ইভিএমে ভোট দেয়ার পরীক্ষা করছেন এক ভোটার।

আগামী ২৪ই জুন হবিগঞ্জ পৌরসভার উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর এ নির্বাচনে হবিগঞ্জে প্রথম বারের মত ভোট গ্রহণ করা হবে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতিতে।

আর এতে করেই ভোটারদের মধ্যে শুরু হয়েছে এক ধরণের শংকা। এছাড়াও ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দেয়া এবং এর স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মাঝে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

তবে জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে ইভিএম-এ জাল ভোট প্রদান বা কেন্দ্র দখলের সুযোগ নেই, একজনের ভোট অন্য জনের দেয়ারও কোন সুযোগ থাকছে না।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ পৌরসভায় মোট ২০টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। যাতে কক্ষ রয়েছে ১৪১টি। আর অস্থায়ী ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৫টি। এবার পৌরসভার সবগুলো কেন্দ্রে ইভিএম-এ ভোট গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও ২০টি ভোট কেন্দ্র পরিচালনার জন্য ৬০ জনকে ৫ দিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তারা ভোটারদের ১৮ জুন মঙ্গলবার থেকে ২২ জুন পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে ক্যাম্পেইন করে ইভিএম-এ কিভাবে ভোট দিতে হয় তা ভোটারদের অবহিত করবে। ইতিমধ্যেই তারা তাদের ক্যাম্পেইন শুরু করেছে।

হবিগঞ্জ শহরের অনন্তপুর এলাকার বাসিন্দা শেখ জহিরুল ইসলাম ইমনসহ একাধিক ভোটার জানান, হঠাৎ করেই ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দিতে হবে। ইভিএম-এ কি, বা তাতে কি ভাবে ভোট দিতে হয় সেটাই জানিনা।

কিভাবে ভোট দিব তা নিয়ে শংকায় আছি। এছাড়াও তাদের এলাকায় আরো অনেকেই ইভিএম সম্পর্কে অবগত নয় এবং নিজে ট্রেনিং নিয়েছি কিভাবে ইভিএম এর মাধ্যমে ভোট দিতে হয় বলেও জানান তিনি।

কবি এম.এ ওয়াহিদ বলেন, ইভিএম এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণ অবশ্যই সরকারের একটি ভাল উদ্যোগ। যতটুকু জানা গেছে ইভিএম-এ ভোট কারচুপি করার সুযোগ তেমন একটা হয় না। তবে এর ব্যবহার সম্পর্কে ভোটারদের সচেতন করতে হবে। নয়তবা ভূল ধারণার ফলে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে।

হবিগঞ্জ পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার খুর্শেদ আলম বলেন, ইভিএম এর মাধ্যমে ভোট প্রদানের অনেক সুবিধা রয়েছে। এ পদ্ধতিতে জাল ভোট দেয়া, কেন্দ্র দখল করে ভোট প্রদান, একজনের ভোট অন্য ব্যক্তি প্রদান বা একবার ভোট দিয়ে থাকলে দ্বিতীয়বার ভোট দেয়া যায় না। নির্ধারিত সময়ের আগে মেশিন চালু হওয়ার সুযোগ নেই। তাই ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পূর্বে অবৈধ ভোট গ্রহণ বা প্রদানেরও সুযোগ নেই।

এছাড়াও ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে পাসওয়ার্ড সংরক্ষিত বলে প্রিজাইডিং অফিসার অথবা সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ব্যতিত অন্য কারো পক্ষে মেশিন চালু করা সম্ভব নয়। কোন অবস্থাতেই এমনকি ইভিএম ছিনতাই করে নিয়েও অবৈধভাবে ভোট প্রদান করা সম্ভব নয়।

এছাড়াও এ বিষয়ে পৌর এলাকার সকল ভোটারদের সচেতনার লক্ষ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে কেন্দ্রে ক্যাম্পেইন চলছে বলেও জানান তিনি।

ফয়সাল ইসলাম/হবিগঞ্জ