হাটু ব্যথা। ছবি: প্রতীকী

হাটুর ব্যাথায় চলাফেরার স্বাভাবিক ছন্দ, গতি কি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে? হাঁটুর ব্যাথা কি আপনাকে ক্রমশ নড়বড়ে করে দিচ্ছে? আসলে শরীরচর্চার ঘাটতি, অনিয়মিত ডায়েট, ক্যালসিয়ামের অভাবে ধীরে ধীরে এই সমস্যা বাড়তে থাকে। প্রথমটায় হাঁটুর ব্যথাকে আমরা অনেকেই তেমন গুরুত্ব দিতে চাই না। পরে যখন পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে যায়, তখন কড়া কড়া ওষুধের দ্বারস্থ হই আমরা। তাই এই ব্যাথায় ওষুধের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আগেই ব্যবস্থা নিন। জেনে নিন ঘরোয়া পদ্ধতিতে হাটু বা কনুই বা গোড়ালির ব্যথা উপশমের কয়েকটি সহজ উপায়…

১) হলুদ আর আদার মিশ্রণ: ২ কাপ পানির সঙ্গে হলুদ আর আদা ফুটিয়ে নিন। গরমে ফুটে যখন মোটামুটি আধ-কাপের মতো হয়ে যাবে তখন সেটিকে আঁচ থেকে নামিয়ে হলুদ-আদার ওই মিশ্রণে ১ চামচ মধু মিশিয়ে নিন। দিনে অন্তত বার দুয়েক করে এই দ্রবন খেতে পারলে পেইন কিলার ছাড়াই হাট বা গোড়ালি বা কনুইয়ের ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে।

২) লবন পানির সেঁক: এপসম সল্ট বা ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সমৃদ্ধ সৈন্ধব লবন যে কোনও ব্যথা-বেদনার উপশমে অত্যন্ত কার্যকরী। ছোট এক কাপ সৈন্ধব লবন পানির মধ্যে গুলে নিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এ বার সেটা ফুটিয়ে ব্যথার জায়গায় ৩০-৪০ মিনিট ধরে সেঁক দিন। এই ভাবে নিয়মিত সেঁক দিলে ব্যথায় দ্রুত উপকার পাওয়া যেতে পারে।

৩) ঠান্ডা-গরম সেঁক: গরম পানি ‘হট ওয়াটার ব্যাগ’-এ করে ব্যথার জায়গায় ৫ মিনিট সেঁক দিন। জায়গাটা গরম হয়ে উঠলে সেখানে বরফ ঘষে মালিশ করুন। এই পদ্ধতিতে মোটামুটি ৩০ মিনিট গরম-ঠান্ডা সেঁক দিন। দেখবেন, ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে।

৪) মেথি: যে কোনও জ্বালা-যন্ত্রণা দ্রুত কমাতে মেথি অত্যন্ত কার্যকরী। হাটুর ব্যথায় কষ্ট পেলে নিয়মিত সামান্য উষ্ণ জলে মেথি ভিজিয়ে খেয়ে দেখুন। সারা রাত এক গ্লাস পানি মেথি ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে ওই মেথি ভেজানো জল খেলেও হাটুর ব্যথায় উপকার পাওয়া যেতে পারে।

৫) মরিচ গুঁড়া আর নারকেল তেলের মিশ্রণ: চিকিৎসকদের মতে, হাটুর ব্যথা কমাতে ক্যাপসাইসিন অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান। লাল মরিচে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে এই ক্যাপসাইসিন। আধ-কাপ নারকেল তেলে ২ চামচ মরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে ব্যথার জায়গায় অন্তত ২০ মিনিট মালিশ করুন। এর পর উষ্ণ জলে জায়গাটা ভাল করে পরিষ্কার করে ফেলুন। দিনে অন্তত ২-৩ বার এই পদ্ধতিতে মালিশ করলে হাটুর ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে।

৬) গাজর-লেবুর মিশ্রণ: দু’টো মাঝারি মাপের গাজরের রস করে তাতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে সেটি খালি পেটে খেয়ে নিন। নিয়মিত এই মিশ্রণ খেলে অল্প সময়ের মধ্যেই হাটুর ব্যথায় উপকার পাওয়া যেতে পারে।

৭) পিপারমিন্ট আর ইউক্যালিপটাস তেল: ব্যথা নিরাময়ের ক্ষেত্রে পিপারমিন্ট এবং ইউক্যালিপটাস তেলের জুড়ি মেলা ভার! ৫-৬ ফোঁটা পিপারমিন্ট আর ইউক্যালিপটাস তেলের সঙ্গে নারকেল, ওলিভ বা আমন্ড তেল মিশিয়ে ব্যথার জায়গায় নিয়মিত মালিশ করলে হাটুর ব্যথায় দ্রুত আরাম পাবেন।

আজকের পত্রিকা/এমইউ