বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে স্বেচ্ছাসেবক দল বিক্ষোভ মিছিল। ছবি : আজকের পত্রিকা

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্বেচ্ছাসেবক দল। ২১ মে  সকাল ১১ টায় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল এর উদ্যোগে কয়েকশো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিলটি নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারও বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিকট এসে শেষ হয়।

বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিলটি নেতৃত্ব দেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড. রুহুল কবির রিজভী।

মিছিল শেষে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড. রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘মধ্যরাতের ভোটের সরকারের প্রতিহিংসা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, দেশের চারবারের প্রধানমন্ত্রী ও গণমানুষের ভরসাস্থল বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে জীবন বিপন্ন করার পাঁয়তারা করছে। দেশনেত্রীকে কারাগারে রেখে আমরা বাইরে বসে থাকতে পারিনা, তাঁর মুক্তির জন্য দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আওয়াজ তুলতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে এটি সুষ্পষ্টভাবে প্রমানিত হয়েছে যে, তাঁর ইচ্ছাতেই বেগম জিয়াকে কারাগারে রাখা হয়েছে। শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ বেগম জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘আয়েশ-পায়েশ’ ইত্যাদি ব্যাঙ্গাত্মক রসিকতায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিষ্ঠুর মনেরই পরিচয় দিয়েছেন।’

এ্যাড. রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘যে নেত্রী গণতন্ত্রের পক্ষে, মত প্রকাশের পক্ষে সেই দেশনেত্রীকে নির্যাতন করে শেখ হাসিনা আনন্দ পান। গণতন্ত্রের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা না করলে দেশ খাদের কিনার থেকে পড়ে গিয়ে অতলে তলিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার আগুন নেভাতে হলে আমাদেরকে রাজপথে আসন গ্রহণ করতে হবে। দেশে লক্ষ লক্ষ তরুণ বেকার, কর্মসংস্থান নেই, ধানের ক্ষেতে আগুন, দুষিত পানি সরবরাহ, গ্যাস-বিদ্যূতের দাম বৃদ্ধিতে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, অথচ সরকারের তথাকথিত উন্নয়নের গলাবাজী থামছে না, লুটপাটের উন্নয়নের কথা শুনতে শুনতে জনগণ প্রচন্ত অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। চাপাবাজী দিয়ে জনগণের ক্ষোভকে নেভানো যাবে না।’

বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড. রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘যে দেশনেত্রী স্বৈরশাসকদের বন্দীশালা থেকে বারবার অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে আপোষহীন সংগ্রাম চালিয়েছেন সেই দেশনেত্রী ‘গণতন্ত্রের মা’-কে বন্দী রেখে বর্তমান সরকার যে নিষ্ঠুর খেলা খেলছে তার পরিণাম শুভ হবে না। বর্তমান আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী ভয়াবহ দু:শাসন ও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর যে হিং¯্র আচরণ চালাচ্ছে তাতে বিশ্বের সকল স্বৈরাচারের ইতিহাস হার মেনেছে। নারী-শিশু নির্যাতনকারী ও দখলবাজ-লুটেরারা দেশব্যাপী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বেপরোয়া নারী-শিশু নির্যাতন থেকে শুরু করে গুম, খুন, অপহরণ, বিচার বহির্ভূত হত্যা, গুপ্ত হত্যা এবং জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় দেশের মানুষ এখন সর্বদা আতঙ্কিত জীবন-যাপন করছে। এই ভয়াবহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জনগণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।’

বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড. রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, ‘আমি আবারও অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর পছন্দের হাসপাতালে সুচিকিৎসার সুযোগসহ নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি কারাবন্দী সকল নেতাকর্মীর নি:শর্ত মুক্তি দাবি করছি।’

পাশাপাশি গতকাল শান্তিপূর্ণ মিছিল থেকে গ্রেফতারকৃত যুবদল কেন্দ্রীয় নেতা মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এবং ময়মনসিংহ জেলাধীন গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা বিএনপি নেতা ও উস্থি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কবির সরকারকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাদের নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড. রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এর নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিশাল মিছিল শুরু হলে নেতাকর্মীরা বিএনপি চেয়ারপার্সন ও এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে সোচ্চার কন্ঠে শ্লোগান দিয়ে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলেন। মিছিল শেষে আরও বক্তব্য রাখেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েল।

শফিউল বারী বাবু তার বক্তব্যে বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। বিভিন্ন জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশনেত্রীর এখন সংকটাপন্ন অবস্থা। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সরকার প্রধান শেখ হাসিনা রসিকতা করছেন। বিশ্বের সকল স্বৈরশাসকদের নিষ্ঠুরতাও শেখ হাসিনার নিষ্ঠুরতার কাছে পরাজিত হয়েছে। দেশকে আওয়ামী দু:শাসনের কবল থেকে এখনই উদ্ধার করতে না পারলে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব চরম হুমকির মুখে পড়বে। তাই দেশ রক্ষার্থে দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য আমাদেরকে রাজপথে নেমে আসতে হবে। অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দেয়া না হলে জনগণের ক্ষোভের আগুন থেকে রেহাই পাবে না সরকার।’

শফিউল বারী বাবু তার বক্তব্যে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান।

আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েল তার বক্তব্যে বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে চরম পর্যায়ে উপনীত হলেও সরকার প্রধানের অমানবিক রসিকতায় দেশের মানুষ স্তম্ভিত। জামিনযোগ্য মামলায় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গুলি হেলনে আজ দেশনেত্রীর জামিন হচ্ছে না, এমনকি সুচিকিৎসা নিশ্চিতে বেগম খালেদা জিয়ার পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।’

অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে বক্তব্যে উল্লেখ করেন আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েল। এছাড়া তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

মিছিলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির র্ভুঁইয়া জুয়েল, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সহ-সভাপতি গোলাম সরোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদরেজ জামান, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজওয়ান হোসেন রিয়াজসহ  কয়েকশত নেতাকর্মী অংশ নেন।

আজকের পত্রিকা/রাজনীতি/বিএনপি/আ.স্ব