৭শ তম পাখি। ছবি : সংগৃহীত।

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে নতুন এক পাখির সন্ধান পাওয়া গেছে। পাখিটির নাম খয়রাগাল শালিক। গত ৪ মার্চ আলী কাউসার ডেনি নামে এক ফটোগ্রাফারের ক্যামেরায় ধরা পড়ে নতুন এ পাখি।

আর এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং বার্ড ফটোগ্রাফার ও হবিগঞ্জ ফটোগ্রাফি সোসাইটির সভাপতি জালাল আহমেদ। সম্প্রতি হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি তথ্য জানান। তিনি বলেন, নতুন করে আবিষ্কার হওয়া দেশের ৭০০তম পাখি এটি। এর আগে জানুয়ারি মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জে White tailed lapwing নামে নতুন আরেকটি পাখি ধরা পড়ে ফটোগ্রাফার শাহানুল করিমের ক্যামেরায়। সেটি ছিল দেশের ৬৯৯তম পাখি।

বর্ণনা : খয়রাগাল শালিকের গড় ওজন ৩৮ গ্রাম। স্ত্রী পাখি ওজনে একটু কম হয়। গড় দৈর্ঘ্য ১৯২ মিলিমিটার। পুরুষ পাখির মাথায় সাদা এবং গালে গাঢ় খয়েরি বাদামি ছোপ আছে। পেছনের দিকটা উজ্জ্বল বেগুনি কালো, পাখা উজ্জ্বল সবুজাভ কালো এবং কাঁধের দিকে একটি অংশ সাদা। দেহের দুই পাশে ধূসর বর্ণ। লেজ হালকা বাদামি।

অন্যদিকে স্ত্রী পাখি পুরোপুরি বাদামি। স্ত্রী-পুরুষ উভয়ের ঠোঁট ও মুখ কালো। ‘কুহু কু হকু কুহু, পিপি পিপবি’ সুরে গান করে। সাধারণত একটি সুরে আট সেকেন্ড সময় নেয়। প্রজনন মৌসুম মে-জুন। মূলত গাছের গর্তে বাস করতে পছন্দ করে। কদাচিৎ নিজেরা ঘাস ও লতাপাতা দিয়ে বাসা তৈরি করে। প্রধান খাদ্য গাছের ফল ও পোকামাকড়। শান্তিপ্রিয় ও নরম আবহাওয়ার পাখি। জাপানের দ্বীপগুলোর সবুজ বনে, মিষ্টি রোদে সৈকতে ঘুরে বেড়ায়। রুক্ষ ও শীতল আবহাওয়ার শুরুতে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে এরা অনুকূল আবহাওয়ার দিকে সরে আসে।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের আইটি বিভাগের কর্মকর্তা আলী কাউসার ড্যানি একজন শৌখিন ফটোগ্রাফার। তিনি বলেন, ‘৪ মার্চ সকালে ক্যামেরা হাতে বনে বের হয়ে দেখি একটি মান্দার গাছের ডালে ডালে লাল ফুল ফুটে আছে। সেখানে বসে আছে কয়েকটি পাখি। ক্যামেরার শাটার টিপতেই উঠে যায় বেশ কয়েকটি পাখির ছবি। তবে এর মাঝে দুটি পাখি অপরিচিত। ছবিটি ফেসবুকে আপলোড করতেই সাড়া পড়ে যায়। তখন জানতে পারি এগুলো দুর্লভ পাখি। এর মাঝে খয়রাগাল শালিক বাংলাদেশে প্রথম দেখা গেছে। একই ছবিতে ধরা পড়া Purple-backed starling পাখিটিও বাংলাদেশে এর আগে মাত্র তিনবার দেখা গেছে।’ তিনি জানান, তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে আসা মোফাজ্জল হক দেওয়ান, ইজহার হোসেন, নাফিস আমিন, মোশাররফ হোসেন, আবির মাহমুদ ও সাইফুল ইসলাম তালুকদারও খয়রাগাল শালিকের ছবি ধারণ করেন।

হবিগঞ্জ সরকারি বৃন্দাবন কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. সুভাষ চন্দ্র দেব বলেন, ‘খয়রাগাল শালিক Sturnidae পরিবারের পাখি। বৈজ্ঞানিক নাম Agropsar philippinensis. জাপান, তাইওয়ান, রাশিয়ার বিস্তৃত দ্বীপপুঞ্জে এদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। জাপানে উপকূলে সারা বছর এর বিচরণ লক্ষ করা যায়।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সদস্য শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জহিরুল হক শাকিল বলেন, ‘সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে দু শর বেশি প্রজাতির পাখি রয়েছে। তবে আবাসস্থল ও খাদ্যের জন্য এখানে অনেক পাখি হুমকির মধ্যে রয়েছে। তার পরও বিরল কিছু পাখির সন্ধান এখানে পাওয়া যাচ্ছে, যা আশার খবর।’