লেবাননে স্কুলের বেতন দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গাঁয়ে আগুন লাগিয়ে বাবার আত্মহত্যা। ছবি: সংগৃহীত

মেয়ের স্কুলের বেতন দিতে না পারায় ম্যানেজমেন্টের সাথে এক বিতর্কের জের ধরে লেবাননে এক বাবা নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন। ৯ ফেব্রুয়ারি শনিবার এই ঘটনা গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

যেই ডাক্তার তার চিকিৎসা করেছেন তিনি বলেছেন, বৃহস্পতিবার উত্তর লেবাননের কৌরা জেলার লেডি অব কাফতুন সেকেন্ডারি স্কুলে জর্জ জুরাইক নিজের উপরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়েছেন।

ত্রিপোলির আল-সালাম হাসপাতালে অস্ত্রোপচার বিভাগের প্রধান গ্যাব্রিয়েল আল-সাবা বলেন, ‘তার শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে।’

রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত জাতীয় নিউজ এজেন্সি বলেছে, স্কুল তাকে তার মেয়ের একটি প্রশংসাপত্র দিতে অস্বীকার করেছে বলে জুরাইক অভিযোগ করেছে।

জুরাইক নিজের স্কুল-পড়ুয়া মেয়েকে অন্য একটি স্কুলে ভর্তি করতে চেয়েছিলেন। তবে অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল না হওয়ায় আগের স্কুলের বকেয়া বেতন দিতে পারেননি দুই সন্তানের জনক জুরাইক। আর বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে না পারায় স্কুল কর্তৃপক্ষ তার মেয়েকে অন্য স্কুলে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ করতে অপারগতা প্রকাশ করে। মেয়ের স্কুলের বকেয়া টাকা দিতে না পারায় স্কুলের মাঠে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেন জুরাইক।

গায়ে আগুন লাগানোর পর অগ্নিদগ্ধ জুরাইককে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। তবে তার শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এদিকে জর্জ জুরাইকের আত্মাহুতির ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ এনেছেন জুরাইকের ভাই। তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ‘স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমার ভাইকে টেলিফোনে উসকানি দিয়েছে’।

লেবাননের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই ঘটনার পরিস্থিতিতে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আকরাম শাহীব বলেন, এই বছর সরকারি স্কুলগুলি হাজার হাজার ছাত্রকে কঠিন অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে বেসরকারি স্কুল থেকে স্থানান্তরিত করেছে। তিনি জুরাইকের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে যাবেন এবং বৃত্তি প্রদান করবেন।