আটক লম্পট স্বামী।

স্ত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে লম্পট স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বয়ারডাঙ্গা গ্রামের বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে কলারোয়া থানায় অভিযোগ দেন স্ত্রী।

এ ঘটনায় স্বামী বিল্লাল হোসেনকে আটক করে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে পাঠিয়েছে থানা পুলিশ।

বিল্লাল হোসেন (২৬) উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের বয়ারডাঙ্গা গ্রামের কামরুল গাজীর ছেলে।

চন্দনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম জানান, স্ত্রী সঙ্গে মেলামেশার অন্তরঙ্গ ভিডিও করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে স্বামী বিল্লাল হোসেন। এমন অভিযোগে দ্বিতীয় স্ত্রী যশোর জেলার শার্শা উপজোলার ভবানীপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের আরশাদ আলীর মেয়ে(২৩) বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় মামলা দিয়েছে।

এ ঘটনায় আটকের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে বিল্লাল হোসেনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, বিল্লাল হোসেনের প্রথম স্ত্রী আসমা খাতুন উপজেলার রামভাদ্রপুর গ্রামের নানার বাড়ীতে থাকেন। তাদের আড়াই বছরের একটি মেয়ে আছে বলে জানতে পারে দ্বিতীয় স্ত্রী। আসমা খাতুন উপজেলার দক্ষিণ সোনাবাড়ীয়া গ্রামের ইউনুছ আলী মেয়ে। দ্বিতীয় স্ত্রী প্রথম স্ত্রী থাকার কথা জানতে পারার পর থেকে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবণতি ঘটে।

এরপর বিল্লাল হোসেন ঢাকায় থাকা অবস্থায় গোপনে অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করার ঘটনা জানিয়ে চুপ থাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। অন্তসত্ত্বা দ্বিতীয় স্ত্রী তাকে বাড়িতে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে বিল্লাল হোসেন অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।

এ ঘটনায় কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মুনির-উল-গীয়াস বলেন, প্রথম স্ত্রী সন্তানের কথা গোপন করে বিল্লাল হোসেন দেড় বছর আগে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে তোলে ওই মেয়ের সঙ্গে। এক বছর আগে গোপনে তাকে বিয়ে করে ঢাকায় নিয়ে যায়।

এরপর তাকে গার্মেন্টস ফ্যাক্টারীতে চাকরি ধরিয়ে দিয়ে নিজে একটি সেলুনের দোকানে কাজ নেয়। স্ত্রী বেতনের টাকা দিয়ে স্বামী বিল্লাল হোসেনকে নতুন মোবাইল ফোন কিনে দেয়। সেই মোবাইল দিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মেলামেশার ভিডিও গোপনে ধারণ করে বিল্লাল হোসেন। পরে সেগুলো বিভিন্ন মোবাইল ও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।

তিনি আরও জানান, এসব ঘটনায় বিল্লাল হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা দিয়েছে। আসামীকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আজকের পত্রিকা/বৈশাখী