গণধোলাইয়ের শিকার স্বামী-স্ত্রী। ছবি : সংগৃহীত

স্বামী-স্ত্রী এবং স্বামীর এক বন্ধু তিনজন উঠেছিলেন রিকশায়। রিকশাটি যখন সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো, তখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বিতীয় বিয়ে করা নিয়ে ঝগড়া হয়।

স্ত্রীর অভিযোগ ছিলো তিনি নাকি শুনেছেন তার স্বামী আরেকটি বিয়ে করেছেন। কিন্তু তার স্বামী অস্বীকার করছিলেন সেটি। এ নিয়েই ঘটনার সূত্রপাত।

এক পর্যায়ে স্ত্রী যখন রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে  না পেরে লাফ দিয়ে রিকশা থেকে নেমে ‘ছেলেধরা ছেলেধরা’ বলে চিৎকার করে উঠলেন। রিকশা থামিয়ে নামলেন স্বামীও। তিনিও স্ত্রীকে ইঙ্গিত করে পাল্টা ‘ছেলেধরা ছেলেধরা’ বলে চিৎকার শুরু করলেন। ততক্ষণে আশপাশে থাকা মানুষরা দৌড়ে এগিয়ে এলেন। কেউ স্ত্রীর দিকে কেউবা স্বামীর দিকে। পথচারীদের যার কাছে যাকে ‘ছেলেধরা’ মনে হয়েছে তার উপরই হামলে পড়লেন। বাদ পড়লেন না রিকশায় থাকা স্বামীর নিরীহ বন্ধুটিও!

জনতা মিলে তিনজনকে এক চোট গণধোলাই দেয়ার পর পুরুষদ্বয় কোনোমতে পালিয়ে বাঁচলেন। স্ত্রী তানিয়াকে পুলিশ এসে আহত অবস্থায় উদ্ধার করলো। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মার খাওয়ার সময় তানিয়া বারবার বলছিলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে, আমি ছেলেধরা না।’ কিন্তু জনতা তার কথায় কান দেয়নি।

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুরে নয়নপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

শ্রীপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় বেড়াইদেরচালা গ্ৰামের মুক্তিযোদ্ধা এবিএম তাজউদ্দিনের মেয়ে তানিয়া। তানিয়ার স্বামীর সাথে কথা কাটাকাটির এক সময় এলাকার স্থানীয়রা এসে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে দু‘জনকে পিটিয়ে আহত করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তানিয়াকে উদ্ধার করে।

শ্রীপুর থানার এসআই আমিনুল হক গণমাধ্যমকে জানান, এ ঘটনার সন্দেহে তানিয়াকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সূত্র-যমুনা-অনলাইন

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস