হাজার হাজার নারীর সমাগমে ডোমারে ১১০তম বউ মেলা সম্পূর্ণ

কাজলী রানী (৩০)। শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমীর পরের দিন বাড়ির পাশে নিমোজখানা হাট দূর্গা মন্ডব মাঠে মেলায় এসেছেন কেনাকাটা করতে। কিনেছেন শাশুড়ির জন্য শাড়ি, শ্বশুরের জন্য গিতা, স্বামির জন্য পাঞ্জাবী, ছয় বছরের আদরের ছোট মেয়েটির জন্য লাল টুকটুকে একটি জামা, চুরি, আলতা। মনের আনন্দে কেনাকাটা করায় ভুলেই গেছেন নিজের জন্য কিছুই কেনা হয় নি।

ততক্ষনে টাকাও শেষ। তাতেও কোন আক্ষেপ নাই। বছরের এই একদিনেই তো নিজের খেয়াল-খুঁশি মতো পরিবারের সবার জন্য পছন্দ করে কিছু কিনতে পারে। এতেই পরম খুশি কাজলী রানী। নিজের সন্তুষ্টির কথা গুলো পরম আনন্দে বলছিল। কাজলীর মতো বাসন্তী, দেবযানী, মায়া, সান্তনা রানীও এসেছেন ১১০ তম ঐতিহ্যবাহী বউ মেলায়। তারাও কিনেছেন নিজের পছন্দমতা। এই বউ মেলায় দুই হাজারেরও বেশী নারীর পদচারনায় মুখোরিত হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গন।

মেলার উপদেষ্টা বাবু দিনেশ চন্দ্র রায়, সভাপতি ভবেন্দ্রনাথ রায় ও সম্পাদক অমুল্য অধিকারী জানান, আগের দিনে গ্রাম গঞ্জের রাস্তা-ঘাট ও যান-বাহন তেমন না থাকায় পায়ে হেটে দুর দুরন্তের পুজামন্ডব পরিদর্শন করা দূঃসাধ্য ছিলো। তাই আমাদের বাপ-দাদারা মহিলাদের বিনোদনের জন্য ১৯০৯ইং সালে প্রথম এ মেলার আয়োজন করে। যা বউ মেলা নামে পরিচিত। এ বছর মেলার ১১০ বছর পূর্ণ হলো। তারা জানান, এ বউ মেলায় শুধুমাত্র নারীরাই এসে কেনাকাটা ও আনন্দ উপভোগ করে। এখানে কোন পুরুষ মানুষ আসার নিয়ম নেই।

শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমীর পরের দিন বিকাল হতে মধ্যরাত পর্যন্ত ডোমার উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসে কয়েক হাজার নারী। তারা একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় করে একে অপরকে মেলায় মিষ্টি মন্ডাসহ বিভিন্ন উপহার বিনিময় করেন। যা শত বছর থেকে চলে আসছে। মেলটি দেখার জন্য হিন্দুধর্মালম্বী নারী ছাড়াও অন্য ধর্মের নারীরাদেরও উৎসুক উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এতে মেলা প্রাঙ্গন সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির মিলন মেলায় পরিণত হয়।

ইয়াছিন মোহাম্মদ সিথুন/নীলফামারী