ভোটারদের দীর্ঘলাইন।

আজ ২৪ জুন হবিগঞ্জ পৌরসভার উপ-নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে। ২৪ জুন সোমবার পৌরসভার ২০ টি কেন্দ্রে একটানা-একযোগে ‘ইভিএম’ পদ্ধতিতে এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে প্রথম ইভিএম-এর সাথে পরিচয় ঘটছে পৌরবাসীর।

৪৭ হাজার ৮ শত ২০ জন ভোটার মাত্র প্রায় দেড় বছরের জন্য নির্ধারন করবেন কে হবেন নতুন মেয়র। নির্বাচনে লড়াই করছেন ৫ প্রার্থী।

তবে সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের লাইন দেখা গেছে।

এরা হলেন, মিজানুর রহমান মিজান (নৌকা), এম. ইসলাম তরফদার তনু (মোবাইল ফোন), মোঃ মর্তুজ আলী (চামচ), এডভোকেট নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্ত টিটু (নারিকেল গাছ) ও সৈয়দ কামরুল হাসান (জগ)।

এদের মধ্যে পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান ব্যতিত সকলেরই প্রথম নির্বাচন এটি। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবিগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে মিজানুর রহমান মিজান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে তৎকালীন মেয়র জিকে গউছের মত জনপ্রিয় প্রার্থীর সাথে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই করে চমক সৃষ্টি করেন। তখন ধানের শীষ প্রতীকের চেয়ে মাত্র ১৫ শত ২৩ টি ভোট কম পেয়ে পরাজিত হন তিনি।

মিজান এবার দলীয় প্রতীক নৌকা পেলেও তার সাথে ভোটের মাঠে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) হিসেবে লড়ছেন নিজদলের আরও ৩ প্রার্থী। এরা হলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মর্তুজ আলী, হবিগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি এডভোকেট নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থ টিটু ও জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি সৈয়দ কামরুল হাসান।

তবে এবার মিজানের প্রতিপক্ষ হিসেবে নেই জিকে গউছের মত প্রভাবশালী প্রার্থী। বিএনপি দলীয়ভাবে অংশগ্রহন না করায় নির্বাচনে প্রার্থী হননি তিনি। যদিও জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এম. ইসলাম তরফদার তনু মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহন করছেন এবং তাকে সমর্থন দিয়েছে জেলা বিএনপি।

এদিকে, গত শনিবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে শেষ হয়ে গেছে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা। আজ রবিবার বিকেলে কেন্দ্রে-কেন্দ্র পৌছে গেছে নির্বাচনী সরঞ্জাম। এ লক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা নির্বাচন কমিশন। নিরাপত্তার দায়িত্বে প্রস্তুত রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

উল্লেখ্য, ১৮৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জ পৌরসভার আয়তন ৯.৫ বর্গ কিলোমিটার। বর্তমানে এটি ১ম শ্রেণীর পৌরসভা হিসেবে স্বীকৃত। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ পৌরসভায় বসবাস করেন প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। ভোটার সংখ্যা ৪৭ হাজার ৮শত ২০। জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে গত বছরের ২৮ নভেম্বর মেয়র জিকে গউছ পদত্যাগ করলে পদটি শূণ্য হয়। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন পৌর প্যানেল মেয়র দিলীপ দাস।

আজকের পত্রিকা/হবিগঞ্জ