সুনামগঞ্জের হাওর

সুনামগঞ্জের হাওরে বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় ৩৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগপত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রকৌশলী, কর্মকর্তা, ফসল রক্ষা বাঁধের কাজের ঠিকাদারদের আসামি করা হয়েছে। তবে অভিযোগে পাউবোর ৩ প্রকৌশলী, ৩ সেকশন কর্মকর্তা ও ২৮ জন ঠিকাদার বাদ পড়েছেন।

১০ ফেব্রুয়াারি কমিশনের সভায় অভিযোগপত্র অনুমোদন দেওয়া হয়। শিগগিরই বিচারিক আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য।

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২ জুলাই সুনামগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক ফারুক আহমেদ। মামলায় আসামি করা হয় ৬১ জনকে। একই কর্মকর্তা তদন্ত শেষে এজাহারভুক্ত ৩৪ জনকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নতুন ৬ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে কমিশনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। মোট ৩৩ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন দেয় কমিশন।

দুদক বলছে, আসামিরা দেওয়ানি অপরাধের পাশাপাশি ফৌজদারি অপরাধ করেছেন বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, ১৯ জন ঠিকাদার ও পাউবোর ১৪ কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে প্রতিবছর বন্যা আসার সময় ও আশঙ্কা সর্ম্পকে অবহিত থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি ৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। তাদের অর্থ আত্মসাৎ ও অবহেলার কারণেই হাওর অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় কৃষক ও জনসাধারণের আর্থিক ক্ষতি হয়।

এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে ২৭ জন অভিযোগপত্রে আসামি হয়েছেন। তারা হলেন, সুনামগঞ্জে পাউবোর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আফছার উদ্দীন, সাবেক উপবিভাগীয় প্রকৌশলী খলিলুর রহমান, সাবেক সেকশন কর্মকর্তা মো. শহিদুল্লাহ, ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ খান, খন্দকার আলী রেজা, মো. শাহ আলম, মোহাম্মদ মাহমুদুল করিম, মো. মোছাদ্দেক ও সজিব পাল।

ঠিকাদারদের মধ্যে গুডম্যান এন্টারপ্রাইজের আফজালুর রহমান, এলএন কনস্ট্রাকশনের পার্থ সারথী পুরকায়স্থ, শেখ মো. মিজানুর রহমান, মাহবুব এন্টার প্রাইজের আবুল মহসীন মাহবুব, নিয়াজ ট্রেডার্সের নিয়াজ আহমেদ খান, প্রীতি এন্টার প্রাইজের মিলন কান্তি দে, আরআর ট্রেডিংয়ের খান মো. ওয়াহিদ রনি, সোয়েব এন্টারপ্রাইজের সোয়েব আহমেদ, ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের মো. ইউনুস, মো. আবদুল কাইয়ুম, আতিকুর রহমান, গোলাম সরোয়ার, নুরুল হক, শাহরিন হক মালিক, মোকসুদ আহমেদ, নুনা ট্রেডার্সের সাইদুল হক, এসআই প্রাইভেট লিমিটেডের কাজী হাসিনা আফরোজ ও শেখ আশরাফ উদ্দিন।

তদন্তে আরও ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন সাবেক উপবিভাগীয় প্রকৌশলী লিংকন সরকার, রঞ্জন কুমার দাস ও অনিক সাহা, সাবেক সেকশন কর্মকর্তা ইমরান হোসেন, নিহার রঞ্জন দাস এবং ঠিকাদার ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের মো. শরিফুল ইসলাম।
তদন্তে বাদ পড়েছেন পাউবোর ৩ প্রকৌশলী, ৩ সেকশন কর্মকর্তা ও ২৮ জন ঠিকাদার। বাদ পড়া প্রকৌশলীরা হলেন, সুনামগঞ্জ পাউবোর সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম সরকার, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হাই ও সাবেক উপবিভাগীয় প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস। সাবেক তিন সেকশন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, বরকত উল্লাহ ভূইয়া ও জাহাঙ্গীর হোসেনও বাদ পড়েছেন অভিযোগপত্র থেকে।

ঠিকাদারদের মধ্যে খন্দকার শাহীন আহমেদ, জিল্লুর রহমান, সজিব রঞ্জন দাস, এম এ হান্নান, খায়রুল হুদা চপল, কামাল হোসেন, কাজী নাছিমুদ্দিন, খন্দকার আলী হায়দার, আকবর আলী, রবিউল আলম, আবুল হোসেন, শিবব্রত বসু, মোজাম্মেল হক মুন, বাচ্চু মিয়া, বিপ্রেশ তালুকদার বাপ্পি, জামিল ইকবাল, চিন্ময় কান্তি দাস, খাইরুজ্জামান, মফিজুল হক, মোখলেছুর রহমান, রেনু মিয়া, শামসুর রহমান, আবদুল মান্নান, মাহতাব চৌধুরী, লুৎফুল করিম, হাজি মো. কেফায়েতুল্লাহ, হুমায়ুন কবির ও ইকবাল মাহমুদ এজাহারে আসামি থাকলেও অভিযোগপত্র থেকে বাদ পড়েছেন।

২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল দুদকের পরিচালক বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে টিম কাজ শুরু করে। এই টিমের সদস্যরা হলেন উপ-পরিচালক আবদুর রহিম, সহকারী পরিচালক সেলিনা আক্তার মনি, সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ এবং উপ-সহকারী পরিচালক নেয়ামুল কাজী।