স্তন কেটে ফেলা শেফালি হাসপাতালে

টিউমার অপারেশনের নামে ভুয়া এক চিকিৎসকের হাতে ব্লেড দিয়ে একটি স্তন কেটে ফেলা অসহায় শেফালি আক্তার (৩২) অবশেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শনিবার রাত ৯ টায় নেত্রকোনা জেলা ও খালিয়াজুরী প্রশাসনের সহায়তায় ওই হাসপাতালের ১০ নং সার্জারি বিভাগে তিনি ভর্তি হন।

শেফালী আক্তার নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার পাঁচহাট গ্রামের মৃত সাব্বির মিয়ার স্ত্রী। তিনি আর্থিক দুর্দশাগ্রস্থ খেটে-খাওয়া নারী। তার ৩ মেয়ে ও ১ ছেলে রয়েছে। তারা কেউই উপর্জনশীল নয়।

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এএইচএম আরিফুল ইসলাম জানান, প্রায় দু’মাস পূর্বে টিউমার অপারেশনের নামে শেফালী আক্তারের একটি স্তনের পুরো অংশই কেটে ফেলে দিয়েছে এক প্রতারক। সেই থেকে অসহায় শেফালী আক্তার অর্থাভাবে কাটা স্তনের চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। বিষয়টি জেনে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম স্যারের নির্দেশনায় স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা করানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরে আমি শেফালী আক্তারকে তার বাড়ি থেকে এনে একটি অ্যাম্বুলেন্সে ভাড়া নিয়ে শনিবার রাত ৯ টায় মমেক হাসপাতালে গিয়ে সেখানে তাকে ভর্তি করিয়েছি।

প্রাথমিকভাবে নেত্রকোনা জেলা ও খালিয়াজুরী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে কিছু অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া, নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সি নগদ ১০ হাজার ও নেত্রকোনা জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যোবায়েল আহমেদ খান নগদ ২০ হাজার টাকা দিয়ে শেফালী আক্তারকে সহায়তা করেছেন।

শেফালী আক্তার জানান, তার বাম স্তনে সমস্যা ছিল। বিষয়টি জেনে নেত্রকোনার মদন উপজেলার কাতলা গ্রামের আমির উদ্দিন তালুকদারের ছেলে মানিক তালুকদার (৪৫) বড় ডাক্তার সেজে তাকে অজ্ঞান করে ব্লেড দিয়ে তার বাম স্তন কেটে ফেলে দেন।

তিনি বলেন, টিউমার হয়েছে ও টিউমার থেকে ক্যানসার হবে এসবের ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে খালিয়াজুরীর পাঁচহাট বাজারের ইকবাল হোমিও হলে তার ওই স্তনটি কেটেছেন মানিক তালুকদার। সেই থেকে তার কাটা স্তনের স্থানে পূঁজ ও রক্ত ঝড়ছে। অর্থাভাবে তার চিকিৎসাও তিনি করাতে পারছিলেন না।

এদিকে, গত ১০ সেপ্টেম্বর মানিক তালুকদারকে একমাত্র আসামি করে শেফালী আক্তার নিজেই বাদি হয়ে একটি মামলা করেছেন বলেও জানান তিনি।

খালিয়াজুরী থানার ওসি এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, মামলা করার পরের দিনই মানিক তালুকদাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সে মূলত একজন ভুয়া চিকিৎসক। গেপ্তারের পর মানিক তালুকদার নিজেকে হোমিও ডাক্তার হিসাবে পরিচয় দেন। তার কাছে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। তিনি মা ও শিশু, চর্ম, যৌ’ন সার্জারীতে বিশেষ অভিজ্ঞ পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন।

-এস