৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল প্রামাণ্যচিত্র ‘স্বাধীনতার ডাক’ সেন্সর সার্টিফিকেট প্রদান ও প্রদর্শনী। চল্লিশ মিনিট দৈর্ঘ্যরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ডাকটিকেটের ভূমিকা নিয়ে নাসরিন ইসলাম পরিচালিত এবং প্রযোজিত প্রামাণ্যচিত্র ‘স্বাধীনতার ডাক’এর প্রদর্শনী এবং সেন্সর সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্ঠানটিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-নাট্যজন ও চলচ্চিত্র নির্মাতা জনাব নাসিরুদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শম্পা রেজা, ফাহিম রেজা নূর, সভাপতি, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নিউইয়র্ক, মোহাম্মদ মোমিনুল হক, সচিব, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড, শ্রীযুক্ত সুধাংশু শেখর ভদ্র, মহাপরিচালক, ডাক অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।

চলচ্চিত্র নির্মাতা নাসিরুদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২ শে জুলাই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় প্রকাশিত বাংলাদেশের প্রথম স্মারক ডাকটিকিটের প্রকাশ ও প্রচারের ঘটনা নাসরিন ইসলামের ‘স্বাধীনতার ডাক’ প্রামাণ্যচিত্রে স্বার্থকভাবে রূপায়িত হয়েছে।’ ছবিটির বিষয় ও গুণগতমান সম্পর্কে প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘ঘটনা প্রবাহের সাথে দূর্লভ ফুটেজ সংযোজন ছবিটিকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি দলিল বলা যায়।’ ছবিটির সাফল্য কামনা করে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি আরো বলেন, ‘নাসরিন ইসলামের এই প্রামাণ্যচিত্রটি দেখে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মনে হচ্ছে, শত শহীদদের রক্ত সত্যিই বৃথা যায়নি, নতুন প্রজন্ম দায়িত্ব নিয়েই সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নিউইয়র্কের সভাপতি ফাহিম রেজা নূর বলেন, ‘স্বাধীনতার ডাক’ প্রামাণ্যচিত্রে নাসরিন ইসলাম যেভাবে একটি ডাকটিকিটির মাধ্যমে একটি দেশ, একটি জাতী, একটি নেতা এবং বাংলার মানুষের আশা আকাঙ্খার কথা তুলে ধরেছেন তা নিঃসন্দেহে একটি মাইল ফলক।’ তিনি বলেন, ‘গতবছর ১৪ ডিসেম্বর প্রামাণ্যচিত্রটি ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি নিউইয়র্ক থেকে প্রদর্শিত হয়।’ ‘স্বাধীনতার ডাক’ ছবিটি জাতিসংঘে প্রদর্শণ করার বিষয়ে তিনি প্রস্তাব করেছেন এবং জাতিসংঘ আগামী মার্চ মাসে ছবিটি প্রদর্শণে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি জানান যে, নিউইয়র্ক কনস্যুলেট জেনারেল নিউইয়র্কে মজিব বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সাতদিন ব্যাপি ডকুমেন্টারী প্রদর্শণী অনুষ্ঠানে ‘স্বাধীনতার ডাক’ প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শম্পা রেজা ‘স্বাধীনতার ডাক’ প্রামাণ্যচিত্রটির প্রসংশা করে বলেন, ‘ছবিটি বাংলাদেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজে প্রদর্শীত হওয়া উচিৎ এবং সেই সাথে প্রামাণ্যচিত্রে উল্লেখিত একাত্তরের মুক্তিকামী মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানো বিদেশী বন্ধুদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।’

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মহাপরিচালক শ্রীযুক্ত সুধাংশু শেখর ভদ্র বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ডাক বিভাগের অবিস্মরণীয় ভুমিকা রয়েছে। নাসরিন ইসলামের প্রামাণ্যচিত্রটিতে অনেক অজানা গৌরবময় ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে।’ নির্মাতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরো জানান যে আগামী ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ অন্যান্য অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ‘স্বাধীনতার ডাক’ প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শিত হবে।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সচিব মোহাম্মদ মোমিনুল হক বলেন , ‘যে ছবিটি ছাড়পত্র অনুমোদনের জন্য জমা পড়ার পর ছবিটি দেখে সেন্সর বোর্ডের ১৫জন সদস্যই অবিভূত হন এবং ছবিটির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিমান মল্লিক নক্সাকৃত এই স্মারক ডাক টিকিটগুলোর ভূমিকা আমাদের অনেকেরই অজানা ছিল।’ নির্মাতা নাসরিন ইসলামকে ‘স্বাধীনতা ডাক’ প্রামাণ্যচিত্রটির ছাড়পত্র প্রদান করতে পেরে তিনি এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড আনন্দিত এবং গর্বিত।

‘স্বাধীনতার ডাক’ প্রামাণ্যচিত্রটির নির্মাতা নাসরিন ইসলাম বলেন- এই প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মানের পেছনে দুটি বিষয় তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছে, প্রথমটি হল মুক্তি যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রাপ্তির নিশ্চিয়তা পাওয়ার আগেই একটি দেশের সার্বোভৌমত্বের প্রতীক স্মারক ডাকটিকেট প্রকাশ এবং প্রচারে বাঙালির এই দুঃসাহসিক পদক্ষেপ এবং অন্যটি হচ্ছে এই ডাকটিকিট প্রকাশ এবং প্রচারে বিদেশী বন্ধুদের উদার সহযোগিতা। দেশে এবং বিদেশে বাংলাদেশের প্রথম স্মারক ডাকটিকিটের গৌরবোজ্জ্বল এই ইতিহাস তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই তিনি ছবিটি নির্মাণ করেছেন। প্রামাণ্যচিত্রটি বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শণীর বিষয়ে তিনি সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অন্যান্য অতিথিদের উপস্থিতিতে সচিব জনাব মোহাম্মদ মোমিনুল হক নির্মাতা নাসরিন ইসলামকে ‘স্বাধীনতার ডাক’ প্রামাণ্যচিত্রটির ছাড়পত্রটি তুলে দেন।