এম. এ. আর. শায়েল
সিনিয়র সাব এডিটর

আদালত। প্রতীকী ছবি

হবিগঞ্জ বিআরটিএ অফিসে দালালদের উপদ্রব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের খপ্পরে পড়ে সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়ে বাড়ী ফিরছে।

রবিবার রাত ৮টায় বিআরটি অফিসের সামন থেকে দুই দালালকে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করলে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

আটকরা হলো- মিঠামইন উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের ও বর্তমানে পুরাতন মুন্সেফী এলাকার বাসিন্দা মৃত জহুর আলী চৌধুরীর পুত্র রেজাউল হাই চৌধুরী পাঞ্জু (৪০) ও নবীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব তিমিরপুর গ্রামের মৃত শুকুমার চন্দ্র সরকারের পুত্র সুকেশ চন্দ্র সরকার (৩০)।

ওই সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদির হোসেন শামীম ও সদর থানার এসআই সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই অফিসের সামন থেকে তাদেরকে আটক করেন।

পাঞ্জুকে একমাসের কারাদণ্ড ও সুকেশ চন্দ্র সরকারকে ১০ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য ঘুষ দিলেই মেলে ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ির কাগজপত্র। আর না দিলে পরিকল্পিত ভাবে ড্রাইভিং পরীক্ষায় ফেল করানো হয়। প্রতিনিয়ত এমন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে হবিগঞ্জ বিআরটিএ (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি) কার্যালয়ে গাড়ির কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আসা সাধারণ মানুষকে। এমন অভিযোগ অনেকেরই।

হবিগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ের দুর্নীতি ও ঘুষবাজদের হাতে যেন জিম্মি হয়ে পড়েছে । আর এরসবই হচ্ছে খোদ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এর নিচ তলায় অবস্থিত হবিগঞ্জ জেলা বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালকের কার্যালয়ে।

আর এইসব বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দেখা যায়, এসব দালালদের পরোক্ষ ভাবে তাদের সাথে জড়িত বিআরটিএ’র অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এমন কী অফিস পিয়ন পর্যন্ত।

মামলা থেকে বাঁচতে গাড়ি ছাড়াতে সবাই ছুটে যাচ্ছে হবিগঞ্জ জেলা বিআরটিএর কার্যালয়ে। এ সময়ের ফায়দা লুটতে স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ঘুষ বাণিজ্যের রমরমা দোকান ব্যবসা খুলে বসেছেন। এতে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন গাড়ির কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আসা মানুষ।

সরজমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বিআরটিএ কার্যালয়ে মোটরসাইকেল ও হালকা যানের ড্রাইভিং লাইসেন্সের রানার এর জন্য ব্যাংকের মাধ্যমে প্রথমে জমা ৫৩৮ টাকা দিতে হয়। এরপর ড্রাইভিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আরো ২৩০০শ’ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হয়। সব মিলিয়ে গ্রাহকের ২৮৩৮ টিকা বৈধ ভাবে খরচ হওয়ার কথা। (বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার ১০% যে বারানো বাড়িয়েছেন” হিসাব ব্যতীত)।
কিন্তু সরকারী নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে, তার স্থলে একজন গ্রাহককে দিতে হচ্ছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। এ তো গেল বৈধভাবে পরীক্ষায় পাস করার কথা।

পরীক্ষায় ফেল করে কেউ যদি ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে চায় সে ক্ষেত্রে একজন গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

এখন আসা যাক গাড়ির কাগজপত্রের কথায়। প্রতিটি সিএনজির লাইসেন্স, রোড পারমিট ও গাড়ির নাম্বার প্লেটের জন্য সরকারি নির্দেশনা মতে জমা দিতে হয় ১২৩৫০ টাকা। সে ক্ষেত্রে একজন মালিককে গুনতে হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকা। যা সরকার নির্ধারিত ফি’র প্রায় ৪ গুণ।

এছাড়া একটি মাইক্রোবাস, কার ও নোহা গাড়ির জন্য জমা দিতে ১লাখ টাকা হয়ে যায়।

যা নির্ভর করে গাড়ির ক্রয় মূল্যের ওপর। কিন্তু হবিগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে দিতে হয় দেড় থেকে পৌনে দুই লাখ টাকা।

এছাড়া প্রতি মাসে ২ বার ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা নেয়া হয়। প্রতিবারেই দেড় থেকে দুই শতাধিক প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে থাকেন।

প্রতি মাসে গড়ে সাড়ে ৩শ’ ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করে হবিগঞ্জ বিআরটিএ অফিস। প্রতিটি লাইসেন্স থেকে বিআরটিএ’র এই দুর্নীতিবাজরা ৪থেকে ৮ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত আদায় করেন।

সূত্র জানায় প্রতি মাসে গড়ে হবিগঞ্জ জেলায় ২শ থেকে ৩শ’ সিএনজির কাগজপত্রের আবেদন জমা পড়ে। এ থেকে প্রতি মাসে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালদের দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কয়েক কোটি টাকা। আর তাদের এসব অবৈধ টাকার একটি বড় হাতে ব্যক্তিদের পকেটে।

৮/১০ জন বহিরাগত দালাল রয়েছেন  তাদের সহযোগিতা ছাড়া বিআরটিএ কার্যালয়ে গ্রাহকরা তাদের কাজে গেলেও তারা কাজ করতে পারেন না। আর কাগজ পত্র জমা দিলেও সে কাগজ কখন বা এ বছরের মধ্যে ও আসবে কিনা তা নিয়ে থাকে অনেক সংশয় আদেয় পাবে কি এ ব্যাপার কিছুই কেউ নির্দিষ্ট করে বলতে পারে না।

এই অফিসে চাকরি করে আজ নামে বেনামে কোটি টাকার মালিক হয়েছে অনেকে।