প্রতি বছর ১৩ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় ‘নো ব্রা ডে’। ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী নারীদের মাঝে অন্য যে কোনো ক্যান্সারের চাইতে, স্তন ক্যান্সারের প্রাদুর্ভাব বেশি। প্রাণঘাতী স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সকলের মাঝে সচেতনতা গড়ে তুলতে ও এ ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ সম্পর্কে নারীদের সচেতন করতেই পালন করা হয় ‘নো ব্রা ডে’।

২০১১ সাল থেকে এই দিবসটি পালন করা হচ্ছে। প্রথমে ৯ জুলাই পালন করা হলেও পরবর্তীতে ২০১৫ সাল থেকে প্রতি বছর ১৩ অক্টোবর দিবসটি পালিত হয়। এর সূচনা মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক হলেও বর্তমানে দিবসটি সারা বিশ্বে গুরুত্ব সহকারে পালিত হয়।

প্রতিদিন সারা বিশ্বের কোটি কোটি নারীরা যে অন্তর্বাসটি পরিধান করে থাকেন, ইংরেজিতে একে ‘ব্রা’, বাংলায় বক্ষবন্ধনী নামে ডাকা হয়। এর পেটেন্ট নথিভুক্ত করা হয় আজ থেকে শত বছর আগে, ১৯১৪ সালে। তবে নারীবাদীর দ্বারা ষাটের দশকে বক্ষবন্ধনীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে পোড়ানো শুরু হয় বক্ষবন্ধনী। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টাতে বেশি সময় লাগেনি। আবার শিগগিরই এই পোশাকে ফিরে আসলো নারীরা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বেশকিছু গবেষণায় পোশাকটির বিভিন্ন নেতিবাচক দিক ধরা পড়ায় সচেতনতা তৈরিতে পালন করা হচ্ছে এই ‘নো ব্রা ডে’।

অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করেন ব্রা ব্যবহারের ফলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অন্য কোনো কারণের তুলনায় বেশি বৃদ্ধি পায়। ব্রা ব্যবহার বন্ধ করতে পারলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিটা কমে আসবে। জানা যায়, বিশ্বে প্রতি ৮ জন নারীর মধ্যে ১ জন নারী তার জীবদ্দশায় স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। আর ক্যান্সারের শেষ পরিণতি অবধারিত মৃত্যু।

যদিও স্তন ক্যানসারে মৃত্যুর হার আধুনিক যুগে অনেকটাই কমে এসেছে। কিন্তু এ রোগটা মূলত নারীদের এমন একটি অঙ্গে হয় যা যুগে যুগে দেশে দেশে নারীত্বের বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্যের পরিচায়ক হিসেবে বিবেচিত। এরচেয়েও বেশি এটি নারীর মাতৃত্বের পূর্ণতা এনে দেওয়ার অন্যতম মাধ্যম। ফলে ক্যান্সার যুদ্ধে এই অঙ্গটি হারিয়ে নারীরা অধিকাংশ সময়ই নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সংকটের সম্মুখীন হন, হতাশায় ভোগেন। তাদের অনেকেই এই ব্যাপারটা লুকাতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম অঙ্গ বা বিশেষ ব্রা ব্যবহার করেন, যা তাদের সারাদিন পরে থাকতে হয়।

‘নো ব্রা ডে’তে মূলত নারীদের উৎসাহিত করা হয় ব্রা না পরার ব্যাপারে। বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে হয়তো এটা কল্পনা করা অবাস্তব মনে হতে পারে। কিন্তু বিশ্বের অনেক দেশেই এখন নারীরা পোশাকের নিচে ব্রা না পরেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন শপিং মল, অফিস এবং বাসা। দিন দিন এর সংখ্যাটাই বরং বাড়ছে।

আমাদের দেশের নারীরা স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে খুব একটা সচেতন নন। এমনকি স্তন ক্যান্সার সম্পর্কেও অধিকাংশ নারীদের ধারণা নেই। অজ্ঞতা, অসচেতনতা, বিভ্রান্তিমূলক ধারণা, জড়তা ও সঠিক তথ্যের প্রচারণার অভাবে প্রতি বছর এ ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীদের সংখ্যা বেড়ে চলছে ক্রমেই।

সঠিক চিকিৎসা ও নিয়মতান্ত্রিক জীবন ব্যবস্থা মেনে চলার মাধ্যমে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীকে সুস্থ করা সম্ভব। যদিও প্রায় ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক অবস্থায় স্তন ক্যান্সার নির্ণয় করা সম্ভব হয় না। যে কারণে এ নীরব ঘাতক ক্যান্সারে অকাল প্রাণ হারাতে হয় অনেক ভুক্তভোগীকেই।

জড়তা ও লজ্জা ভেঙে প্রতিটি নারীকেই স্তন ক্যান্সারের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। একজন সচেতন নারী যদি আরও দশজনকে সচেতন করতে পারেন, তবেই বাড়বে সচেতনতা। কমবে এই ক্যান্সারে মৃত্যুর হার।

আজকের পত্রিকা/সিফাত