স্নোপ্লো বাবা-মা সন্তানের সাফল্যের পথে সমস্ত বাধা বিপত্তির সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। ছবি: সংগৃহীত

আমরা সবাই ‘হেলিকপ্টার বাবা-মা’র কথা জানি। যারা বাচ্চাদের পিছনে সর্বক্ষণ ছুটতে থাকেন। সন্তানের ছোট খাটো সব বিষয়ে অতিরিক্ত আগ্রহ ও প্রতিক্রিয়া জানান। ইদানীং একটি নতুন ধরন উঠে এসেছে, যার নাম স্নোপ্লো। বিখ্যাত লেখক ক্লেয়ার কেইন মিলার ও জোনাহ ব্রোমউয়িচবা বলেন, ‘স্নোপ্লো সাধারণত ধনী বাবা-মায়েরাই হয়ে থাকেন। তারা তাদের সন্তানের সাফল্যের পথের সমস্ত বাধা বিপত্তির সামনে দাড়িয়ে থাকেন। তাদের ব্যর্থতা, হতাশা বা হারানোর অভিজ্ঞতার সাথে মুখোমুখি হতে দেন না।’

সব বাবা-মাই সন্তানের সাফল্য দেখতে চান। কিন্তু সাফল্য অর্জনের জন্য সন্তানদেরকে প্রতিযোগিতার যুদ্ধে ঠেলে দেওয়া হয়। এর ফলে আমরা তাদের আরও ক্ষতির মুখে ফেলে দেই। স্নোপ্লো বাবা-মায়েরা সবসময় ব্যয়বহুল জীবনযাপন করেন। তারা তাদের সন্তানের জন্য সবচেয়ে ভালো স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক ঠিক করে থাকেন, যার খরচ প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত। তাদের ধারণা বেশি খরচ করলে, আউটপুটও ভালো পাওয়া যাবে।

আমরা যদি সন্তানের সব কিছুই নিজেরা করে দেই তাহলে তারা নিজ থেকে কিছুই শিখবে না। ছবি: সংগৃহীত

সন্তানের প্রতি ভালোবাসার প্রশ্ন এলে তাদের অনেককেই নির্বাক থাকতে হয়। তারা খুবই স্বার্থপর ও বিধ্বংসী। এ ধরনের বাবা-মায়ের তাদের সন্তানের উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে পারেন না। তারা ভেবে নেন, তাদের ছাড়া তাদের সন্তানরা কোনোভাবেই এই প্রতিযোগিতামূলক জগতে টিকে থাকতে পারবে না।

তবে আমাদের মনে রাখা উচিত, আমরা যদি সন্তানের সব কিছুই নিজেরা করে দিই, তাহলে তারা নিজ থেকে কিছুই শিখবে না। কোনো কিছু কষ্ট করে অর্জন করার ব্যাপারটা তাদের অজানাই থেকে যাবে। আর বাবা-মা হিসেবে আপনি চিরজীবন তার পাশে ছায়া হয়ে থাকতে পারবেন না। তখন সে আরও বেশি বিপদে পড়বে।

আমাদের যা করা উচিত

  • তাদের ফলাফলের তুলনায় প্রচেষ্টার প্রশংসা করা
  • তাদের দায়িত্ব নিতে দিন
  • নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করুন
  • নিজের আবেগকে মোকাবেলা করতে দিন
  • ব্যর্থতাকে মেনে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া

আজকের পত্রিকা/রিয়া/সিফাত

SOURCEই টাইমস