এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলা একাডেমি, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি নির্মলেন্দু গুণ। ছবি: সংগৃহীত

স্বাধীনতা জাদুঘর থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে কবি নির্মলেন্দু গুণের ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’ শিরোনামের কবিতাটি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভূগর্ভস্থ স্বাধীনতা জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ছবির পাশে দীর্ঘদিন এই কবিতাটি অবস্থান করছিল। তবে কবিতাটি কে বা কারা সরিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলা একাডেমি, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত এ কবি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে বেশ কিছু স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। নিজের দেওয়া স্ট্যাটাসে এই কবিতা সরিয়ে ফেলার কারণ জানতে চেয়ে এবং কবিতাটি খুঁজে বের করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের কাছে আহ্বান করেছেন গুণ। এছাড়া এ বিষয়ে তিনি তাঁর এক সময়ের সহপাঠী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপও কামনা করেন।

১৩ মে বুধবার ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর এক খোলা চিঠিতে নির্মলেন্দু গুণ লিখেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের ওপর রচিত আমার কবিতা- ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভূগর্ভস্থ জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ছবির পাশে দীর্ঘদিন ছিল। তা দেখে আমি অনেক খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে, আমার ঐ কবিতাটি এখন আর ওখানে নেই। এই জনপ্রিয় কবিতাটি কবে, কার নির্দেশে এবং কেন স্বাধীনতা জাদুঘর থেকে অপসারিত হলো, তা জানতে আমি আপনার দ্বারস্থ হলাম। আমি খুব অসম্মানিত এবং ক্ষুব্ধ বোধ করছি। ইতিহাস বিকৃতির মহোৎসবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রচিত আমার কবিতার সুরক্ষা আপনার কর্তব্য বলে বোধ করি। শ্রদ্ধা ও প্রীতি জানবেন।”

এর দুই দিন পর ১৫ মে আরেকটি স্ট্যাটাসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে কবি বলেন, ‘আপনার কাছে আমার আবেদন, আমার কবিতা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভূগর্ভস্থ জাদুঘর থেকে উধাও হলো কীভাবে- তা তদন্ত করে বের করুন। আপনার মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় জাদুঘরে ঘাপটি মেরে বসে থাকা কতিপয় বঙ্গবন্ধুবিরোধী আমলা মিলে এই অপকর্মটি করেছে বলে আমার ধারণা। আপনি এদের খুঁজে বের করে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিন। অন্যথায় আমি হাইকোর্টে রিট করবো অচিরেই।’

এদিকে জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বলছে তারা ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে এই ভূগর্ভস্থ জাদুঘরের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছিলেন। তখন তারা ওখানে গুণের কবিতাটি পাননি।

আজকের পত্রিকা/সিফাত