পুতুলখেলার বয়সে এই শিশুগুলোর হাতে ছিল ধর্ষিত ও নিহত সহপাঠীর হত্যার বিচার চেয়ে লেখা প্ল্যাকার্ড। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ওয়ারীর বনগ্রামে ৭ বছরের শিশু সামিয়া আক্তার সায়মাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় উত্তাল হয়ে আছে পুরো দেশ। স্তম্ভিত সবার একটাই প্রশ্ন- এটুকু এক শিশুকে দেখে কীভাবে কারো যৌন আকাঙ্ক্ষা জাগে? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে প্রতিটা ঘরে ঘরেই এখন উদ্বিগ্ন মানুষ। আতঙ্কিত শিশুর বাবা-মায়েরা।

এ ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে পথে নেমেছিল সায়মার সহপাঠী ও ওয়ারির সিলভারডেল স্কুলের ছোট্ট ছোট্ট শিশুরা। পুতুলখেলার বয়সে নার্সারি পড়ুয়া এই শিশুগুলোর হাতে ছিল ধর্ষিত ও নিহত সহপাঠীর হত্যার বিচার চেয়ে লেখা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড। সায়মার সহপাঠীদের ওই প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় দাঁড়ানোর ছবি বাকরুদ্ধ করেছে সমাজের নানা স্তরের মানুষকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে পড়া ওই ছবি নিয়ে লিখেছেন নির্মাতা ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন।

নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি পোস্ট দিয়ে শাওন লিখেন, ‘এই বাচ্চাগুলো ফাঁসি বোঝে? হত্যাকারী বোঝে? ধর্ষণ বোঝে? কী দূর্ভাগা বাবা-মা আমরা! যে হাতের মুঠোয় বারবি ডল থাকার কথা, সে হাতে ফাঁসির দাবী নিয়ে রাজপথে নামতে হয়েছে!’

এছাড়া কন্যাশিশুর মায়েদের উদ্দেশ্য করে শাওন লিখেন, ‘কন্যাশিশুর মা’য়েরা, হাঁটতে শেখানোর পাশাপাশি আত্মরক্ষার জন্য কন্যাকে ‘তায়কোয়ান্ডো’, ‘কারাতে’, ‘কিকবক্সিং’, ‘জুডো’, ‘জিউ জিতসু’ এসব শেখান। অসৎ স্পর্শের ইঙ্গিত পেলেই যেন জায়গামতো মেরে তক্তা বানিয়ে দেয়।’

যে কোনো মেয়ে সন্তানের বাবা-মায়ের জন্য সায়মা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা একটি মারাত্মক দুঃস্বপ্ন, এই ছবিটিও সেটারই অংশ। যে কোনো গর্ভধারিণীর মতো শাওনও পারেননি বেশিক্ষণ ছবিটির দিকে তাকিয়ে থাকতে। এটা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘এই ছবিটা গতকাল সারাদিন ফেসবুকে ঘুরেছে। আমি তাড়াতাড়ি স্ক্রল করে সরিয়ে ফেলেছিলাম। আজ খুঁজে বের করে নিজের দেয়ালে টাঙিয়ে রাখলাম। দুই হাত দিয়ে সামিয়া’র নামের উপরের অংশটা শক্ত করে ধরা মাঝখানের বাচ্চাটার চোখগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিলাম এতক্ষণ। এই দৃষ্টির কোনো জবাব কি আছে আইনের হাতে?’

স্ট্যাটাসের শেষে হ্যাশট্যাগ দিয়ে তিনি #নুসরাতের_কথা_ভুলে_গেছি এবং #we_want_justice_for_all_rape_victims বাক্য দুটিও লিখেছেন।

আজকের পত্রিকা/সিফাত