ছেলেরা যদি এটা চালাতে পারে তবে, আমরা মেয়েরা কেন পারবো না? ছবি : সংগৃহীত

নারী পিছিয়ে থাকবে কেন? সেই কবেই তো নজরুল বলে গেছেন সৃষ্টির অর্ধেক করেছে নর আর বাকি অর্ধেক নারী। কোনো রক্ষণশীলতার নামে নারীকে আর বন্দি রাখার সুযোগ নেই। পুরুষের সঙ্গে তাই আজ সমান তালে হাঁটছে বাংলাদেশের নারীও। এর প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায় সিলেটের শ্রীমঙ্গলে।

সংগঠনের নাম ‘সাইক্লিস্টস অব শ্রীমঙ্গল’। প্রায় অর্ধশত কিশোরী প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এ দ্বিচক্রযানের সফল পরিচালনার।

প্রায় অর্ধশত কিশোরী প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এ দ্বিচক্রযানের সফল পরিচালনার। ছবি : সংগৃহীত

প্রায় তিনমাস ধরে শ্রীমঙ্গলে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত স্থানীয় ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ প্রশিক্ষণ চলে। কোনো ভর্তি ফি নেই।

বাইসাইকেল প্রশিক্ষণার্থী রিয়া পাল বলেন, আমার স্বপ্ন ছিলো বাইসাইকেল চালানো শিখবো। ছেলেরা যদি এটা চালাতে পারে তবে, আমরা মেয়েরা কেন পারবো না?

অপর বাইসাইকেল প্রশিক্ষণার্থী অর্পিতা বলেন, প্রথম প্রথম একটু লজ্জা লাগতো। পরিবারের উৎসাহে এখন অনেকটাই শিখে ফেলেছি। এখন আমরা যারা বাইসাইকেল চালাতে পারি তাদের দেখে অনেকেই উৎসাহ লাভ করছে।

এ সংগঠনের প্রশিক্ষক হিসেবে আছেন দীপ চক্রবর্তী, মনসুর এবং উৎস। এরাই উদ্যোক্তা। সহকারী প্রশিক্ষকরা হলেন তাসিন, সৌরভ, মাহাদী এবং অনির্বাণ। আর নারী প্রশিক্ষক হিসেবে আছেন মিতু।

দীপ চক্রবর্তী বলেন, অনেক কিশোরীরাই বাইসাইকেল শিখতে চায়, কিন্তু নানান বাধার কারণে তা সম্ভবপর হয়ে উঠে না। তাদের কথা চিন্তা করে আমি শ্রীমঙ্গলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এটি চালু করি। তারপর আমাদের সংগঠন ‘সাইক্লিস্টস অব শ্রীমঙ্গল’ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করছি।

দুর্গম পথ পেরিয়ে এখন শুধু এগিয়ে যাবার পালা। সাইক্লিস্ট অব শ্রীমঙ্গলের পথচলা মসৃণ হোক এ কামনাই সবার।

আজকের পত্রিকা/এমএইচএস