিল কমপ্লেক্স লিমিটেড একটি ফার্নিচার উৎপাদন ও বিপণন প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ সহ বিশ্বের ১৭টি দেশে ফার্নিচার বিক্রি করছে। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। হাতিল সরাসরি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে ২ হাজার ৩০০ মানুষের। এছাড়া আরো ২ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে হাতিলকে ঘিরে। প্রতি মাসে উৎপাদন করছে ৪৮ হাজার ফার্নিচার।

আজকের পত্রিকা/এমইউ