দক্ষিণ বাংলার মানুষের বহুদিনের স্বপ্ন পদ্মা সেতু। বহু বছর ধরেই তারা এ স্বপ্ন দেখছে। বর্তমানে এ স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পথে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হবার পথে। এটা কিন্তু খুব সহজে হয়নি। নির্মাণ কাজের প্রথম থেকেই নানা বাধা বিপত্তি দেখা দেয়।

বিশ্ব ব্যাংক এ নির্মাণ কাজে অর্থ দেওয়ার চুক্তি করে। কিন্তু পরে দুর্নীতির অভিযোগে তারা এ চুক্তি থেকে সরে যায়। বাংলাদেশ বিপদে পড়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দমে যাননি। তিনি ঘোষণা দেন বাংলাদেশ তার নিজস্ব অর্থেই পদ্মা সেতু নির্মাণ করবে। তার ঘোষণার পরই বাংলাদেশ নির্মাণ কাজে এগিয়ে যায়। আল্লাহ’র রহমতে নির্মাণ কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে।

এ সেতু বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দক্ষিণ বাংলার কৃষিপণ্য অল্প খরচে পরিবহন করা সম্ভব হবে। শুধু অল্প খরচে নয়। সময়ও একটা বিষয়। পদ্মা সেতুর ফলে অল্প সময়ে পরিবহন সম্ভব হবে। অর্থ ও সময় বাঁচিয়ে দক্ষিণ বাংলার জনগণ তাদের পণ্য পরিবহন করতে পারবে। ফলে তারা অধিক লাভবান হবেন। এ কারণে তারা পদ্মা সেতুর মাধ্যমে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যত আশা করছে। শুধু পণ্য নয়, যাত্রী হিসেবেও তারা অল্প সময়ে যাতায়াত করতে পারবেন। আশা করছি আগামী বছরের প্রথমদিকেই পদ্মা সেতু চালু হবে। দক্ষিণ বাংলার জনগণ আশা করে আছে।

পদ্মা সেতু নির্মাণে সরকার বদ্ধপরিকর ছিল বলেই এটা নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে। এ রকম প্রত্যেকটা প্রকল্পে যদি সরকার বদ্ধপরিকর থাকে, তাহলে প্রতিটি প্রকল্পই সুন্দরভাবে বাস্তবায়িত হবে। এ সেতু আমাদের জন্য বড় একটা শিক্ষা। এ শিক্ষা থেকে সব সরকারিই শিক্ষা নিতে পারেন। আশা করি আমাদের সকলেই এ থেকে শিক্ষা নিতে পারবেন।

আমরা সরকার, বিশেষ করে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এ জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। আল্লাহ যেন তাকে এ রকম বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ করা এবং তা বাস্তবায়িত করার শক্তি দেন।

লেখক: মো. এমদাদুল হক, সাবেক প্রধান শিক্ষক, ইসলামী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়

আজকের পত্রিকা/সিফাত