কাজী ফয়সাল
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আগুনের চিত্র। ছবি: সংগৃহীত।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিচতলায় মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক এ এইচ এম ফিরোজের কক্ষ থেকে আগুনের সূত্রপাত। ওই কক্ষে শর্টসার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে পাশে মেডিসিনের স্টোর রুমে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আগুন নীচ তলা থেকে দ্বিতীয় তলা এবং তিন তলায় শিশু ওয়ার্ডে ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

১৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আগুন লাগে এই সরকারি হাসপাতালে। ওই দিনই স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বাবলু কুমার সাহাকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে মন্ত্রণালয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ সচিব জিএম সালেহ উদ্দিনের কাছে তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দেয়।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আগুনের চিত্র। ছবি: সংগৃহীত।

এদিকে, অগ্নিকান্ডের চারদিন পর ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার দিকে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩ টা পর্যন্ত হাসপাতালে ১ হাজার ২৫ জন রোগী ফিরে এসেছেন। এটিকে সম্পূর্ণরূপে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. উত্তম কুমার বড়য়া।

তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ৮৫০ বেডের এই হাসপাতালে বেশিরভাগ সময় দ্বিগুন রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। অগ্নিকান্ডের দিন ফিরে যাওয়া ১২শ’ রোগীর মধ্যে দেড়শ’ রোগী ফিরে আসেননি। তাদের চিকিৎসা সেবা প্রায় সম্পন্ন হয়েছিলো। হয়তো তাদের আর চিকিৎসা সেবার প্রয়োজন নেই। তবে আইসিইউতে ১০ জন রোগীই ফিরে এসেছেন। আমরা এখন পুরোদমে সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। অগ্নিকান্ডের পর থেকে শিশু ওয়ার্ডে উৎকট গন্ধ। দেয়াল ও ছাদে পোড়া দাগ। পুরো ওয়ার্ড রং করার পর চালু করতে অন্তত তিন দিন সময় লাগবে।

অগ্নিকান্ডের পরদিন থেকেই ক্ষতিগ্রস্থ শিশু ওয়ার্ড ও স্টোর রুমসহ অন্যান্য কক্ষগুলোর সংস্কার কাজ শুরু হয়। অগ্নিকান্ডের পর থেকে এই ওয়ার্ডে উৎকট গন্ধ। দেয়াল ও ছাদে পোড়া দাগ। পুরো ওয়ার্ড রং করার পর খুব শিগগির শিশুদের জন্য তা খোলা হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ডের কক্ষগুলোতে ধোয়া মোছার কাজ চলছিলো। শিশু ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্থ ১১ নম্বর ওয়ার্ডের রোগীদের শিশু সার্জারী বিভাগের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এই ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ইব্রাহীম ইশানের (১০) বাবা মো. ইয়াসিন বলেন, ঘটনার দিন আমরা রোগীকে নিয়ে চলে গিয়েছিলাম। দুই দিন পর আমরা রোগীসহ ফিরে আসি।

একই রকমের কথা জানালেন একই ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া ইশা মনি (৮), নুসরাত জাহান মারিয়া (৪), সাকিব শেখ (৭), হাসিব রহমান (৯) নামের শিশুদের অভিভাবকরা।

অগ্নিকান্ডে হাসপাতালের তিন তলায় ক্ষতিগ্রস্থ শিশু ওয়ার্ডের পাশেই গাইনী ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া নাজমা বেগম (৪০), শাহানার বেগম (৪০), ফিরোজা বেগম (৪০), ফাতেমা মৃধা (৩৫) ও ময়না বেগম (৫০) জানালেন, অগ্নিকান্ডের দিন তারা চলে গিয়েছিলেন। দুই-তিন দিন পর থেকে তারা আবার ফিরে এসেছেন।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আগুনের চিত্র। ছবি: সংগৃহীত।

এদিকে দুর্ঘটনার সময় হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ থেকে ১২টি কম্পিউটার চুরি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণ করার সময় ১৬ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিষয়টি ধরা পড়ে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, আগুন লাগার পর কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিলো না। ওই সময় রোগী ও স্বজনদের সহায়তায় বাইরে থেকে শত শত মানুষ হাসপাতালে ঢুকেছিল। তাদের মধ্যে দুষ্কৃতকারীরাও থাকতে পারে, যারা ওই ঘটনা ঘটিয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক উত্তম কুমার বড়–য়া বলেন, আগুনে ১৫-২০টি এসি, ২০০টি বৈদ্যুতিক পাখা, ৫-৬টি কম্পিউটার, গজ-ব্যান্ডেজ, ওষুধ, সিরিঞ্জ, কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসের কাজে ব্যবহৃত তরল পুড়ে গেছে। এছাড়া আগুন লাগার ওই সময়টায় কম্পিউটারের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ফ্যানও চুরি হয়েছে।

আজকে পত্রিকা/কেএফ/এমএইচএস